Iran President: নওরোজ ও ইদ উপলক্ষে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তাঁরা মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে কোনও সংঘাতে যেতে চান না। বরং 'ইসলামিক অ্যাসেম্বলি অব দ্য মিডল ইস্ট' তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এই অঞ্চলের অস্থিরতার জন্য দায়ী ইজরায়েল।
শনিবার নওরোজ এবং ইদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর দেশ কোনও ইসলামিক দেশের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চায় না। একই সঙ্গে, মার্কিন-ইজরায়েলি হানায় আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর ঘটনায় তিনি শোকপ্রকাশও করেন।
প্রেসিডেন্ট এই অঞ্চলে বিদেশি শক্তির উপস্থিতির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁর প্রস্তাব, একটি 'ইসলামিক অ্যাসেম্বলি অব দ্য মিডল ইস্ট' তৈরি করা হোক। দেশগুলোকে সতর্ক করে তিনি বলেন, "আমাদের শত্রুদের পাতা ফাঁদে পা দেওয়া উচিত নয়।"
ইরানের প্রেসিডেন্টের বার্তায় বলা হয়েছে, তেহরান এই অঞ্চলে অশান্তি চায় না এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোনও উদ্দেশ্যও তাদের নেই। তিনি প্রতিবেশীদের একজোট হয়ে নিজেদের মধ্যেকার সমস্যা মেটানোর আহ্বান জানান। তাঁর মতে, "এই অঞ্চলের অশান্তি, অস্থিরতা, গণহত্যা, সন্ত্রাসবাদ এবং অন্তর্ঘাতের জন্য ইজরায়েলই দায়ী।"
শ্রীলঙ্কা থেকে জারি ইরানের বিবৃতি
শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে পেজেশকিয়ান বলেন, "আমরা গোটা বিশ্বকে জানাতে চাই যে আমরা এই অঞ্চলে অশান্তি চাই না। আমরা চাই না কোনও দেশকে শুধু আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্রশস্ত্র জমা করতে হোক, বা সারাক্ষণ আক্রমণের আশঙ্কায় থাকতে হোক। আমরা কোনওভাবেই অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কথা ভাবি না।"
তিনি আরও বলেন, "এই সমস্যা আমরা নিজেরাই একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে সমাধান করতে পারি। অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য এটাই বার্তা: ইরানকে অস্থিরতার কারণ হিসেবে দেখানোর বদলে এটা বোঝা উচিত যে এই অঞ্চলের অশান্তি, অস্থিরতা, গণহত্যা, সন্ত্রাসবাদ এবং অন্তর্ঘাতের জন্য ইজরায়েলই দায়ী।"
ইরানের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন যে তাঁর দেশ অন্য মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সংঘাত চায় না। তাঁর কথায়, "শত্রুরাই" মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চাইছে।
খামেনেইর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ
পেজেশকিয়ান বলেন, "শুরুতেই, আমাদের দেশের সর্বোচ্চ নেতার শাহাদাত এবং এই দেশের একনিষ্ঠ সেবকদের মৃত্যুতে আমি দেশের মহান মানুষদের প্রতি আমার সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সংঘাত চাই না। আমরা ইসলামিক দেশগুলোর সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না; তারা আমাদের ভাই। যে বিভেদ তৈরি হয়েছে, তা এক বিশ্বাসঘাতক শত্রুর কাজ, যে মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চাইছে।"
তিনি মনে করিয়ে দেন, পবিত্র রমজান মাসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, কমান্ডার, মন্ত্রী এবং সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করা হয়েছে। বক্তব্যে তিনি মিনাব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি দেশের মানুষকে ঐক্য ও জাতীয় সংহতির জন্য একজোট হওয়ার ডাক দিয়ে বলেন, "আমাদের সব বিদ্বেষ, ক্ষোভ ও মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করতে হবে। এই বছর আমাদের ঐক্য, সংহতি ও জাতীয় সংহতির নওরোজ প্রয়োজন। আমাদের ঘৃণা ত্যাগ করতে হবে, কষ্ট কাটিয়ে উঠতে হবে এবং হাতে হাত মিলিয়ে নিশ্চিত করতে হবে যে আমাদের ইরান এই ঝড় ও সংকটের মধ্যে গর্বের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে। ইদ-উল-ফিতর হল এক মাস আধ্যাত্মিক সাধনার পর আত্মশুদ্ধির উৎসব।"
প্রতিবেশীদের উদ্দেশ্যে ইরানের বার্তা
বার্তায় পেজেশকিয়ান ইরানের প্রতিবেশীদের ভাই বলে উল্লেখ করেন এবং জানান যে তাঁদের সঙ্গে সমস্ত সমস্যা মেটাতে তেহরান প্রস্তুত। এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য তিনি দেশগুলোর মধ্যে একটি ইসলামিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির পরামর্শ দেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, "ইরানের চারপাশের প্রিয় প্রতিবেশীরা, আপনারা আমাদের ভাই। আমাদের সম্পর্কের মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝি বা ক্ষতি হয়েছে, আমরা প্রার্থনা করি ঈশ্বর যেন সেই পার্থক্যগুলো দূর করতে সাহায্য করেন। আমরা আপনাদের সঙ্গে সব সমস্যা মেটাতে প্রস্তুত। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে একটি ইসলামিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা উচিত।"
তিনি আরও যোগ করেন, "এই অঞ্চলে বিদেশি শক্তির কোনও প্রয়োজন নেই। আমরা একসঙ্গে একটি 'ইসলামিক অ্যাসেম্বলি অব দ্য মিডল ইস্ট' তৈরি করতে পারি নিরাপত্তা, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক সমন্বয়ের জন্য। আমাদের একে অপরের সঙ্গে লড়াই করার কোনও অধিকার নেই। আমাদের কোনও অজুহাতে শত্রুদের পাতা ফাঁদে পা দেওয়া উচিত নয়।"


