কাশ্মীরের মানুষের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরব। পাকিস্তানের কাশ্মীর নীতি ও নিয়ন্ত্রণের সমালোচনাও করেছেন একাধিকবার। আর সেই কারণেই কি এবার পাকিস্তানের প্রশাসনের রোষের মুখে পড়তে হল ব্রিটেনের এক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে? পাকিস্তান সফরে গিয়ে আটক হলেন ব্রিটিশ লেবার পার্টির কাউন্সিলর দালাত আলি (Daalat Ali)।
কাশ্মীরের মানুষের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরব। পাকিস্তানের কাশ্মীর নীতি ও নিয়ন্ত্রণের সমালোচনাও করেছেন একাধিকবার। আর সেই কারণেই কি এবার পাকিস্তানের প্রশাসনের রোষের মুখে পড়তে হল ব্রিটেনের এক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে? পাকিস্তান সফরে গিয়ে আটক হলেন ব্রিটিশ লেবার পার্টির কাউন্সিলর দালাত আলি (Daalat Ali)। শুধু তাই নয়, মুক্তি পাওয়ার পর ব্রিটেনে ফেরার বিমানেও উঠতে দেওয়া হয়নি তাঁকে। লাহোর বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয় তাঁর যাত্রা। অক্টোবর মাসে পাকিস্তান সফরের সময় ব্রিটিশ লেবার পার্টির কাউন্সিলর দালালত আলিকে আটক করা হয়। তিনি কাশ্মীরিদের পক্ষে প্রচারে যুক্ত ছিলেন। মুক্তি পাওয়ার পর ২৮ অক্টোবর ব্রিটেনে ফেরার জন্য লাহোর বিমানবন্দরে বিমানে ওঠার সময় তাঁকে বাধা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। রচডেল বরো কাউন্সিলের ডেপুটি লিডার আলিকে জানানো হয় যে তাঁর নাম কন্ট্রোল লিস্টে রয়েছে।
রচডেলের মেয়র ফয়সাল রানার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পাঞ্জাবের সাহিওয়ালে গিয়েছিলেন দালাত আলি। ১৯৯৮ সাল থেকে সাহিওয়াল ও রচডেল শহর দুটি একে অপরের ‘টুইন সিটি’ বা সহযোগী শহর হিসেবে যুক্ত রয়েছে। ব্রিটেনের রচডেল কাউন্সিলের ধারণা কাশ্মীর নিয়ে সক্রিয়তার কারণেই আটক করা হয়েছিল।
২৮ অক্টোবর ‘ম্যানচেস্টার ইভিনিং নিউজ’-এর একটি প্রতিবেদনে আলিকে আটকের বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। এর পরের দিন জম্মু থেকে প্রকাশিত ‘কাশ্মীর টাইমস’ জানায় যে, আলিকে পাকিস্তান ছাড়তেও বাধা দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি ইমরান হোসেন তাঁর সঙ্গে হওয়া এই আচরণের বিষয়ে মন্ত্রিপর্যায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। ভারতীয় মানবাধিকার কর্মী আজহার আহমেদ এই আটকের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, এটি পাকিস্তানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শনের বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তিনি ব্রিটেন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে পূর্ণ ব্যাখ্যা চায়।
নিজের লেখায় দালাত আলি পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরকে (পিওকে) পাকিস্তান কর্তৃক একটি ‘দখলদার শক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আলিকে কেন্দ্র করে এই ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে কয়েক মাস ধরে তীব্র বিক্ষোভ চলছে। সেখানে বহু বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং অনেক সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে। এছাড়া, পাকিস্তান বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের বিক্ষোভ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে কাশ্মীরি সাংবাদিক দানিশ ইরশাদকেও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের তালিকায় (টেরোরিজম ওয়াচলিস্ট) অন্তর্ভুক্ত করেছে পাকিস্তান।
ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে ব্রিটিশ জনপ্রতিনিধির আটক হওয়ার ঘটনা
‘কাশ্মীর টাইমস’-এর তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর আলিকে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি কর্তাদের মধ্যে আলোচনার পরে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং তিনি পুনরায় প্রতিনিধি দলে যোগ দেন। রচডেল বরো কাউন্সিল তার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, তাঁকে ‘অল্প সময়ের জন্য’ আটকে রাখা হয়েছিল। কাউন্সিল আরও জানায়, “আমাদের জানা মতে, এই ঘটনাটি কাশ্মীর অঞ্চল নিয়ে কাউন্সিলর আলির দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত প্রচারের সঙ্গে সম্পর্কিত।” ব্রিটিশ ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস নিশ্চিত করেছে যে, একজনকে আটক করে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে"। তবে আলিকে ঠিক কবে আটক করা হয়েছিল, তা জানানো হয়নি।
কে এই দালাত আলি?
দালাত আলি ব্রিটেনের রচডেল বরো কাউন্সিলের ডেপুটি লিডার। তিনি লেবার পার্টির সদস্য এবং কিংসওয়ে ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর। কাউন্সিলের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত দায়িত্বও তাঁর হাতে রয়েছে। তাঁর জন্ম পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের কোটলিতে। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটেনে বসবাস করছেন তিনি। কাশ্মীরি সম্প্রদায়ের সংগঠন গড়ে তোলার পাশাপাশি পাহাড়ি ভাষার লেখক হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে তাঁর। কাশ্মীর নিয়ে তাঁর লেখালেখি ও রাজনৈতিক অবস্থান বরাবরই আলোচনায় থেকেছে। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরকে পাকিস্তানের দখলদারির অধীনে থাকা অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।




