উগান্ডার সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা তুরস্কের কাছে দুটি দাবি জানিয়েছেন। কাইনেরুগাবার প্রথম দাবিটি হল সোমালিয়ায় ইসলামিক জঙ্গিদের দমনে উগান্ডার দীর্ঘদিনের সামরিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়া। দ্বিতীয় দাবিটি, যা সম্ভবত নিছক কৌতুকচ্ছলেই করা হয়েছে—তা হল তুরস্কের সবচেয়ে সুন্দরী নারীকে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া।

উগান্ডার সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা তুরস্কের কাছে দুটি দাবি জানিয়েছেন। কাইনেরুগাবার প্রথম দাবিটি হল সোমালিয়ায় ইসলামিক জঙ্গিদের দমনে উগান্ডার দীর্ঘদিনের সামরিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়া। দ্বিতীয় দাবিটি, যা সম্ভবত নিছক কৌতুকচ্ছলেই করা হয়েছে—তা হল তুরস্কের সবচেয়ে সুন্দরী নারীকে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া। কাইনেরুগাবার ভাষ্যমতে, ওই নারী হবেন তাঁর স্ত্রী। কাইনেরুগাবার এই দাবি তীব্র সমালোচনার জন্ম দিলেও এমন অদ্ভুত ও লিঙ্গবৈষম্যমূলক দাবি তিনি এই প্রথম করলেন না। ২০২২ সালে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে বিয়ে করার বিনিময়ে কাইনেরুগাবা ইতালিকে ১০০টি গরু উপহার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এখন, বেশ কয়েক বছর পর উগান্ডার এই সেনাপ্রধান কাইনেরুগাবা তুরস্কের সবচেয়ে সুন্দরী নারীকে নিজের স্ত্রী হিসেবে চেয়ে বসেছেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

উগান্ডার সেনাপ্রধান একজন তুর্কি স্ত্রী চান, কেন?

উগান্ডার সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা হলেন দেশটির রাষ্ট্রপতি ইওভেরি মুসেভেনির ছেলে। শনিবার (১১ এপ্রিল) 'এক্স' (X) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া ধারাবাহিক পোস্টে উগান্ডার প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান কাইনেরুগাবা তুরস্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে সোমালিয়ায় পরিকাঠামো উন্নয়ন চুক্তি এবং দেশটির রাজধানী মোগাদিশুতে বন্দর ও বিমানবন্দরের পরিচালনা থেকে তুরস্ক বিপুল মুনাফা লুটে নিচ্ছে। অথচ অন্যদিকে, আফ্রিকান ইউনিয়নের মিশনের অংশ হিসেবে প্রায় দুই দশক ধরে জঙ্গিগোষ্ঠী আল-শাবাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গুরুদায়িত্বটি উগান্ডাকেই বহন করতে হয়েছে। তিনি তুরস্কের কাছে ওই ১ বিলিয়ন ডলার দাবি করেন এক ধরণের নিরাপত্তা লভ্যাংশ (security dividend) হিসেবে। আর এর পাশাপাশি জুড়ে দেন নিজের ব্যক্তিগত বৈবাহিক জীবনের একটি আবদারও। 'এক্স'-এ দেওয়া কাইনেরুগাবার একটি পোস্টে লেখা ছিল, "তুরস্কের কাছ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার পাশাপাশি, আমি ওই দেশের সবচেয়ে সুন্দরী নারীটিকে আমার স্ত্রী হিসেবে পেতে চাই!"

কাইনেরুগাবা হুঁশিয়ারি

কাইনেরুগাবা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "এই দাবি মেনে না নেওয়া হলে কাম্পালা (উগান্ডা সরকার) তার আকাশসীমায় তুর্কি এয়ারলাইন্সের চলাচল নিষিদ্ধ করবে এবং আঙ্কারার (তুরস্ক সরকার) সঙ্গে সমস্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে। তুরস্কের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত সহজ হয় তারা আমাদের অর্থ পরিশোধ করবে, নতুবা আমি এখানে তাদের দূতাবাস বন্ধ করে দেব। এর জবাবে তারাও আমাদের দূতাবাস বন্ধ করে দিতে পারে। তাতে কোনও সমস্যা নেই। যদি তুরস্ক আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান না করে, তবে আমরা ৩০ দিনের মধ্যে তাদের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করব। এমন বন্ধুর প্রয়োজন কার, যে প্রতিনিয়ত আপনার পিঠে ছুরি মারে?" তিনি সকল উগান্ডাবাসীকেও পরামর্শ দিয়েছেন যেন তারা তুরস্কে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকেন, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই।

কাম্পালার পিঠে ছুরি মারার দায়ে আঙ্কারার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি কাইনেরুগাবা এই সুযোগে ইজরায়েলের প্রতি নিজের সমর্থনও ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, "পবিত্র ভূমি আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের জন্মভূমি রক্ষার জন্য আমি আমার নিজস্ব কমান্ডে ১,০০,০০০ উগান্ডান সেনাকে ইজরায়েলে মোতায়েন করতে প্রস্তুত।"