শেষ পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল পাকিস্তান। নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হামলায় পাকিস্তান বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন কার্যকর হওয়া ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় সৌদি আরবের প্রতি সামরিক সহায়তা জোরদার করার অংশ হিসেবেই ইসলামাবাদ এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

শেষ পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল পাকিস্তান। নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হামলায় পাকিস্তান বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন কার্যকর হওয়া ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় সৌদি আরবের প্রতি সামরিক সহায়তা জোরদার করার অংশ হিসেবেই ইসলামাবাদ এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকিস্তানের এক সিনিয়র সামরিক কর্তা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন যে, হুথিদের লক্ষ্য করে চালানো হামলায় পাকিস্তান বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হচ্ছে। সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সামরিক ভূমিকার এই সম্প্রসারণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুথিরা সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে।

সিএনএন-এর বুধবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবে আগে থেকেই পাকিস্তানের সামরিক সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী সিএনএন-এর কাছে সৌদি আরবে পাকিস্তানি বাহিনীর উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে মোতায়েন সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে তিনি তাদের সংখ্যা বা সক্ষমতা সম্পর্কে কোনও তথ্য প্রকাশ করেননি।

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক তাদের যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—যা ‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিত—কার্যকর করার পদক্ষেপ নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হলো। দেশ তিনটি গত আগস্ট মাসে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছিল। এই চুক্তির আওতায়, কোনও একটি দেশের উপর সশস্ত্র হামলাকে তিনটি দেশের উপরেই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে এটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আদলে একটি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করেছে। তিন দেশের কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির জরুরি বৈঠকের পর এই সপ্তাহেই চুক্তিটি কার্যকর করা হয়। সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকির মুখে দ্রুত সেখানে সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা মোতায়েনের বিষয়ে বৈঠকে ঐকমত্য হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, অনুমান করা হচ্ছে যে বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ৮ হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন রয়েছে। এই বাহিনীর মধ্যে পাকিস্তান বিমান বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স ইউনিটের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল কেন্দ্র সুরক্ষায় তাদের কাজে লাগানো হতে পারে। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কারণে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি স্থলযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কম। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানের দ্বিতীয় এক সামরিক কর্তা জানান, ইয়েমেনে স্থলবাহিনী পাঠানোর পরিবর্তে আকাশপথে সহায়তার মাধ্যমে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকি মোকাবিলা করার ক্ষেত্রেই মূলত ইসলামাবাদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। হুথিদের বিরুদ্ধে হামলায় নিজেদের যুদ্ধবিমান ব্যবহারের যে খবর পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।

চলতি বছরের মে মাসে প্রকাশিত Reuters-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, পাকিস্তান সৌদি আরবে প্রায় ৮,০০০ সেনা, একটি ফাইটার জেট স্কোয়াড্রন এবং একটি HQ-9 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম পাঠিয়েছিল। সেই সময় প্রায় ১৬টি যুদ্ধবিমান, যার বেশিরভাগই JF-17 মোতায়েনের কথাও জানা যায়। তুরস্কও জানিয়েছে, হুথি হামলা মোকাবিলায় সৌদিকে কী ধরনের প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়া যায়, তা তারা খতিয়ে দেখছে। বিশেষ করে এয়ার ডিফেন্স, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, হুথি হামলার আবহে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় পাকিস্তান ও তুরস্কের ভূমিকা বাড়ছে। তবে পাকিস্তানের নতুন করে কত সেনা সৌদিতে যাবে বা সরাসরি কোনও সামরিক অভিযানে অংশ নেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।