দুবাই থেকে তেল আভিভ যাওয়ার পথে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানকে আছড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন কো-পাইলট। কিন্তু নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা রুখে দেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর ও তাঁর ক্রু মেম্বাররা। এই অসীম সাহসিকতার জন্য ক্যাপ্টেন স্মিত-সহ গোটা ক্রুকে 'অর্ডার অফ জায়েদ ২' সম্মানে ভূষিত করল ইউএই সরকার।

দুবাই (২৮ অক্টোবর): ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভ যাচ্ছিল। মাঝ আকাশেই এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। কিন্তু ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর এবং তাঁর ক্রু মেম্বাররা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই বিপদ রুখে দেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) তাঁদের এই সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছে।

ইউএই-র প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর-সহ ফ্লাইদুবাইয়ের ওই ক্রু মেম্বারদের 'অর্ডার অফ জায়েদ ২' (প্রথম শ্রেণি) সম্মানে ভূষিত করেছেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই-তেল আভিভ ফ্লাইটে যাত্রীদের বাঁচাতে তাঁরা যে সাহসিকতা ও পেশাদারিত্ব দেখিয়েছেন, তারই স্বীকৃতি এই পুরস্কার। দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স, ইউএই-র উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম তাঁদের হাতে এই সম্মান তুলে দেন। তিনি যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ক্রু মেম্বারদের তৎপরতার ভূয়সী প্রশংসাও করেন।

ফ্লাইদুবাই ক্রুদের সাহসিকতায় মুগ্ধ ইউএই প্রেসিডেন্ট

ইউএই-র প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী তথা দুবাইয়ের শাসক শেখ মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম মঙ্গলবার ওই বিমানের ক্রু মেম্বারদের সঙ্গে দেখা করেন। শীর্ষ নেতারা এক নিশ্চিত বিমান দুর্ঘটনা রুখে দেওয়ার জন্য তাঁদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তাঁরা জানান, মানুষের জীবন রক্ষা এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই দেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

ফ্লাইদুবাই FZ1073 বিমানে ঠিক কী ঘটেছিল?

ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানটি গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল। ইউএই-র তদন্তকারীদের মতে, কো-পাইলট মাঝ আকাশে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ইজরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটিকে আছড়ে ফেলা।

অভিযোগ, ওই কো-পাইলট ককপিটে থাকা একটি কুঠার দিয়ে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের ওপর হামলা চালান। ক্যাপ্টেন স্মিত এই হামলায় গুরুতর আহত হন। কিন্তু তিনি রক্তাক্ত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা আনলক করতে সক্ষম হন। এরপরই কেবিন ক্রু এবং যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে ওই হামলাকারীকে ধরে ফেলেন।

ফ্লাইদুবাইয়ের আরও দুই পাইলট ওই বিমানেই যাত্রী হিসেবে যাচ্ছিলেন। তাঁরাই এরপর বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। তাঁরা বিমানটিকে ঘুরিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান। জানা গিয়েছে, বিমানটি হামলার সময় আচমকাই কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বিমানের সমস্ত যাত্রী এবং ক্রু মেম্বাররা প্রাণে বেঁচে যান।

ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে ঘটনার পর সৌদি আরবের তাবুকের একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসা এবং দ্রুত সুস্থতার জন্য আবু ধাবিতে নিয়ে যাওয়া হয়।