Yoon Suk Yeol Gulity: দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে নজিরবিহীন রায়ে দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল (Yoon Suk Yeol)।

Yoon Suk Yeol Gulity: দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে নজিরবিহীন রায়ে দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল (Yoon Suk Yeol)। বুধবার সিওল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই রায় ঘোষণা করে। দেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্টকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। কিন্তু কী কারণে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড? ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে সামরিক আইন বা 'মার্টিসিয়াল ল' জারির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই এই মামলা দায়ের হয়েছিল।

কেন ফাঁসি হতে পারে

দক্ষিণ কোরিয়ার ফৌজদারি আইনের ৮৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই অপরাধে শাস্তি হতে পারত মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। প্রসিকিউটররা তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হল। গত বছর জানুয়ারিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল অন্যায়ভাবে দেশে দেশে সাময়িক ভাবে সামরিক আইন (মার্শাল'ল) জারি করার অপরাধে। বিদ্রোহ মামলায় প্রসিকিউশন জানায়, ইউন সুক ইওলের পদক্ষেপ জাতীয় পরিষদ, নির্বাচন কমিশন এবং উদার গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক কাঠামোকে সরাসরি আঘাত করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার আইনে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এই দুই শাস্তিই প্রযোজ্য। যদিও ১৯৯৭ সাল থেকে দেশে কার্যত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি, ফলে মৃত্যুদণ্ড হলেও তা বাস্তবে যাবজ্জীবনে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঠিক কী কারণে যাবজ্জীবন সাজা

আদালতে পেশ হওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩ ডিসেম্বর ২০২৪ রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ইওল আচমকা জরুরি সামরিক আইন জারি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী সাংসদরা 'রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ'-এ যুক্ত এবং বিদ্রোহের ষড়যন্ত্র করছেন। রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ইওলের এই সিদ্ধান্তে গোটা দক্ষিণ কোরিয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও সরকার বিরোধী আন্দোলন জারি হয়েছিল। প্রবল চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত সামরিক আইন ছয় ঘণ্টা পর তুলে নিতে বাধ্য হন প্রেসিডেন্ট ইওল। এরপর ৪ ডিসেম্বর ভোরে জাতীয় পরিষদে উপস্থিত ১৯০ জন সাংসদ সর্বসম্মতভাবে সামরিক আইন খারিজ করেন। এর আগে সেনাবাহিনী জাতীয় পরিষদ চত্বর ঘিরে ফেলে এবং সাংসদদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

কীভাবে বরখাস্ত হন

গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, জাতীয় পরিষদে ২০৪ ভোটে ইউন সুক ইওলকে ইমপিচমেন্ট করা হয় এবং তাঁকে ক্ষমতা থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে এপ্রিল ২০২৫-এ সাংবিধানিক আদালত অভিশংসন বহাল রেখে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারণ করে। এরপর থেকে ইউন একাধিক মামলার মুখোমুখি হন। গত বছর জুলাই থেকে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইওল জেলে রয়েছেন। চলতি বছর জানুয়ারি-এ পৃথক এক মামলায় গ্রেফতার প্রতিরোধ, সামরিক আইন ঘোষণাপত্র জালিয়াতি এবং মন্ত্রিসভার প্রয়োজনীয় অনুমোদন এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগে তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।