দিল্লিতে ব্রিকস বৈঠকের পর রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানালেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তাঁর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি, মহাকাশ গবেষণা এবং সার সরবরাহ নিয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে তাদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করতে চলেছে।
ভারত ও রাশিয়ার "বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব" আরও মজবুত করার লক্ষ্যে শুক্রবার রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এক বড় ঘোষণা করেন। তিনি জানান, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি, মহাকাশ গবেষণা এবং সার সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে মস্কো এবং নয়াদিল্লি বিস্তারিত আলোচনা করেছে।

রাজধানীতে ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের পর একটি সাংবাদিক সম্মেলনে লাভরভ এই কথা জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন। লাভরভ বলেন, গত ডিসেম্বরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর মধ্যে হওয়া দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ভিত্তিতেই এই আলোচনা এগিয়েছে।
প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর
লাভরভ বলেন, "ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে আমাদের বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বের মূল ক্ষেত্রগুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।" রুশ বিদেশমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, ভবিষ্যতে দুই দেশ যৌথভাবে অস্ত্র তৈরি করবে এবং মহাকাশ গবেষণায় সহযোগিতা বাড়াবে। এর পাশাপাশি, সার সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক যাতে বাইরের কোনও দেশের "নেতিবাচক বা বন্ধুত্বপূর্ণ নয় এমন চাপের" কাছে নতিস্বীকার না করে, তার জন্য সহযোগিতার কাঠামো আরও উন্নত করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
জ্বালানি সুরক্ষায় জোর
আলোচনায় জ্বালানি সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। লাভরভ জানান, ক্রেমলিন নয়াদিল্লির জ্বালানির চাহিদা মেটাতে সবসময় প্রস্তুত। তিনি বলেন, "আমাদের ভারতীয় সহযোগীরা যখনই আরও জ্বালানির জন্য অনুরোধ করে, আমরা সবসময় ইতিবাচক সাড়া দিই।" তিনি আরও যোগ করেন, "এটা কোনও গোপন বিষয় নয় যে ভারতে রাশিয়ার তেল সরবরাহ বেড়েছে।"
পশ্চিমি হস্তক্ষেপের সমালোচনা
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে কথা বলতে গিয়ে লাভরভ "বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পশ্চিমি হস্তক্ষেপের" তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, পশ্চিম এশিয়া এবং উত্তর আফ্রিকায় বর্তমান অস্থিরতার জন্য এই হস্তক্ষেপই দায়ী। এই অঞ্চলকে "জটিল জটের সুতো" বলে বর্ণনা করে তিনি ইরান, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং প্যালেস্তাইনের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জন্য "পশ্চিমি দেশগুলির নির্লজ্জ হস্তক্ষেপকে" দায়ী করেন। তিনি দাবি করেন, এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে "তথাকথিত আরব বসন্ত থেকে শুরু করে গত ১৫ বছর ধরে চলা অভ্যুত্থান"। লাভরভ আরও জানান যে রাশিয়া "কিউবার প্রতি সংহতি জানাচ্ছে"।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভারতের সম্ভাবনা
ভারতের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে লাভরভ বলেন, নয়াদিল্লির "বিশাল কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক অবস্থান" ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত মেটাতে মধ্যস্থতা করার জন্য ভারতকে এক আদর্শ প্রার্থী করে তুলেছে।
শান্তির পক্ষে ফের সওয়াল ভারতের
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদীও কূটনীতির উপরেই জোর দেন। ইউক্রেন এবং পশ্চিম এশিয়ার সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি "সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের" প্রতি ভারতের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে পরে জানানো হয়, ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে বদলাতে থাকা ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে।


