ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ফ্রান্সে দাঙ্গার পেছনে অভিবাসীরাই দায়ী। প্যারিস নাকি খুব তাড়াতাড়ি মুসলিম শহর হয়ে যাবে। কিন্তু ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দাঙ্গার যেসব ছবি ছড়াচ্ছে, তার সবই এআইয়ের কারসাজি।
ওয়াশিংটন (২২ অক্টোবর): আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে তোপ দেগেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ফ্রান্সে দাঙ্গার জন্য অভিবাসীরাই দায়ী। প্যারিস খুব তাড়াতাড়ি একটা মুসলিম শহর হয়ে যাবে। দেশের সীমানা বন্ধ করুন।’
ট্রাম্প ফ্রান্সে গত কয়েকদিন ধরে চলা জেন-জি এবং জনতার দাঙ্গা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘ফ্রান্স জ্বলছে। বিশ্বের সম্পূর্ণ আলাদা একটা অংশ থেকে আসা, মনে একরাশ ঘৃণা পুষে রাখা অভিবাসীরা ফ্রান্সের মতো একটা সুন্দর দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। অন্তত এখন দেশের সীমানা বন্ধ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনুন। সময় পেরিয়ে যাওয়ার আগেই সতর্ক হন।’
ট্রাম্প আরও মনে করিয়ে দেন, ‘অনেক দিন আগেই আমি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে বলেছিলাম, আপনারা ফ্রান্সে একটা বড় ভুল করছেন। আপনারা গোটা বিশ্বের সবাইকে দেশে ঢুকতে দিচ্ছেন।’ এরপরই তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্যারিস খুব শিগগিরই একটা মুসলিম শহরে পরিণত হবে।’
ট্রাম্পের মন্তব্যকে 'বোকামি' বললেন ম্যাক্রোঁ!
ম্যাক্রোঁ ট্রাম্পের এই দাবি শুনে বেজায় চটেছেন। তিনি ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে একেবারে 'বোকামি' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমে ফ্রান্সের দাঙ্গার যে ছবি দেখানো হচ্ছে, বাস্তবে তেমন কিছুই হয়নি। ওগুলো সব এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি। ফ্রান্সের বদনাম করতে বিদেশি শক্তিগুলো এআই ভিডিও বানিয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
তাহলে ২৫০০-র বেশি মানুষ গ্রেফতার হলো কীভাবে?
ম্যাক্রোঁ দাবি করেছেন, ফ্রান্সে মুসলিম অভিবাসীদের কোনো দল হামলা চালায়নি। ওই ছবিগুলো সব মিথ্যে। এগুলো এআই আর বিদেশি চক্রান্ত ছাড়া কিছুই নয়।
ফ্রান্সে গত সপ্তাহান্তে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দাঙ্গা আর লুঠপাটে রূপ নেয়। ফরাসি পুলিশ সরকারিভাবে জানিয়েছে যে, তারা আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করেছে। এত লোক গ্রেফতার হওয়ার পরও কি এটাকে শুধু এআইয়ের কারসাজি বলা যায়? ম্যাক্রোঁ কি সবকিছুকে এআইয়ের ছবি আর বিদেশি হস্তক্ষেপ বলে এড়িয়ে যেতে চাইছেন? নাকি সামনের নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে তোষণ রাজনীতি করছেন? এমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ট্রাম্প সহ অনেকেই এই পরিস্থিতির জন্য অভিবাসী আর কট্টরপন্থীদের দায়ী করেছেন। কিন্তু ম্যাক্রোঁ এই সব দাবিকেই 'বোকামি' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
সত্যিই কি এআই ছবি ছিল?
ফ্রান্সে হিংসার ঘটনায় কিছু এআই ভিডিও তৈরি হওয়ার বিষয়টি সত্যি। যেমন, আইফেল টাওয়ারের ওপর প্যালেস্তাইনের পতাকা ওড়ানোর ভিডিওটি সম্পূর্ণ এআইয়ের তৈরি। কিন্তু তাই বলে ফ্রান্সে কোনো হিংসার ঘটনাই ঘটেনি, ম্যাক্রোঁর এই দাবি পুরোপুরি মিথ্যে। কারণ, সোশ্যাল মিডিয়ায় দাঙ্গা, হিংসা আর লুঠপাটের লাইভ ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই অবস্থায় বিশ্ববাসী কি ম্যাক্রোঁর কথা বিশ্বাস করবে? ম্যাক্রোঁর এই মন্তব্যের পর নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অনেকেই বলছেন, এটা ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির চরম সীমা। ঈশ্বরই ফরাসি নাগরিকদের রক্ষা করতে পারেন। কারণ, ম্যাক্রোঁর কথা বিশ্বাস করার মতো বোকা তারা নন।









