তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, তাদের জলসীমার কাছে ৬টি চিনা বিমান, ১০টি জাহাজ ও ২টি সরকারি নৌযান দেখা গিয়েছে।
শুক্রবার তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক (MND) জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডের চারপাশে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (PLA) ৬টি বিমান, ১০টি নৌবাহিনীর জাহাজ (PLAN vessels) এবং ২টি সরকারি জাহাজ ঘোরাফেরা করছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে তারা এই তথ্য জানিয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা (UTC+8) পর্যন্ত এই কার্যকলাপ নজরে আসে।
মন্ত্রক আরও জানায়, ৬টি বিমানের মধ্যে ৪টি 'মিডিয়ান লাইন' (দুই দেশের মধ্যবর্তী স্পর্শকাতর সীমা) অতিক্রম করে তাইওয়ানের দক্ষিণ-পশ্চিম এবং পূর্ব দিকের এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোনে (ADIZ) প্রবেশ করে। পোস্টে লেখা হয়েছে, "#ROCArmedForces (রিপাবলিক অফ চায়না আর্মড ফোর্সেস) পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।"
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পোস্টটি এখানে দেখুন
সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিবাদের ইতিহাস
তাইওয়ানকে নিয়ে চিনের দাবি বহু পুরনো এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, রাজনীতি এবং আইনি জটিলতা। বেজিং বরাবরই তাইওয়ানকে চিনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে। তাদের জাতীয় নীতি থেকে শুরু করে দেশের আইন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তারা এই কথাই বলে। অন্যদিকে, তাইওয়ানের নিজস্ব সরকার, সেনাবাহিনী এবং অর্থনীতি রয়েছে এবং তারা নিজেদের একটি আলাদা রাষ্ট্র হিসেবেই দেখে। ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউশন অফ ইন্ডিয়ার মতে, তাইওয়ানের এই স্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি বড় আলোচনার বিষয়, যা সার্বভৌমত্ব এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের মতো আন্তর্জাতিক নীতিগুলির এক কঠিন পরীক্ষা।
তাইওয়ানের ওপর চিনের দাবির শুরুটা হয়েছিল ১৬৮৩ সালে, যখন কিং বংশ মিং অনুগত কক্সিঙ্গাকে হারিয়ে দ্বীপটি দখল করে। কিন্তু তখনও তাইওয়ান কিং সাম্রাজ্যের একটি প্রান্তিক অঞ্চল ছিল, যেখানে তাদের নিয়ন্ত্রণ ছিল সীমিত। বড় পরিবর্তন আসে ১৮৯৫ সালে। প্রথম চিন-জাপান যুদ্ধে হেরে গিয়ে কিং সরকার তাইওয়ানকে জাপানের হাতে তুলে দেয়। এরপর প্রায় ৫০ বছর তাইওয়ান জাপানের উপনিবেশ ছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হারের পর তাইওয়ান আবার চিনের নিয়ন্ত্রণে আসে, কিন্তু সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। এরপর ১৯৪৯ সালে চিনের গৃহযুদ্ধের ফলে মূল ভূখণ্ডে তৈরি হয় পিপলস রিপাবলিক অফ চায়না (PRC)। অন্যদিকে, রিপাবলিক অফ চায়না (ROC) সরকার তাইওয়ানে পালিয়ে গিয়ে সেখান থেকেই পুরো চিনের ওপর নিজেদের শাসন দাবি করে। এর ফলে দুটি সার্বভৌমত্বের দাবি তৈরি হয়: মূল ভূখণ্ডের ওপর PRC-র এবং তাইওয়ানের ওপর ROC-র। ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউশন অফ ইন্ডিয়া আরও জানাচ্ছে, তাইওয়ান কার্যত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবেই কাজ চালাচ্ছে, কিন্তু চিনের সঙ্গে সামরিক সংঘাত এড়াতে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করা থেকে বিরত রয়েছে। (ANI)
