নোবেল ফাউন্ডেশন স্পষ্ট করেছে যে পুরস্কার হস্তান্তরযোগ্য নয়। ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদো তার নোবেল শান্তি পুরস্কার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার খবরের প্রতিক্রিয়ায় এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। ফাউন্ডেশন আলফ্রেড নোবেলের উইলকে সম্মান করে। 

নোবেল ফাউন্ডেশন আবারও জানিয়েছে করেছে যে নোবেল পুরস্কার হস্তান্তর বা বিতরণ করা যায় না। এর কিছুদিন আগেই ইনস্টিটিউট একটি বিবৃতি জারি করে বলেছিল যে একজন বিজয়ী অন্যদের সঙ্গে পুরস্কার ভাগ করতে বা ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর তা হস্তান্তর করতে পারেন না। রবিবার, এক্স-এ একটি পোস্টে বলা হয়েছে যে নোবেল ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো নোবেল পুরস্কার এবং এর প্রশাসনের মর্যাদা রক্ষা করা।

পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “ফাউন্ডেশন আলফ্রেড নোবেলের উইল এবং এর শর্তাবলীকে সমর্থন করে। এতে বলা হয়েছে যে পুরস্কার তাদেরই দেওয়া হবে যারা “মানবতার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান রেখেছেন,” এবং এটি নির্দিষ্ট করে যে প্রতিটি পুরস্কার প্রদানের অধিকার কার রয়েছে। তাই একটি পুরস্কার, প্রতীকীভাবেও, হস্তান্তর বা বিতরণ করা যায় না।”

নোবেল ফাউন্ডেশনের বিবৃতি

নোবেল ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো নোবেল পুরস্কার এবং এর প্রশাসনের মর্যাদা রক্ষা করা। ফাউন্ডেশন আলফ্রেড নোবেলের উইল এবং এর শর্তাবলীকে সমর্থন করে। এতে বলা হয়েছে যে পুরস্কার তাদেরই দেওয়া হবে যারা পুরস্কারের দাবিদার।

ট্রাম্পকে নোবেল দান মাচাদোর

এই ঘটনাটি ঘটেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী এবং নোবেল বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সঙ্গে দেখা করার পর বলা হয়েছিল যে মাচাদো হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পকে তার নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি উপহার দিয়েছেন এবং এই পদক্ষেপকে ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টার প্রতি ট্রাম্পের সমর্থনের স্বীকৃতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময়, মাচাদো, যিনি ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে কাজ করার জন্য ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছিলেন, বলেন যে তিনি তার “আমাদের স্বাধীনতার প্রতি অনন্য প্রতিশ্রুতির” প্রশংসার প্রতীক হিসেবে পদকটি দিয়েছেন। “আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিকে পদকটি...নোবেল শান্তি পুরস্কারটি দিয়েছি, এবং আমি তাকে এটি বলেছি: ২০০ বছর আগে, জেনারেল লাফায়েত সাইমন বলিভারকে জর্জ ওয়াশিংটনের মুখ খোদাই করা একটি পদক দিয়েছিলেন। বলিভার, তারপর থেকে, সারাজীবন সেই পদকটি নিজের কাছে রেখেছিলেন। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার জনগণের মধ্যে সম্পর্ক প্রদর্শনের জন্য ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসাবে দেওয়া হয়েছিল,” মাচাদো বলেন।

“ইতিহাসের দুইশ বছর পর, বলিভারের জনগণ ওয়াশিংটনের উত্তরাধিকারীকে একটি পদক ফিরিয়ে দিচ্ছে, এক্ষেত্রে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক, আমাদের স্বাধীনতার প্রতি তার অনন্য প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতি হিসাবে,” তিনি যোগ করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও মাচাদোর এই পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে এটিকে “পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি চমৎকার নিদর্শন” বলে অভিহিত করেছেন এবং পদকের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

“আজ ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সঙ্গে দেখা করা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের ছিল। তিনি একজন অসাধারণ নারী যিনি অনেক কিছুর মধ্যে দিয়ে গেছেন। আমি যে কাজ করেছি তার জন্য মারিয়া আমাকে তার নোবেল শান্তি পুরস্কার দিয়েছেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধার কী চমৎকার নিদর্শন। ধন্যবাদ, মারিয়া!” পোস্টে লেখা ছিল।

হোয়াইট হাউস, এক্স-এ একটি পোস্টে, নিশ্চিত করেছে যে ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক গ্রহণ করেছেন। “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ওভাল অফিসে ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সাথে দেখা করেন, যেখানে তিনি প্রেসিডেন্টকে সম্মান ও স্বীকৃতির নিদর্শনস্বরূপ তার নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করেন,” হোয়াইট হাউস তার পোস্টে বলেছে।

এর আগে ১৬ জানুয়ারী, নোবেল পুরস্কারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বলা হয়েছিল, “একজন বিজয়ী অন্যদের সাথে পুরস্কার ভাগ করতে বা ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর তা হস্তান্তর করতে পারেন না। একটি নোবেল শান্তি পুরস্কার কখনও প্রত্যাহারও করা যায় না। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং সর্বকালের জন্য প্রযোজ্য। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের বা তারা যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সহ্গে জড়িত, সে বিষয়ে দৈনন্দিন মন্তব্য করাকে তাদের ভূমিকা বলে মনে করে না। কমিটির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পর্যন্ত বিজয়ীর অবদানের ভিত্তিতে পুরস্কার দেওয়া হয়।”