লিবিয়ার স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা। জানা গিয়েছে, সাইফ যখন বাড়িতে ছিলেন, তখন চার অজ্ঞাতপরিতয় বন্দুকধারী হামলা চালায়। এরপর তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

লিবিয়ার স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে (Saif al-Islam Gaddafi) গুলি করে হত্যা। জানা গিয়েছে, সাইফ যখন বাড়িতে ছিলেন, তখন চার অজ্ঞাতপরিতয় বন্দুকধারী হামলা চালায়। এরপর তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ৫৩ বছর বয়সের সাইফ আল-ইসলামের মৃত্যুর খবর মঙ্গলবার তাঁর রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান নিশ্চিত করেছেন। তাঁর আইনজীবী এএফপি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন যে, পশ্চিম লিবিয়ার জিনতান শহরে চারজন এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। তবে, বন্দুকধারীদের পরিচয় বা কে বা কারা এর পিছনে রয়েছে সে সম্পর্কে কোনও তথ্য জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্যও সামনে এসেছে। সাইফ আল-ইসলামের বোন লিবিয়ার টেলিভিশনকে বলেছেন যে সাইফ দেশটির আলজেরিয়া সীমান্তের কাছে মারা গিয়েছেন। সাইফ আল-ইসলামের জীবন লিবিয়ার সাম্প্রতিক উত্তাল ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি ছিল। একসময় তাঁকে তাঁর বাবার উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল এবং তেলসমৃদ্ধ উত্তর আফ্রিকার এই দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হত। কিন্তু ২০১১ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি আড়ালে চলে যান, যে অভ্যুত্থান তাঁর বাবার চার দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল। ২০১১ সালে গ্রেফতার হওয়ার পর সাইফ প্রায় এক দশক একটি প্রত্যন্ত পাহাড়ি শহরে বন্দি ছিলেন এবং এরপর জাতীয় রাজনীতিতে পুনরায় আবির্ভূত হন।

মুক্তি পাওয়ার পরে সাইফ আল-ইসলাম প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা করেন। যদিও তিনি সরকারের কোনও আনুষ্ঠানিক পদে ছিলেন না, তবুও তাঁকে একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখা হত, যিনি বিভিন্ন জোট গঠন করতে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে আলোচনাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকে সাইফ আল-ইসলাম বেশ কিছু সংবেদনশীল কূটনৈতিক মিশনে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন এবং স্কটল্যান্ডের লকারবির ওপর ১৯৮৮ সালের প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ বোমা হামলায় নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি নিজেকে একজন সংস্কারক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছিলেন, একটি নতুন সংবিধান এবং মানবাধিকারের প্রতি অধিকতর শ্রদ্ধার পক্ষে কথা বলেছিলেন, যাতে লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে অবস্থা থেকে মুক্তি মেলে।