আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলিকে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং সাইবার হামলার মতো পরিস্থিতিতেও সচল রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন। এই উদ্যোগের নাম FORTRESS। লক্ষ্য, চরম সঙ্কটের পরিস্থিতিতেও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে অন্তত ৯০ দিন বাইরের সহায়তা ছাড়াই চালু রাখা।
আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলিকে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং সাইবার হামলার মতো পরিস্থিতিতেও সচল রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন। এই উদ্যোগের নাম FORTRESS। লক্ষ্য, চরম সঙ্কটের পরিস্থিতিতেও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে অন্তত ৯০ দিন বাইরের সহায়তা ছাড়াই চালু রাখা। FORTRESS-এর মূল উদ্দেশ্য হল সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রিড ও বেসামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার উপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর নির্ভরতা কমানো। বড় ধরনের যুদ্ধ, সাইবার হামলা বা পরিকাঠামো বিপর্যয়ের কারণে স্বাভাবিক পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলেও যাতে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া যায়, সেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগটি স্বাভাবিকভাবেই বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্রিটেন ও জাপান—উভয় দেশই তাদের নাগরিকদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই পরিকল্পনার কথা সামনে আসায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তবে এই পরিকল্পনার অর্থ যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন, এমন কোনও ঘোষণা করেনি আমেরিকা।
এই পরিকল্পনায় রয়েছে
- বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা: ছোট পারমাণবিক চুল্লি, বড় ব্যাটারি স্টোরেজ এবং মাইক্রোগ্রিডের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার।
- জরুরি মজুত: গোলাবারুদ, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ ও চিকিৎসা সামগ্রী সংরক্ষণ।
- প্রতিরক্ষা উৎপাদন: সঙ্কটের সময় বেসরকারি কারখানাগুলিকেও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কাজে ব্যবহার করার প্রস্তুতি।
- সরবরাহ ব্যবস্থার বিকল্প: প্রচলিত সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলেও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়ার ব্যবস্থা তৈরি।
কেন হঠাৎ এই পরিকল্পনা?
আধুনিক যুদ্ধে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমা হামলাই বিপদের একমাত্র উৎস নয়। বিদ্যুৎ গ্রিড, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জল সরবরাহ এবং পরিবহন পরিকাঠামোতে সাইবার হামলা চালিয়েও একটি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করে দেওয়া সম্ভব। এই ঝুঁকি মোকাবিলাই FORTRESS-এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেলের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ ছাড়া যোগাযোগ, রসদ সরবরাহ, উৎপাদন এবং সামরিক কমান্ড ব্যবস্থা সচল রাখা কঠিন। ফলে সামরিক ঘাঁটিগুলির জন্য স্বাধীন ও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার গুরুত্ব বাড়ছে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালে চিন-সমর্থিত বলে অভিযোগ ওঠা ‘Volt Typhoon’ হ্যাকার গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মার্কিন সংস্থাগুলির গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের অভিযোগও নতুন করে সাইবার নিরাপত্তার উদ্বেগ বাড়িয়েছিল। মার্কিন তদন্তকারী সংস্থাগুলি আশঙ্কা করেছিল, ভবিষ্যতে কোনও সংঘাতের সময় জরুরি পরিষেবা ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে এই অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা কি সত্যি?
FORTRESS পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, আমেরিকা-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তুতিকে অনেকে বড় যুদ্ধের সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করছেন। কিন্তু সামরিক প্রস্তুতি নেওয়া আর যুদ্ধ আসন্ন বলে ঘোষণা করা এক বিষয় নয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাইবার হামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর উপর আক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলায় এই ধরনের পরিকল্পনা স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। এখনও পর্যন্ত এই পরিকল্পনার সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের সময়সীমা, মোট খরচ কিংবা কোন নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তা প্রকাশ্যে স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে FORTRESS-কে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিশ্চিত সংকেত হিসেবে দেখার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
FORTRESS পরিকল্পনার তাৎপর্য কী?
এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমেরিকা এমন একটি সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে, যা সাধারণ নাগরিক পরিকাঠামো বিপর্যস্ত হলেও দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে পারবে। যুদ্ধের পাশাপাশি বড়সড় সাইবার হামলা বা সরবরাহ ব্যবস্থার বিপর্যয়ের মতো পরিস্থিতিতেও এই প্রস্তুতি কাজে লাগতে পারে। তবে ৯০ দিন স্বনির্ভর থাকার লক্ষ্য ঘোষণা করা হলেও, সব সামরিক ঘাঁটিতে সেই সক্ষমতা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে, এমনটা বলা যাবে না। এটি একটি প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনা, যার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে প্রযুক্তি, পরিকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সম্পদের উপর।




