শাসকের স্বৈরাচারিতা কেড়ে নিল স্কুল পড়ুয়াদের প্রাণ, উত্তর কোরিয়ায় বিদেশী নাটক দেখার ‘অপরাধে’ ছাত্রদের প্রকাশ্যে গুলি

| Dec 14 2022, 05:35 PM IST

North Korea government

সংক্ষিপ্ত

সর্বনেশে আইন কার্যকর করার নজির গড়ে সারা বিশ্বের বুকে আরও একবার নিন্দার ঝড় তৈরি করলেন কিম জং উন। 

যে সমস্ত দেশে ‘আইনকানুন সর্বনেশে’, সেই সমস্ত দেশের প্রশাসকের নাম ‘তালিবান’ না-ও হতে পারে, হতে পারে তেমনই একটা দেশ উত্তর কোরিয়া, যেখানকার ‘সর্বনেশে’ আইনকানুনের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি কিম জং উন। সম্প্রতি, এই সর্বনেশে আইন কার্যকর করার নজির গড়ে সারা বিশ্বের বুকে আরও একবার নিন্দার ঝড় তৈরি করলেন কিম জং উন।

স্বৈরাচারি শাসন যে দেশের যুব সম্প্রদায়কে ধ্বংস পর্যন্ত করে দিতে পারে, তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক প্রশাসনিক নৃশংসতার ঘটনা। ডিজিটাল মিডিয়ায় বিদেশি নাটক দেখা ও শেয়ার করার জন্য ২ পড়ুয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিল কিম জং উনের সরকার। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সারা বিশ্ব জুড়ে নিন্দার ঝড়।

Subscribe to get breaking news alerts

বিদেশি নাটক দেখার দায়ে দুই স্কুল পড়ুয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিল কিম জংয়ের প্রশাসন। এই ঘটনায় প্রকাশ্যে আসতে বিশ্বজুড়ে উঠেছে নিন্দার ঝড়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, ছাত্রদের ‘অপরাধ’-এর ঘটনাটি ঘটে গত অক্টোবর মাসে। উত্তর কোরিয়ায় চীন সীমান্তবর্তী এলাকা র‍্যায়াংগং প্রদেশে একটি স্কুলের পড়ুয়ারা দক্ষিণ কোরিয়া এবং আমেরিকান নাটকের অনুষ্ঠান দেখছিল। বিদেশি নাটক দেখার জন্য তারা অন্যান্যদেরও উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে দেয়। দেশের আইন অনুযায়ী, এটাই ছিল তাদের অপরাধ। আইন লঙ্ঘন করার দায়ে দুই পড়ুয়াকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়।

দুই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ তৈরি চেষ্টার অভিযোগ আনে কিম প্রশাসন। সাজা ঘোষণার পরে নিকটবর্তী বিমানবন্দর এলাকায় প্রকাশ্যে দুই পড়ুয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রাণদণ্ড দেওয়ার সময় বহু মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

২০২০ সালে বিদেশি নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আইন প্রণয়ন করে উত্তর কোরিয়া সরকার। আইন অনুযায়ী যে কোনও বিদেশি নাটক দেখা বা প্রচার করা দেশের মধ্যে নিষিদ্ধ। আইন লঙ্ঘনকারীদের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল সেই সময়েই।

এর আগেও জনপ্রিয় ‘কে-পপ’ গান শোনার অপরাধে হেসান প্রদেশের সাত জন বাসিন্দাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল উত্তর কোরিয়ায়। ‘কে-পপ’ গান শোনা এবং তা শেয়ার করার অভিযোগে এই সাত জনের বিরুদ্ধে ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে প্রাণদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।


আরও পড়ুন-
লটারি জিততেন অন্য লোক, সেই টিকিট কিনে কীভাবে কালো টাকা সাদা করতেন বঙ্গের ‘প্রভাবশালী’রা?
স্কুলের মধ্যে বন্ধুদের মারপিটের ভিডিও ‘লাইভ স্ট্রিম’ করে সম্প্রচার, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য মোবাইল নিষিদ্ধ করে দিল আমেরিকার স্কুল
‘ভগবান রাম’-এর নীতি মানেই না বিজেপি এবং আরএসএস, কেন্দ্র সরকারের হিন্দুত্ববাদী স্লোগান নিয়ে কটাক্ষ রাহুল গান্ধির