সংবাদ সংস্থা 'তাস' (TASS)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন বলেছেন, বসফরাস প্রণালী ও হরমুজ প্রণালী কেন্দ্রিক ট্রানজিট বা যাতায়াত সংক্রান্ত ঝুঁকি কমাতে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা রাশিয়ার জন্য জরুরি।

সংবাদ সংস্থা 'তাস' (TASS)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন বলেছেন, বসফরাস প্রণালী ও হরমুজ প্রণালী কেন্দ্রিক ট্রানজিট বা যাতায়াত সংক্রান্ত ঝুঁকি কমাতে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা রাশিয়ার জন্য জরুরি। সম্ভাব্য করিডোরগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে গিয়ে খুসনুলিন উল্লেখ করেন যে, বিকল্প ট্রানজিট পথগুলো তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে যেতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী যে কোনও পথকেই কার্যকর বা গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। প্রস্তাবিত এই নেটওয়ার্ক বাস্তবায়িত হলে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে সরাসরি স্থলপথে রেল-পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে।

তাস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী খুসনুলিন বলেন, "ভারত মহাসাগর পর্যন্ত রেল সংযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা উচিত। বসফরাস ও হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত ঝুঁকির কারণে বিকল্প পথের প্রয়োজন হতে পারে—যেমন তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে যাওয়া পথ। ভারতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী যে কোনও বিকল্পই গ্রহণযোগ্য।"

এই রেল লাইনের প্রয়োজন কেন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক চলাচলে বিঘ্ন বাড়ার প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য পথের এই বিকল্প প্রস্তাবটি সামনে এসেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরান-সহ ইরানের প্রধান শহরগুলোকে লক্ষ্য করে যৌথ সামরিক হামলা চালানো হয়। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) ইজরায়েল, বাহরাইন, জর্ডন, ইরাক, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। এছাডা়ও হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ ঘোষণা করে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সংকীর্ণ জলপথটি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ এবং বিশ্বব্যাপী তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ সম্পন্ন হয়।

দীর্ঘমেয়াদী ও ধারাবাহিক আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন

আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস বা পরিবহন করিডোরের বাইরে খুসনুলিন দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কাঠামোর বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, রাশিয়ার নির্মাণ খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ও ধারাবাহিক আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের নির্মাণ শিল্পের বর্তমানে বার্ষিক অতিরিক্ত এক ট্রিলিয়ন রুবল বিনিয়োগ বা অর্থ ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, "নির্মাণ শিল্প ইতিমধ্যেই বছরে অতিরিক্ত এক ট্রিলিয়ন রুবল ব্যবহারের সক্ষমতা রাখে। তবে যদি আগামী পাঁচ বছর ধরে এই পরিমাণ অর্থ নিশ্চিত করা যায়, তবে সক্ষমতা আরও বাড়ানো এবং আরও বেশি নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।"