মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের নেতৃত্বে ভাঙন ধরেছে। এর জবাবে ইরানের শীর্ষ নেতারা একজোট হয়ে বার্তা দিয়েছেন। তাঁদের সাফ কথা, ইরানে কোনো বিভেদ নেই, দেশ ঐক্যবদ্ধ। 

মার্কিন মিডিয়ার একাংশ দাবি করেছিল, ইরানের ক্ষমতার অলিন্দে নাকি বিভেদ তৈরি হয়েছে। এই দাবির জবাবে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়ে দিল, দেশ ঐক্যবদ্ধ এবং আমেরিকার এই দাবি ভিত্তিহীন। ইরানের সরকারি কর্মকর্তা এবং নেতারা একযোগে একই বার্তা দিয়েছেন, যাতে গোটা বিশ্বে তাঁদের ঐক্যের আওয়াজ পৌঁছায়। যদিও এখনও পর্যন্ত একবারও দেখতে পাওয়া যায়নি ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতাবা আলি খামেনিকে। তাঁর দুই-একটি বার্তা প্রকাশ্যে এসেছে মাত্র।

ইরানের বার্তা

ইরান সরকার X-এ একটি পোস্টে জানিয়েছে, "মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভেদ নিয়ে লাগাতার উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন। এর জবাবে আমাদের সরকারের বিভিন্ন শাখার প্রধানরা একযোগে X-এ একটি বার্তা দিয়েছেন। এই বার্তার মাধ্যমে গোটা বিশ্বকে জানানো হয়েছে যে ইরান ঐক্যবদ্ধ। 'কট্টরপন্থী' বা 'নরমপন্থী' তকমা দিয়ে বিভেদ তৈরির চেষ্টা হলেও, বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই।" ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ, সরকারি তথ্য কাউন্সিলের প্রধান ইলিয়াস হজরতি, কৃষিমন্ত্রী গোলামরেজা নুরি এবং আরও অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই বার্তাটি শেয়ার করেছেন।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এমবি গালিবাফও দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, "ইরানে কোনো র‍্যাডিকাল বা মডারেট নেই; আমরা সবাই 'ইরানি' এবং 'বিপ্লবী'। জাতি ও সরকারের লৌহ কঠিন ঐক্যের মাধ্যমে এবং সর্বোচ্চ নেতার প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত থেকে আমরা আক্রমণকারীকে তার কাজের জন্য অনুশোচনা করতে বাধ্য করব। এক আল্লাহ, এক নেতা, এক জাতি এবং এক পথ; আর সেই পথ ইরানের বিজয়ের পথ, যা জীবনের চেয়েও প্রিয়।"

ইরান সরকার দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার এমবি গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মোহসেনি-এজেই-এর একটি ছবিও শেয়ার করেছে। এঁরা সবাই ইরানের শীর্ষ নেতা, তবে সর্বোচ্চ নেতা হলেন মোজতবা খামেনি।

মোজতাবা আলি খামেনি

রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, মোজতবা হলেন প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির দ্বিতীয় পুত্র। ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন-ইজরায়েলি বিমান হামলায় আলি খামেনি নিহত হন। এরপর ৮ মার্চ মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি।

এই নেতাদের পাশাপাশি ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC), অর্থাৎ ইরানের সামরিক বাহিনীও ক্ষমতা ধরে। এর নেতৃত্বে থাকেন সর্বোচ্চ নেতা। আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, IRGC-র ক্ষমতার কাঠামো বেশ জটিল এবং অস্বচ্ছ।

আল জাজিরার মতে, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় থাকা ইরানি কর্মকর্তারা অন্য নেতা বা গোষ্ঠীর চেয়ে IRGC-র বেশি ঘনিষ্ঠ।

ট্রাম্পের বার্তা

মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, তেহরানের নেতৃত্বকে আলোচনার জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব তৈরি করতে আরও সময় দেওয়া দরকার। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লেখেন, "ইরান সরকার মারাত্মকভাবে বিভক্ত, যা অপ্রত্যাশিত নয়। পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অনুরোধে, আমরা ইরানের ওপর আমাদের আক্রমণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যতক্ষণ না তাদের নেতারা একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারে।"