হরমুজ প্রণালী না খুললে ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্ট ও ব্রিজ গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সেনার দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযান এবং ইজরায়েলের হামলা বৃদ্ধির জেরে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে।

ওয়াশিংটন: পশ্চিম এশিয়ায় সপ্তাহখানেক ধরে চলা উত্তেজনা এখন ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহণের রাস্তা, হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। অত্যন্ত কড়া এবং অশালীন ভাষায় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যালে' এই চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের সাফ কথা, মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানকে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লিখেছেন, "মঙ্গলবার হবে ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্ট আর ব্রিজ ধ্বংস করার দিন! ওই জাহান্নামের প্রণালী খোলো... নইলে তোমাদের নরকে বাস করতে হবে - শুধু দেখতে থাকো!" তবে এরপরেই ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আবার আলোচনার সামান্য ইঙ্গিতও দিয়েছেন। কিন্তু সঙ্গে এও বলেছেন, চুক্তি না হলে ইরানের সমস্ত তেলের খনি ধ্বংস করে সেগুলো দখল করে নেওয়া হবে।

ইরানে দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযান

গত শুক্রবার ইরানের গুলিতে ভেঙে পড়া একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় পাইলটকে উদ্ধার করেছে মার্কিন সেনা। ইরানের শত্রু-অধ্যুষিত এলাকায় ঢুকে ইউএস স্পেশাল ফোর্স এই দুঃসাহসিক অভিযান চালায়। প্রথম পাইলটকে আগেই উদ্ধার করা হয়েছিল। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই যায়। ইরান এই পথ আটকে দেওয়ায় বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া। সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উন্নত দেশগুলো বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় ভুগছে।

ইরান ঘোষণা করেছে, যুদ্ধের কারণে তাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা মেটাতে তারা ওই পথ দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে টোল আদায় করবে। কিন্তু আমেরিকা এটা মানতে নারাজ। অন্যদিকে, আমেরিকার নির্দেশের অপেক্ষা না করেই ইজরায়েল ইরানের অসামরিক পরিকাঠামোয় হামলা চালাচ্ছে। শনিবার ইরানের একটি প্রধান পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে হামলা চালায় ইজরায়েল। সুলাইমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা হয়েছে। এর জবাবে ইরানের ছোড়া মিসাইল ইজরায়েলের হাইফা শহরের একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসে পড়ে, যাতে ৪ জন আহত হয়েছেন।

ইরানের জবাব

ট্রাম্পের এই হুমকিকে 'বোকার মতো' এবং 'ব্যর্থতার ভয় থেকে জন্ম নেওয়া' বলে কটাক্ষ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের মুখপাত্র মাহদি তাবাতাবাই। অন্যদিকে, ইরানের সেনা জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের জন্য 'নরকের দরজা' খুলে দেবে।