ইজরায়েলগামী বিমানের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের নিয়ে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবায়। পাকিস্তান-সহ একাধিক দেশের নাগরিক পাইলট ও কেবিন ক্রুদের ইজরায়েলগামী বা ইজরায়েলের আকাশসীমা ব্যবহারকারী বিমানে দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার কথা জানিয়েছে এয়ার ফ্রান্স।
ইজরায়েলগামী বিমানের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের নিয়ে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবায়। পাকিস্তান-সহ একাধিক দেশের নাগরিক পাইলট ও কেবিন ক্রুদের ইজরায়েলগামী বা ইজরায়েলের আকাশসীমা ব্যবহারকারী বিমানে দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার কথা জানিয়েছে এয়ার ফ্রান্স। একই ধরনের বিধিনিষেধ নিয়ে কর্মীদের সতর্ক করেছে মার্কিন বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সও। ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে হামলা ও বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ ওঠার পরেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ঠিক কী ঘটেছিল?
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, বিমানের ওমানি সহ-পাইলট হাম্মাম আল-হাম্মামি ককপিটের ভিতরে ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং বিমানটি ফেলার চেষ্টা করেন।
বিমানে থাকা যাত্রী ও কর্মীরা অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। পরে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। ঘটনায় পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাই এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পাকিস্তান-সহ ৩১ দেশের নাগরিকদের নিয়ে কড়াকড়ি
ইজরায়েলের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব দেশের সঙ্গে ইজরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেই দেশগুলির নাগরিকত্ব থাকা পাইলট ও কেবিন ক্রুদের ইজরায়েলগামী বিমানে কাজ করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান, ওমান, ইরান, সৌদি আরব, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া-সহ মোট ৩১টি দেশের নাম। কোনও কর্মীর দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলেও সংশ্লিষ্ট নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম Mediapart এবং বিমান চলাচল-বিষয়ক সংস্থা ch-aviation-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজরায়েলের এই নির্দেশিকা মেনে চলার কথা জানিয়েছে এয়ার ফ্রান্স।
একই পথে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সও?
মার্কিন বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সও ইজরায়েলগামী ও ইজরায়েল থেকে আসা বিমানের পাইলট এবং কেবিন ক্রুদের জন্য জাতীয়তাভিত্তিক বিধিনিষেধের কথা কর্মীদের জানিয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। সংস্থাটি কর্মীদের দায়িত্ব বণ্টনের প্রক্রিয়ায় এই নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করছে। চেক প্রজাতন্ত্রের বিমান সংস্থা স্মার্টউইংসও জানিয়েছে, তারা ইজরায়েলের নির্দেশিকা মেনে চলবে। তবে সংস্থাটি বলেছে, এখনও পর্যন্ত তাদের কর্মী ব্যবস্থাপনা বা বিমান পরিচালনায় এর প্রভাব পড়েনি।
জাতীয়তাভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক
নিরাপত্তার স্বার্থে কোনও দেশের আকাশসীমায় প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের অধিকার সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের রয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র জাতীয়তার ভিত্তিতে পাইলট ও কেবিন ক্রুদের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগও উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইজরায়েলের নির্দেশিকা মেনে চললে এয়ার ফ্রান্সের মতো সংস্থাগুলি নিজেদের দেশের কর্মসংস্থান ও বৈষম্যবিরোধী আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনার পর পাইলটদের যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলির সামনে নতুন আইনি ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে।


