তাইওয়ানের ভোটে নাক গলাতে কৃত্রিম মেধা বা AI ব্যবহার করছে বেজিং। শাসক দল ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির অভিযোগ, এর মাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে। তাইওয়ানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
তাইওয়ানের ভোটে নাক গলাতে কৃত্রিম মেধা বা AI ব্যবহার করছে বেজিং। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে টার্গেট করে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে, বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ভুয়ো প্রোফাইল তৈরি করা হচ্ছে এবং বিশ্বাসযোগ্য জাল কনটেন্ট বানানো হচ্ছে। এই মারাত্মক অভিযোগ তুলেছে তাইওয়ানের শাসক দল ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (DPP) চায়না অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্ট। খবরটি জানিয়েছে তাইপেই টাইমস।
চিনের বৃহত্তর কৌশল ও অতীতের হস্তক্ষেপ
DPP-র ওই বিভাগ জানিয়েছে, চিনের কমিউনিস্ট পার্টি (CCP) অনেকদিন ধরেই তাইওয়ানের রাজনীতিতে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে। অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের পাশাপাশি সাইবার হামলা, ভুয়ো খবরের প্রচার এবং অন্যান্য তথ্য-যুদ্ধের (information warfare) মাধ্যমে তারা এই কাজ করে চলেছে। তাইপেই টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, আধিকারিকরা মনে করছেন, তাইওয়ানের মানুষের মতামত এবং রাজনৈতিক আচরণকে প্রভাবিত করাই এর মূল লক্ষ্য।
বিভাগের মতে, এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। যেমন, ২০১৬ সালে কে-পপ তারকা চৌ জুইয়ু একটি দক্ষিণ কোরিয়ার টিভি শো-তে তাইওয়ানের পতাকা হাতে নিয়ে নিজেকে তাইওয়ানিজ বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এছাড়াও ২০১৮ সালের স্থানীয় নির্বাচনে ভুয়ো খবর ছড়ানো, ২০২০ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় 'ইউনাইটেড ফ্রন্ট' অপারেশন এবং ২০২২ সালে মার্কিন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের পর তথ্য-যুদ্ধ তীব্র করার মতো অভিযোগও রয়েছে।
AI কীভাবে বিপদ বাড়াচ্ছে?
তাইপেই টাইমসের রিপোর্ট বলছে, DPP মনে করে AI-এর কারণে এই ধরনের হস্তক্ষেপ এখন আরও সহজ এবং সস্তা হয়ে গিয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্য, রাজনৈতিক পছন্দ, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিটি এবং অনলাইন আচরণের মতো ডেটা বিশ্লেষণ করে AI নির্দিষ্ট দর্শকের জন্য রাজনৈতিক বার্তা তৈরি করতে পারে।
এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাইওয়ানের স্থানীয় ভাষা ও বাচনভঙ্গি নকল করা, স্থানীয় সমস্যাকে কাজে লাগানো, ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চালানো, বিখ্যাত ব্যক্তিদের ছদ্মবেশ ধারণ করা এবং অনলাইন গ্রুপ চ্যাটে ঢুকে পড়া সম্ভব বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্রুত জাল কনটেন্ট তৈরির বিপদ
তাইপেই টাইমস আরও জানিয়েছে, DPP-র বিভাগটি সতর্ক করেছে যে, ভোটের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জাল অডিও, ভিডিও, বা কেলেঙ্কারির মতো ঘটনা তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। এর ফলে কর্তৃপক্ষ সত্যিটা সামনে আনার প্রায় কোনও সময়ই পাবে না।
এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি 'সাপ্লাই চেন'-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যেখানে ভোটারদের ডেটা সংগ্রহ করে, সংবেদনশীল বিষয় চিহ্নিত করে সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
আধিকারিকদের মতে, AI-এর সবচেয়ে বড় বিপদ হল এটি এত দ্রুত বিশ্বাসযোগ্য জাল কনটেন্ট তৈরি করতে পারে যে, তা খণ্ডন করার আগেই অনেক দেরি হয়ে যায়।
ভোটারদের সতর্ক থাকার পরামর্শ DPP-র
এই পরিস্থিতিতে ভোটারদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে DPP। তাদের বলা হয়েছে, কোনও খবরের মূল উৎস যাচাই করতে, বিশ্বাসযোগ্য সংবাদমাধ্যম ও ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থার সাহায্য নিতে এবং যাচাই করা যায়নি এমন চাঞ্চল্যকর দাবি থেকে সাবধান থাকতে।


