NASA Artemis II Mission: সব একেবারে পরিকল্পনা মতই এগোচ্ছিল। মার্চের গোড়াতেই ৫৪ বছর পর মানুষকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠাতে তৈরি ছিল নাসা। কিন্তু আচমকা মহাকাশচারীদের চাঁদের কক্ষপথে পাঠানোর মিশন থেকে কিছুটা পিছিয়ে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (NASA)।
NASA Artemis II Mission: সব একেবারে পরিকল্পনা মতই এগোচ্ছিল। মার্চের গোড়াতেই ৫৪ বছর পর মানুষকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠাতে তৈরি ছিল নাসা। কিন্তু আচমকা মহাকাশচারীদের চাঁদের কক্ষপথে পাঠানোর মিশন থেকে কিছুটা পিছিয়ে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (NASA)। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে বা মহড়ার শেষ ধাপে রকেটের হিলিয়াম সরবরাহ ব্যবস্থায় অপ্রত্যাশিত প্রযুক্তিগত ত্রুটির জেরে পিছিয়ে গেল NASA–র বহুল প্রত্যাশিত Artemis II অভিযান। ঠিক ছিল মার্চের ৬ থেকে ১১ তারিখের মধ্যে মহাকাশচারীদের নিয়ে চাঁদ পাড়ি দেবে আর্টেমিস। কিন্তু হিলিয়াম বিপত্তির কারণে মহাকাশচারীদের চন্দ্রাভিযান মার্চ থেকে এপ্রিলে পিছিয়ে গেল। রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কক এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন-এই চারজন মহাকাশচারী চাঁদের কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করার কথা।
কবে চাঁদের উদ্দেশ্য়ে উড়ে যেতে পারেন মহাকাশচারীরা
অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর মানুষকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠানোর ঐতিহাসিক পরিকল্পনায় এটিকে সাময়িক ধাক্কা হিসেবে ধরা হচ্ছে। নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহাকাশচারীদের নিয়ে চাঁদের কক্ষপথে যাওয়ার যে সূচি নির্ধারিত ছিল, তা আপাতত বাতিল করা হয়েছে। এখন নতুন লক্ষ্য এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ ১ থেকে ৬ এপ্রিলের সম্ভাব্য 'লঞ্চ উইন্ডো'। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে তদন্ত ও মেরামতির অগ্রগতির উপর।
কোথায় সমস্যা
নাসা সূত্রে জানা গিয়েছে, রকেটের উপরের ধাপে হিলিয়াম প্রবাহে বিঘ্ন ধরা পড়ে। ১৯ ফেব্রুয়ারি সফল 'ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল' বা জ্বালানি ভরার পূর্ণাঙ্গ মহড়া সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী পরীক্ষায় দেখা যায়, রকেটের উপরের অংশে যা 'ইন্টারিম ক্রায়োজেনিক প্রপালশন স্টেজ' নামে পরিচিত সেখানে হিলিয়ামের সরবরাহে সমস্যা হয়েছে। তাই মহাকাশচারীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে মাসখানেক পিছিয়ে দেওয়া হল চন্দ্রাভিযান।
হিলিয়াম সমস্যায় কেন এত চিন্তা
হিলিয়াম নিজে জ্বালানি নয়। কিন্তু তরল হাইড্রোজেন ও তরল অক্সিজেনের ট্যাঙ্কে চাপ বজায় রাখতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঠিকমতো চাপ না থাকলে জ্বালানি ইঞ্জিনে পৌঁছবে না, আর ইঞ্জিন না জ্বললে মহাকাশযান চাঁদের পথে রওনা দিতে পারবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইপলাইন, ভালভ, ফিল্টার কিংবা গ্রাউন্ড সাপোর্ট সিস্টেমের সংযোগস্থলে ত্রুটি থাকতে পারে তা সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রকেট ফিরছে হ্যাঙ্গারে
এই সমস্যার জেরে স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেট ও ওরিয়ন মহাকাশযানকে উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে সরিয়ে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের বিশাল ভেহিকেল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিংয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সেখানেই বিস্তারিত পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় মেরামতির কাজ চলবে। বিশাল ক্রলার-ট্রান্সপোর্টারের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এই রোলব্যাক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক মিশন
১৯৭২ সালে অ্যাপেলো (Apollo 17) এর পর এই প্রথম মানুষ চাঁদের কক্ষপথে ফিরতে চলেছে। এবার নাসার ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযানে থাকতে চলা চার মহাকাশচারীর দলে রয়েছেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কক এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। আপাতত তাঁদের প্রি-লঞ্চ কোয়ারান্টিন থেকে মুক্ত করে হিউস্টনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালের সফল আরটেমিস ১ (Artemis I) এর পর এটি দ্বিতীয় ধাপ। যদিও এই মিশনে চাঁদে অবতরণ নেই, ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযান। বিশেষ করে Artemis III–এর ভিত্তি মজবুত করাই মূল লক্ষ্য।
দেখুন ভিডিও
কী বার্তা দিল এই বিলম্ব?
নাসা স্পষ্ট জানিয়েছে, মহাকাশ অভিযানে তাড়াহুড়োর জায়গা নেই। সামান্য প্রযুক্তিগত ত্রুটিও গভীর মহাকাশ অভিযানে বড় ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। তাই সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উৎক্ষেপণ হবে না। এই বিলম্ব আবারও প্রমাণ করল চাঁদে মানুষের প্রত্যাবর্তন শুধু স্বপ্ন নয়, এক কঠিন প্রযুক্তিগত লড়াইও। এখন নজর এপ্রিলের নতুন সম্ভাব্য তারিখের দিকে। তদন্ত শেষ হলে তবেই মিলবে চূড়ান্ত ছাড়পত্র।


