Iran-US Talks: আমেরিকার সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ইরানের উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। কিন্তু বৈঠকের আগেই ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার ওপর তাদের কোনও ভরসা নেই।

আমেরিকার সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য ইরানি প্রতিনিধি দল এখন পাকিস্তানে। কিন্তু ইসলামাবাদে পা রেখেই ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিলেন, আমেরিকার ওপর তাদের বিন্দুমাত্র ভরসা নেই। শুক্রবার তিনি বলেন, অতীতের আলোচনাগুলো বরাবরই "ব্যর্থতা এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের" সাক্ষী থেকেছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে যে সদিচ্ছা রয়েছে, সেই ইঙ্গিতও তিনি দিয়েছেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আমেরিকার ওপর ভরসা নেই ইরানের!

ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবর অনুযায়ী, ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় গালিবাফ এই মন্তব্য করেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জবাবে তিনি একথা বলেন। গালিবাফ বলেন, "আমেরিকানদের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা আমাদের বরাবরই খারাপ। আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে, ওরা প্রতিশ্রুতি ভেঙেছে। আলোচনার মাঝখানেই ওরা আমাদের ওপর দু'বার হামলা করেছে। আমাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু কোনও বিশ্বাস নেই।"

পাকিস্তানে ইরানি প্রতিনিধি দল

এদিকে, ইসলামাবাদ আসার পথে গালিবাফ একটি আবেগঘন কাজ করেছেন। তিনি সরকারি বিমানে মিনাব ঘটনায় নিহতদের ছবি সঙ্গে নিয়ে আসেন। ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং (IRIB)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের এই প্রতিনিধি দলে নিরাপত্তা, রাজনীতি, সামরিক, অর্থনীতি এবং আইন জগতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা রয়েছেন। এতেই বোঝা যাচ্ছে, এই আলোচনাকে তেহরান কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।

এই উচ্চ-পর্যায়ের দলে রয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব আলি আকবর আহমাদিয়ান এবং ইরানের সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি। এছাড়াও ইরানের সংসদের বেশ কয়েকজন সদস্যও এই সফরে এসেছেন।

দুটি শর্তে জোর ইরানের

তবে প্রেস টিভি জানিয়েছে, তেহরান এখনও তাদের পূর্বশর্তে অনড়। গালিবাফের দেওয়া শর্তগুলো পূরণ না হলে আলোচনা ব্যর্থ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এমবি গালিবাফ এক্স-এ একটি পোস্টে জানিয়েছেন, দুটি বিষয়ে এখনও মতৈক্য হয়নি এবং আলোচনা শুরুর আগে সেই দুটি শর্ত পূরণ করতেই হবে। গালিবাফের মতে, শর্ত দুটি হলো: লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনা শুরুর আগে ইরানের আটকে থাকা সম্পত্তি মুক্তি দেওয়া।

তিনি পোস্টে লেখেন, "দুটি বিষয়ে এখনও সমঝোতা বাকি: লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনা শুরুর আগে ইরানের আটকে থাকা সম্পদ মুক্তি। আলোচনা শুরুর আগে এই দুটি বিষয় অবশ্যই পূরণ করতে হবে।"

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। এর মধ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, এই যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননে ইজরায়েলি সেনার অভিযান বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। পশ্চিম এশিয়ায় প্রায় এক মাস ধরে চলা সংঘাত শেষ করতেই এই বৈঠকের আয়োজন।