পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার শোয়েব আখতারের ভাইয়ের জানাজায় উপস্থিত কুখ্যাত লস্কর জঙ্গি সাইফুল্লা কাসুরি। সে লস্কর-ই-তইবার (LeT) উপ-প্রধান ছিলেন ছিল। নানা সময়ে ভারত-বিরোধী উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য পরিচিত। শোয়েবের বড় ভাই শাহিদ আখতার গত ২৪ জুন মারা যান।

পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার শোয়েব আখতারের ভাইয়ের জানাজায় উপস্থিত কুখ্যাত লস্কর জঙ্গি সাইফুল্লা কাসুরি। সে লস্কর-ই-তইবার (LeT) উপ-প্রধান ছিলেন ছিল। নানা সময়ে ভারত-বিরোধী উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য পরিচিত। শোয়েবের বড় ভাই শাহিদ আখতার গত ২৪ জুন মারা যান। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, ভারতে ২৬/১১ মুম্বাই হামলা এবং পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ সব জঙ্গি হামলার পেছনে থাকা লস্কর-ই-তইবার বেশ কয়েকজন নেতা ইসলামাবাদের এইচ-৮ (H-8) কবরস্থানে জানাজায় উপস্থিত ছিল। কাসুরি ছাড়াও লস্কর-ই-তইবার রাজনৈতিক শাখা 'পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগ' (PMML)-এর সভাপতি ইনাম-উর-রেহমানও এই জানাজায় উপস্থিত ছিল।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

রাষ্ট্রসংঘের ঘোষিত সন্ত্রাসবাদী হাফিজ সইদ মূলত 'জামায়াত-উদ-দাওয়া' (JuD) এবং 'মিল্লি মুসলিম লিগ' (MML)-এর মতো সংগঠনগুলোর উপর আরোপিত আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কৌশল হিসেবেই PMML গঠন করেছিল। PMML ২০২৪ সালের পাকিস্তান নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। কাসুরির মতো সন্ত্রাসবাদীদের প্রকাশ্যে কোনও জনসমাগমে অংশ নেওয়াটা আবারও ভারত-বিরোধী শক্তিগুলোর প্রতি পাকিস্তানের অব্যাহত সমর্থন ও প্রশ্রয়কে সামনে নিয়ে এসেছে। এটি প্রমাণ করে যে, সন্ত্রাসবাদে রাষ্ট্রীয় মদতদাতা দেশ পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদীরা কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়।

একই সঙ্গে, পাকিস্তানের ক্ষমতার কাঠামোয় নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। শোয়েব ২০১১ সালে ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও পাকিস্তানে ধারাভাষ্যকার হিসেবে সক্রিয় আছেন। তিনি আইপিএল-এর জন্যও ধারাভাষ্য দিয়েছেন।

ভারতের জন্য কোনও জনসমাগমে সাইফুল্লা কাসুরির উপস্থিতি নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। লস্করের এই উপ-প্রধান তার ভারত-বিরোধী উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য পরিচিত। পহেলগাঁও হামলার পরবর্তী সময়ে তার বেশ কিছু বক্তব্য সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। সমুদ্রপথে ২৬/১১-এর মতো আরও একটি হামলার হুমকি দিয়েছে সে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিওতে কাসুরিকে ভারতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হুমকি দিতে দেখা যায়। সেখানে সে দাবি করে যে স্থল, আকাশ বা সমুদ্র—কোথাও ‘শত্রু’র জন্য কোনও জায়গা অবশিষ্ট থাকবে না। সে ভারতের বিরুদ্ধে ‘জল-সন্ত্রাসবাদ’-এর (সম্ভবত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করার বিষয়টি ইঙ্গিত করে) অভিযোগও তোলে এবং হুমকি দেয় যে কাশ্মীরে চাপ সৃষ্টি করা হলে তার জবাবে অন্য কোথাও অস্থিরতা বা অশান্তি ছড়িয়ে দেওয়া হবে। আরেকটি ভিডিওতে কাসুরিকে এমন একটি বিষয় স্বীকার করতে দেখা যায় যা অনেক আগে থেকেই জানা—আর তা হল লস্করের মতো সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোপন সমর্থন। ভিডিওতে কাসুরিকে বলতে শোনা যায় যে সেনাবাহিনী প্রায়ই তাকে তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবং জানাজার নামাজ পড়ানোর জন্য আমন্ত্রণ জানায়। ভিডিওটিতে ওই লস্কর সন্ত্রাসবাদীকে বলতে শোনা যায়, “(পাকিস্তান) সেনাবাহিনী আমাকে জানাজার নামাজ পড়ানোর জন্য আমন্ত্রণ জানায়। আপনারা কি জানেন, ভারতও আমাকে ভয় পায়?”