মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই বড়সড় হুঁশিয়ারি দিল তুরস্ক। তারা জানিয়েছে, কুর্দি যোদ্ধারা যদি ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে, তাহলে উত্তর ইরাকে সেনা অভিযান চালাবে আঙ্কারা। এরদোগান ও ট্রাম্পের ফোনালাপের পর এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে একটা নতুন মোড় দেখা দিয়েছে। এবার মুখ খুলেছে তুরস্ক। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কুর্দি যোদ্ধারা যদি ইরানের বিরুদ্ধে স্থলযুদ্ধে নামে, তাহলে উত্তর ইরাকে সামরিক অভিযান চালাতে এক মুহূর্তও ভাববে না। এর আগে সিরিয়াতেও তুরস্ক একই কৌশল নিয়েছিল। এই ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে, কারণ যুদ্ধের মধ্যে নতুন ফ্রন্ট খোলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কুর্দি সংগঠনগুলোকে নিয়ে তুরস্কের উদ্বেগ

তুরস্কের এই হুঁশিয়ারি মূলত দুটি কুর্দি সংগঠনকে নিয়ে— Kurdistan Workers' Party (PKK) এবং Kurdistan Free Life Party (PJAK)। তুরস্কের আশঙ্কা, এই সংগঠনগুলো ইজরায়েলের মদতে পশ্চিম ইরানের সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। যদি সত্যিই এমনটা হয়, তাহলে এই যুদ্ধ শুধু দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।

সূত্রের খবর, ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে, যখন আমেরিকা ও ইজরায়েল হামলা বাড়িয়েছে, তখন থেকেই তুরস্ক বারবার সতর্ক করে আসছে যে এই সংঘাতে যেন কুর্দি যোদ্ধাদের ব্যবহার না করা হয়।

এরদোগান ও ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপ

এই বিষয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেছেন। এরদোগান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তুরস্ক কোনোভাবেই জঙ্গি সংগঠনের ব্যবহার মেনে নেবে না। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে সব দেশের একে অপরের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা উচিত। এই ফোনালাপের পর মনে করা হচ্ছে, আমেরিকাও এই বিষয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

উত্তর ইরাককেও বার্তা পাঠানো হয়েছে

তুরস্কের বিদেশ মন্ত্রক এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উত্তর ইরাকের কুর্দি প্রশাসনকেও স্পষ্ট বার্তা পাঠিয়েছে। তাদের জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি হাতের বাইরে গেলে তুরস্ক সেখানেও সামরিক অভিযান চালাতে পারে। এদিকে, জেলে বন্দি PKK নেতা আবদুল্লাহ ওজালানও নিজের সংগঠনকে সতর্ক করে বলেছেন, তারা যেন কোনো বাইরের শক্তির খেলার শিকার না হয়।

ইজরায়েল কেন কুর্দি যোদ্ধাদের সাহায্য চায়?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইজরায়েলের কৌশল হলো উত্তর ইরাকে থাকা কুর্দি যোদ্ধাদের ব্যবহার করে ইরানের ভেতরে হামলা চালানো।

তবে আমেরিকা এই পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসছে বলে মনে হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি কুর্দি যোদ্ধাদের সরাসরি এই যুদ্ধে জড়াতে চান না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুরস্কের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক ঠিক রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

NATO-র ভূমিকাও বেড়েছে

এই গোটা ঘটনার মধ্যে NATO-র ভূমিকাও আলোচনায় উঠে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুরাত ইয়েতকিনের মতে, তুরস্ক ও NATO-র সম্পর্কে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। তিনি বলেছেন, NATO তুরস্কের দিকে আসা মিসাইল আটকাতে তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম আরও মজবুত করেছে। যদি তুরস্কের ওপর হামলা হয়, তাহলে NATO তার সুরক্ষায় এগিয়ে আসতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে কি উত্তেজনা আরও বাড়বে?

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কুর্দি যোদ্ধারা যদি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তুরস্ক, ইজরায়েল, ইরান এবং আমেরিকার মতো বড় দেশগুলোর কৌশল এই যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। আমেরিকা আপাতত তুরস্ক ও ইজরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করছে, যাতে এই লড়াই আরও বড় আকার না নেয়।