Saudi Arabia News: মক্কার (Mecca) এক মসজিদে 'অনৈতিক' কাজের অভিযোগে দুই বাংলাদেশী নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে সৌদি আরব সরকার। বাংলাদেশ (Bangladesh) সরকারকে কিছু না জানিয়েই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে এবার ভারত-বিরোধী প্রচার শুরু করেছে পাকিস্তানিরা (Pakistani)।

DID YOU
KNOW
?
ভারত-বিরোধী প্রচার
সৌদি আরবে ২ বাংলাদেশী নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা নিয়ে ভারত-বিরোধী প্রচার শুরু করেছে পাকিস্তানিরা।

Bangladeshi Couple Executed: সৌদি আরবে (Saudi Arabia) ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে দুই বাংলাদেশী নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বশির (Nazrul Islam Abdul Bashir) ও সুইটি আখতারের (Sweety Akhtar) মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা নিয়েও ভারত-বিরোধী প্রচার শুরু করে দিল পাকিস্তানিরা (Pakistani)। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশীরাও। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে ভিত্তিহীন প্রচার। সব পোস্টের বয়ানই এক। দাবি করা হচ্ছে, এক ভারতীয় এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। এক পাকিস্তানির 'এক্স' হ্যান্ডলে প্রথমে ভারত-বিরোধী পোস্ট করা হয়। তারপর বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফ্রিকার একাধিক দেশের নাগরিকদের ‘এক্স’ হ্যান্ডলে হুবহু এক প্রচার করা হচ্ছে। এই পোস্টে দুই বাংলাদেশীর মৃত্যুদণ্ডের জন্য এক ভারতীয় নাগরিককে দায়ী করা হচ্ছে।

একযোগে ভারত-বিরোধী ভিত্তিহীন প্রচার

মঙ্গলবার থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই পোস্টগুলিতে দাবি করা হচ্ছে, মক্কার (Mecca) মসজিদুল হারামে (Masjid al-Haram) সাফাইকর্মী হিসেবে কাজ করার সময় নজরুল ও সুইটির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মসজিদের ৮৫ ও ৮৭ নম্বর প্রবেশদ্বারের মাঝামাঝি একটি নির্জন ঘরে তাঁরা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পোস্টগুলির দাবি, এই দুই বাংলাদেশী যখন একসঙ্গে ছিলেন, তখন তাঁদের এক ভারতীয় বন্ধু বাইরে পাহারা দিচ্ছিলেন। ওই ব্যক্তি নাকি তাঁদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। পরে সুইটির সঙ্গে নিজের সম্পর্ক গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়ে তিনি সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেন। এরপর সৌদি আরব সরকার তিনজনকেই গ্রেফতার করে বলে দাবি করা হয়েছে। পোস্টগুলিতে আরও বলা হয়েছে, মসজিদুল হারামের পবিত্রতা লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই বাংলাদেশীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং ওই ভারতীয় নাগরিককে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

Scroll to load tweet…

সংবাদমাধ্যমেও ভিত্তিহীন প্রচার

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই পোস্টগুলিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ওমরাহ পালনের সময় দু’জনের শুধু চুম্বন করার যে কথা ছড়িয়েছে, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া’। সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট নাকি তাঁদের অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডকে ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ হিসেবে উপযুক্ত বলে মনে করেছিল। তবে এই সমস্ত দাবির কোনওটিই এখনও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত হয়নি। ভারতীয় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর ২০ বছরের কারাদণ্ড কিংবা কথিত ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, কোনও কিছুরই সমর্থনে কোনও সরকারি নথি নেই। ঘটনাটির স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিবরণও পাওয়া যায়নি। প্রথমে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিভিন্ন ফেসবুক ও ‘এক্স ’হ্যান্ডলে এই দাবি ছড়িয়ে পড়ে। যাঁরা পোস্টটি শেয়ার করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফারহান কিয়ানি নামে এক ব্যক্তি। তাঁকে রিয়াধে (Riyadh) পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের যুব শাখার সভাপতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরে নাইজেরিয়া ও আফগানিস্তান-সহ অন্যান্য দেশের অ্যাকাউন্টেও একই বিবরণ হুবহু ছড়িয়ে পড়ে। এমনকী, একটি সংবাদমাধ্যমেও এই কাহিনি প্রকাশিত হয়েছে। তুলনামূলকভাবে অপরিচিত সংবাদপোর্টাল ‘হজ রিপোর্টার্স’ ‘দ্য ইনসাইড স্টোরি: হোয়াই টু বাংলাদেশি ওয়্যার গিভেন ডেথ সেন্টেন্সেস’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানেও ওই ভারতীয় ব্যক্তির ভূমিকা-সহ বিভিন্ন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। কিন্তু দাবিগুলির সত্যতা যাচাই করার মতো কোনও স্বাধীন প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।