- Home
- World News
- International News
- Freshwater Resources: সবচেয়ে বেশি মিষ্টি জল কোন দেশে? সেরা ১০-এ ভারত কত নম্বরে?
Freshwater Resources: সবচেয়ে বেশি মিষ্টি জল কোন দেশে? সেরা ১০-এ ভারত কত নম্বরে?
পৃথিবীর বেশিরভাগটাই জল, কিন্তু তার মাত্র ৩ শতাংশ পান করার যোগ্য। এই মিষ্টি জলের ভান্ডার কয়েকটি দেশের কাছেই সবচেয়ে বেশি। জানেন কি, কোন দেশের কাছে সবচেয়ে বেশি মিষ্টি জল আছে এবং এই তালিকায় ভারত কোথায়?
16

Image Credit : Gemini
বিশ্বের এই দেশগুলিতেই রয়েছে সবচেয়ে বেশি মিষ্টি জল
মানুষের বেঁচে থাকার জন্য এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মিষ্টি জল সবচেয়ে জরুরি। পৃথিবীতে মোট জলের মাত্র ৩ শতাংশ পান ও চাষের যোগ্য। বাকিটা সমুদ্রের নোনা জল। কিন্তু এই মিষ্টি জলের ভান্ডার সব দেশে সমানভাবে নেই। কিছু দেশে নদী, হ্রদ বা হিমবাহের আকারে হাজার হাজার টিএমসি (TMC) জল রয়েছে। ভারতেও মিষ্টি জলের অভাব নেই। বর্ষাকালে কত টিএমসি জল নদীতে এল, বা জলাধার ভরল, এমন খবর আমরা শুনেই থাকি। কিন্তু বিশ্বের এমন কিছু দেশ আছে, যাদের কাছে আমাদের থেকেও অনেক বেশি জল রয়েছে। চলুন, দেখে নেওয়া যাক মিষ্টি জলের ভান্ডারে সেরা ১০ দেশ কোনটি এবং ভারত কত নম্বরে।
Add Asianetnews Bangla as a Preferred Source

26
Image Credit : Gemini
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মিষ্টি জল থাকা সেরা ৩ দেশ
১. ব্রাজিল - ১,৯৯,৯১৬ টিএমসি: বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মিষ্টি জলের ভান্ডার রয়েছে ব্রাজিলের কাছে। এই দেশে প্রায় ১,৯৯,৯১৬ টিএমসি মিষ্টি জল সঞ্চিত আছে। বিশ্বের বৃহত্তম নদী আমাজন এবং তার শত শত উপনদী ব্রাজিলকে এই তালিকার শীর্ষে রেখেছে। এখানকার ঘন রেইনফরেস্ট সারাবছর বৃষ্টিপাত ঘটায়, যা ভূ-পৃষ্ঠ এবং ভূগর্ভস্থ জলের ভান্ডারকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ২. রাশিয়া - ১,৫২,২৭৭ টিএমসি: ভৌগোলিকভাবে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ রাশিয়া ১,৫২,২৭৭ টিএমসি মিষ্টি জল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। বিশ্বের গভীরতম এবং প্রাচীনতম মিষ্টি জলের হ্রদ 'বৈকাল হ্রদ' (Lake Baikal) রাশিয়াতেই অবস্থিত। আশ্চর্যের বিষয় হল, বিশ্বের মোট মিষ্টি জলের প্রায় ২০% একাই এই বৈকাল হ্রদে সঞ্চিত আছে। এর পাশাপাশি ওব, ইয়েনিসেই, ভলগা এবং লেনা-র মতো বিশাল নদীগুলি রাশিয়ার লাইফলাইন। ৩. কানাডা - ১,০০,৬৪৭ টিএমসি: কানাডা ১,০০,৬৪৭ টিএমসি মিষ্টি জলের ভান্ডার নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হ্রদ রয়েছে এই দেশেই। এখানকার বিশাল হিমবাহ (Glaciers) এবং গ্রেট লেকস সিস্টেম দেশটিকে বিপুল পরিমাণ জল সরবরাহ করে। জনসংখ্যা কম হওয়ায় কানাডায় মাথাপিছু জলের প্রাপ্যতা বিশ্বের সর্বোচ্চ দেশগুলির মধ্যে অন্যতম।
36
Image Credit : AI
আমেরিকা ও চিনে কতটা মিষ্টি জল আছে জানেন?
৪. আমেরিকা - ৯৯,৫১৭ টিএমসি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৯৯,৫১৭ টিএমসি মিষ্টি জলের ভান্ডার নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। আমেরিকার গ্রেট লেকস (সুপিরিয়র, মিশিগান, হুরন, ইরি, অন্টারিও) এবং মিসিসিপি-মিসৌরি নদী অববাহিকা এই জলের প্রধান উৎস। এখানকার বিশাল শিল্প এবং কৃষিক্ষেত্রে এই জল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ৫. চিন - ৯৯,৩৪০ টিএমসি: এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি চিন ৯৯,৩৪০ টিএমসি মিষ্টি জল নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ইয়াংজি (Yangtze) এবং হোয়াংহো (Yellow River)-র মতো বিশাল নদী চিনের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত। তবে বিপুল জনসংখ্যা এবং ব্যাপক শিল্পায়নের কারণে চিনের দক্ষিণাঞ্চলে জল থাকলেও উত্তরাঞ্চলে তীব্র জল সংকট দেখা যায়। ৬. কলম্বিয়া - ৭৫,৭৪৯ টিএমসি: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া ৭৫,৭৪৯ টিএমসি মিষ্টি জলের ভান্ডার নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। আন্দিজ পর্বতমালা, আমাজন নদী অববাহিকা এবং সারাবছর ধরে হওয়া ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কলম্বিয়ায় জলের প্রবাহ কখনও কমে না।
46
Image Credit : Getty
এই দেশগুলিতেও রয়েছে প্রচুর মিষ্টি জল
৭. ইন্দোনেশিয়া - ৭১,৩০০ টিএমসি: হাজার হাজার দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়া ৭১,৩০০ টিএমসি জলসম্পদ নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে। এখানকার উষ্ণমণ্ডলীয় জলবায়ুর কারণে সারাবছর ভারী বৃষ্টিপাত হয়। সুমাত্রা, বোর্নিও এবং জাভার মতো দ্বীপের ঘন জঙ্গল ও নদীপ্রবাহ এখানকার মিষ্টি জলের প্রধান উৎস। ৮. পেরু - ৫৭,৯৫১ টিএমসি: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরু ৫৭,৯৫১ টিএমসি মিষ্টি জল নিয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হল, বিশ্ববিখ্যাত আমাজন নদীর উৎস পেরুর পর্বতমালাতেই। এখানকার বরফগলা জল এবং নদীগুলি আমাজন অববাহিকার দিকে প্রবাহিত হয়ে বিপুল পরিমাণ মিষ্টি জল সমুদ্রে এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে পৌঁছে দেয়।
56
Image Credit : Asianet News
ভারতে কতটা মিষ্টি জল আছে জানেন?
৯. ভারত - ৫১,০৬৫ টিএমসি: ভারত ৫১,০৬৫ টিএমসি মিষ্টি জলের ভান্ডার নিয়ে বিশ্বে নবম স্থানে রয়েছে। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮ শতাংশ ভারতে বাস করলেও, বিশ্বের মোট মিষ্টি জলের মাত্র ৪ শতাংশ আমাদের দেশে উপলব্ধ। হিমালয় থেকে উৎপন্ন গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং সিন্ধু নদীগুলি উত্তর ভারতে জলের প্রধান জোগান দেয়। অন্যদিকে, উপদ্বীপীয় ভারতে গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী, নর্মদা এবং তাপ্তির মতো নদীগুলি চাষ ও পানীয় জলের মূল ভিত্তি। ভারত মূলত দক্ষিণ-পশ্চিম এবং উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুর উপর নির্ভরশীল। দেশের মোট জলের বেশিরভাগটাই বর্ষাকালে পাওয়া যায়। এখানকার মিষ্টি জলের ৮০ শতাংশেরও বেশি কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়, যার প্রধান কারণ ধান এবং আখের মতো বেশি জলনির্ভর চাষ। ভূগর্ভস্থ জলের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে অনেক রাজ্যে জলের স্তর দ্রুত নামছে। এর সঙ্গে নদী দূষণ এবং সঠিক জল ব্যবস্থাপনার অভাবে আমরা উপলব্ধ জল পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারছি না।
66
Image Credit : Getty
১০. মায়ানমার - ৩৫,৪২১ টিএমসি
১০. মায়ানমার - ৩৫,৪২১ টিএমসি: আমাদের প্রতিবেশী দেশ মায়ানমার ৩৫,৪২১ টিএমসি মিষ্টি জলের ভান্ডার নিয়ে দশম স্থানে রয়েছে। ইরাবতী (Irrawaddy) নদী মায়ানমারের জলের প্রধান উৎস। ঘন জঙ্গল এবং কম শিল্পায়নের কারণে এখানকার জলের বিশুদ্ধতা এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার টিএমসি মিষ্টি জল থাকা সত্ত্বেও, পরিবর্তনশীল জলবায়ু, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং দূষণের কারণে আগামী দিনে জল সুরক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তাই প্রতিটি দেশের উচিত বৃষ্টির জল সংরক্ষণ (Rainwater Harvesting), জলের পুনর্ব্যবহার এবং নদী পুনরুজ্জীবনের দিকে মনোযোগ দেওয়া।
Latest Videos
