- Home
- World News
- International News
- Mojtaba Khamenei: খুলবে না হরমুজ! প্রথম ভাষণেই যুদ্ধের কৌশল বললেন ইরানের মোজতাবা খামেনেই
Mojtaba Khamenei: খুলবে না হরমুজ! প্রথম ভাষণেই যুদ্ধের কৌশল বললেন ইরানের মোজতাবা খামেনেই
Mojtaba Khamenei পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ১৩ দিনে পড়েছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা মোজতাবা খামেনেই তাঁর প্রথম ভাষণে হরমুজ প্রণালী অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ডাক দিয়েছেন। বাবার মৃত্যুর বদলা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে শত্রুর বিরুদ্ধে নতুন ফ্রন্ট খোলা হবে।

ইরান যদ্ধের ১৩ দিন
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ১৩ দিনে পড়ল। এর মধ্যেই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা মোজতাবা খামেনি তাঁর প্রথম ভাষণে বেশ কড়া বার্তা দিলেন। তিনি হরমুজ প্রণালী অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ডাক দিয়েছেন, যা এই অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
হুঁশিয়ারি মোজতাবার
আয়াতুল্লাহ মোজতাবা খামেনেই বলেন, "প্রিয় সংগ্রামী ভাইয়েরা! সাধারণ মানুষ চায় এই কার্যকরী প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া হোক। তাই হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার যে কৌশলগত সুবিধা আমাদের হাতে আছে, তা অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে।"
হামলার হুঁশিয়ারি
খামেনি জানান, ইরান এমন কিছু জায়গা চিহ্নিত করেছে যেখানে শত্রুরা বেশ দুর্বল। ভবিষ্যতে ইসলামিক রিপাবলিক সেখান থেকে হামলা চালাতে পারে।
শত্রুপক্ষের জন্য নতুন ফ্রন্ট
তিনি বলেন, "শত্রুদের দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে সমীক্ষা করা হয়েছে। ওইসব জায়গায় শত্রুদের লড়াই করার অভিজ্ঞতা কম। যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে এবং দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হয়, তাহলে নতুন ফ্রন্ট খোলা হবে।"
বদলার শপথ
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা তাঁর বাবা এবং হামলায় নিহত অন্যদের মৃত্যুর বদলা নেওয়ার শপথ নিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমি সবাইকে আশ্বস্ত করছি যে আমরা শহীদদের রক্তের বদলা নেবই। এই প্রতিশোধ শুধু বিপ্লবের মহান নেতার শাহাদাতের জন্য নয়, শত্রুর হাতে নিহত প্রত্যেক দেশবাসী আমাদের কাছে বদলার এক একটি কারণ।"
সাধারণ মানুষের কাছে আর্জি
খামেনি ইরানের সাধারণ মানুষকে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আপনাদের উপস্থিতি বজায় রাখতে হবে; যেভাবে আপনারা যুদ্ধের এই দিন ও রাতগুলোতে রাস্তায় নেমে এসেছেন, সেভাবেই। ১৪৪৭ সালের কুদস দিবসের অনুষ্ঠানেও আপনাদের থাকতে হবে, যা শত্রুদের কোণঠাসা করবে।"
প্রতিবেশীদের বার্তা
তিনি পারস্য উপসাগরের প্রতিবেশী দেশগুলোকেও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলেছেন। তাঁর অভিযোগ, আমেরিকা নিরাপত্তা দেওয়ার যে দাবি করে, তা আসলে মিথ্যে।
তিনি বলেন, "আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির ওপর যারা হামলা চালিয়েছে এবং আমাদের মানুষদের হত্যা করেছে, তাদের বিষয়ে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। আমি তাদের পরামর্শ দিচ্ছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওই ঘাঁটিগুলো বন্ধ করে দিন। কারণ এতদিনে তারা নিশ্চয়ই বুঝে গেছে যে আমেরিকা শান্তি ও নিরাপত্তার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা আগাগোড়া মিথ্যে।"
শত্রুদের হুঁশিয়ারি
তিনি আরও যোগ করেন, "শত্রুরা বছরের পর বছর ধরে কিছু প্রতিবেশী দেশে ঘাঁটি তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক হামলায় সেই সামরিক ঘাঁটিগুলোর কয়েকটি ব্যবহার করা হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই আমরা সেখানে হামলা চালিয়েছি। আমরা যেমনটা আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলাম, ঠিক সেভাবেই কাজ করেছি। ওই দেশগুলোর ওপর কোনও হামলা না করে, শুধুমাত্র ঘাঁটিগুলোকেই নিশানা করা হয়েছে।"
ইরানের হরমুজ প্রণালী কৌশল
সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ক্রমাগত হামলার মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ বাড়িয়েছে। ইরানের দাবি, যে জাহাজগুলো আমেরিকা ও ইজরায়েলের স্বার্থে কাজ করছে না, তারা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে।
তেলের রাস্তা হরমুজ
ওমান ও ইরানের উপকূলকে আলাদা করা এই সরু চ্যানেল দিয়ে প্রতিদিন ২ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল যাতায়াত করে। এই পরিমাণটা বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এবং সমুদ্রপথে মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক চতুর্থাংশ। বিশ্বের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) একটা বড় অংশও এই পথেই যায়। তাই এই পথে যাতায়াত সামান্য সময়ের জন্য বন্ধ হলেও তার প্রভাব বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি, সাপ্লাই চেন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পড়ে।

