- Home
- World News
- International News
- Oil Prices: হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের হুমকিতেই চড়চড় করে বাড়ছে তেলের দাম? পাল্টা চাপ ইরানের
Oil Prices: হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের হুমকিতেই চড়চড় করে বাড়ছে তেলের দাম? পাল্টা চাপ ইরানের
OIL Price Hike: হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখলে ইরানের জ্বালানি কেন্দ্রে হামলা করার হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরেই বিশ্ব বাজারে বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত প্রণালী খোলা হবে না।

ট্রাম্পের হুমকেই তেলের দাম বৃদ্ধি!
রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হলে ইরানের জ্বালানি কেন্দ্রগুলিতে হামলা চালানো হবে। সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হুমকির পরেই বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১০.৬০ ডলারে পৌঁছেছে। একইভাবে, মার্কিন ক্রুড অয়েলের দাম ১.৮ শতাংশ বেড়ে ১১৩.৬০ ডলার হয়েছে।
ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট
সিএনএন জানাচ্ছে, ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ইরানের সরকারকে উদ্দেশ্য করে বেশ কয়েকটি আক্রমণাত্মক পোস্ট করেন। রবিবার সকালে একটি পোস্টে তিনি লেখেন, "ইরানে মঙ্গলবার একই সঙ্গে পাওয়ার প্ল্যান্ট দিবস এবং ব্রিজ দিবস পালিত হবে। এমনটা আগে কখনও হয়নি!!! হরমুজ প্রণালী খোলো, নইলে তোমাদের নরকে বাস করতে হবে - শুধু দেখতে থাকো! আল্লাহ মহান।"
পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের
এই হুমকির জবাবে ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই জলপথ খোলা হবে না। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যুদ্ধের সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত প্রণালীটি বন্ধই থাকবে।
এর আগে ২১ মার্চ ট্রাম্প ইরানকে দু'দিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন, যা পরে বাড়িয়ে ৬ এপ্রিল করা হয়।
ওমান -ইরান হরমুজ নিয়ে কথা
এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ওমানের বিদেশ মন্ত্রক নিশ্চিত করেছে যে তাদের প্রতিনিধিরা রবিবার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তেলের জোগান নিয়ে উদ্বেগ ওপেক-এর
অন্যদিকে, তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক (OPEC) বিশ্ব বাজারে তেলের জোগান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া এবং ওমান—এই আটটি সদস্য দেশের একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের পর এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে বাজারের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ২০২৬ সালের মে মাস থেকে দৈনিক ২ লক্ষ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তেল উৎপাদন বৃদ্ধি
এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আটটি দেশ সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে দৈনিক ১৬.৫ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমানোর যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তার মধ্যে থেকেই এই ২ লক্ষ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানো হবে। বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী এই পরিমাণ ধাপে ধাপে বাড়ানো বা কমানো হতে পারে।"
কোন দেশ কত পরিমাণ তেল উৎপাদন করবে?
এই নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৌদি আরব এবং রাশিয়া প্রত্যেকে দৈনিক ৬২ হাজার ব্যারেল করে উৎপাদন বাড়াবে। এছাড়া ইরাক ২৬ হাজার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ১৮ হাজার, কুয়েত ১৬ হাজার এবং কাজাখস্তান ১০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়াবে। আলজেরিয়া ও ওমান যথাক্রমে ৬ হাজার ও ৫ হাজার ব্যারেল করে উৎপাদন বাড়াবে।
তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা
এই বৃদ্ধির পর ২০২৬ সালের মে মাসের জন্য সৌদি আরবের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হবে দৈনিক ১০,২২৮ হাজার ব্যারেল এবং রাশিয়ার ৯,৬৯৯ হাজার ব্যারেল। ইরাকের লক্ষ্যমাত্রা হবে ৪,৩২৬ হাজার ব্যারেল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ৩,৪৪৭ হাজার ব্যারেল এবং কুয়েতের ২,৬১২ হাজার ব্যারেল। কাজাখস্তান, আলজেরিয়া এবং ওমানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হবে যথাক্রমে ১,৫৮৯ হাজার, ৯৮৩ হাজার এবং ৮২১ হাজার ব্যারেল।
পরবর্তী বৈঠক
এই আটটি দেশ জানিয়েছে, তারা প্রতি মাসে বৈঠক করে বাজারের পরিস্থিতি এবং উৎপাদনের পরিমাণ পর্যালোচনা করবে। পরবর্তী বৈঠক হবে ৩ মে, ২০২৬।
হরমুজ নিয়ে কড়া ইরান
অন্যদিকে ইরান গতকালই জানিয়ে দিয়েছিল যে শত্রু দেশের জাহাজের জন্যই হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখবে তারা। মিত্র দেশের জাহাজ সহজেই হজমুজ দিয়ে চলাচল করতে পারবে।