Moon Flyby Mission: চাঁদে ফের মানুষের ছায়া পড়তে চলেছে। দীর্ঘ ৫৪ বছর পর ফের চাঁদে অভিযান করতে চলেছে নাসা। আগামী ৬ মার্চ চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেবেন নাসার চার মহাকাশচারী। তারপর প্রায় চার দিনের যাত্রায় পৌঁছবেন চাঁদের কাছে।
Moon Flyby Mission: চাঁদে ফের মানুষের ছায়া পড়তে চলেছে। দীর্ঘ ৫৪ বছর পর ফের চাঁদে অভিযান করতে চলেছে নাসা। আগামী ৬ মার্চ চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেবেন নাসার চার মহাকাশচারী। তারপর প্রায় চার দিনের যাত্রায় পৌঁছবেন চাঁদের কাছে। তারা চাঁদের যে অংশটি পৃথিবী থেকে দেখা যায় না, সেই দূর দিক দিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় প্রদক্ষিণ করবেন। ওই অংশ পর্যবেক্ষণের জন্য কয়েক ঘণ্টা সময় বরাদ্দ থাকবে। চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষে মহাকাশযানটি পৃথিবীতে ফিরে এসে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে। সব মিলিয়ে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা চন্দ্রাভিযানে নতুন ইতিহাস গড়ার পথে। NASA-র আর্টমিস ২ ('Artemis II') মিশনের উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য তারিখ ধরা হয়েছে ৬ মার্চ।
কোন রকেটে চাঁদে পাড়ি
সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে, প্রায় ৫৪ বছর পর আবার মানুষকে নিয়ে চাঁদের কক্ষপথে যাবে মহাকাশযান। এর আগে ১৯৭২ সালে অ্যাপেলো ১৭ চাঁদের চারপাশে মানুষের শেষ সফর। এবার 'Artemis II' মিশনটি হবে মানবসহ চাঁদের ফ্লাইবাই টেস্ট ফ্লাইট। অর্থাৎ মহাকাশচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না, বরং চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। এই অভিযানে ব্যবহার করা হবে নাসার শক্তিশালী রকেট স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (Space Launch System) বা SLS। প্রায় ৯৮ মিটার উঁচু এই রকেট আগেই মানববিহীন Artemis I মিশনে সফলভাবে উড়েছে। রকেটের মাথায় থাকবে 'অরিয়ন' (Orion) মহাকাশযান, যা আকারে প্রায় একটি মিনিবাসের মতো।
কোন চার মহাকাশচারী চাঁদে যাচ্ছেন
এই মিশনে থাকছেন চারজন মহাকাশচারী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচের সঙ্গে রয়েছেন কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। মোট প্রায় ১০ দিনের এই অভিযানে প্রথমে মহাকাশচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর গবেষণা ও পরীক্ষা করবেন। তারপর প্রায় চার দিনের যাত্রায় পৌঁছবেন চাঁদের কাছে। তারা চাঁদের যে অংশটি পৃথিবী থেকে দেখা যায় না, সেই দূর দিক দিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় প্রদক্ষিণ করবেন। ওই অংশ পর্যবেক্ষণের জন্য কয়েক ঘণ্টা সময় বরাদ্দ থাকবে।
চাঁদ থেকে ফিরে পৃথিবীর কোথায় অবতরণ
চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষে মহাকাশযানটি পৃথিবীতে ফিরে এসে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে। উৎক্ষেপণের আগে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে-এ সফলভাবে 'ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল' শেষ হয়েছে। এতে রকেটে সম্পূর্ণ জ্বালানি ভরে কাউন্টডাউন প্রক্রিয়াও পরীক্ষা করা হয়। যদিও প্রথম দিকে হাইড্রোজেন লিকের সমস্যায় জ্বালানি ভরার কাজ বন্ধ করতে হয়েছিল, পরে সিল ও ফিল্টার বদলে সেই সমস্যা মেটানো হয়েছে। নাসা জানিয়েছে, ‘Artemis II’ সফল হলে পরবর্তী ধাপ 'Artemis III'-র পথ আরও মসৃণ হবে। সেই মিশনে ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষের অবতরণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এদিকে চাঁদ দৌড়ে চিন এবং একাধিক বেসরকারি সংস্থার সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে আন্তর্জাতিক মহাকাশ প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে উঠছে।


