ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ইসফাহান শহরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। জানা যাচ্ছে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হানায় এই ঘটনা ঘটেছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে 'বাঙ্কার-বাস্টার' বোমা ফেলে হামলা চালানো হয়েছে।

আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ইসফাহান শহরে একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও শেয়ার করেছেন। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হানার পর একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছে গোটা এলাকা। ট্রাম্প তাঁর 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে এই ফুটেজটি পোস্ট করেছেন। রাতের আকাশে বিস্ফোরণের ঝলকানি বুঝিয়ে দিচ্ছে, হামলা কতটা মারাত্মক ছিল।

মনে করা হচ্ছে, এই হামলা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিকাঠামোকে নিশানা করে চালানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অস্ত্রের গুদাম এবং পরমাণু ও প্রতিরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কেন্দ্র। মার্কিন আধিকারিকদের সূত্রে খবর, এই হামলায় শক্তিশালী 'বাঙ্কার-বাস্টার' বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। এই ধরনের বোমা মাটির গভীরে বা সুরক্ষিত বাঙ্কার ধ্বংস করার জন্য তৈরি।

Scroll to load tweet…

সামরিক দিক থেকে ইসফাহান শহরটি ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে দেশের একাধিক জরুরি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং এটি ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই শহরেই ইউরেনিয়ামের ভান্ডার মজুত রয়েছে, যা একে চলমান সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে বিশেষ কিছু না লিখলেও, ভিডিওর দৃশ্যই হামলার ভয়াবহতা স্পষ্ট করে দিয়েছে। একটি ভিডিওতে পরপর বিস্ফোরণ দেখা গেছে। এছাড়া অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া অন্যান্য ভিডিওতে আগুনের গোলা এবং শহরের ওপর ওঠা ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী ধরা পড়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযান আরও তীব্র হয়েছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ইরানের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা দুর্বল করতে এবং এই অঞ্চলে উত্তেজনা কমাতে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।

বাঙ্কার-বাস্টার বোমার ব্যবহার এটাই ইঙ্গিত দেয় যে, এবার মাটির গভীরে থাকা সুরক্ষিত পরিকাঠামো বা অস্ত্রের ভান্ডারকেও নিশানা করা হচ্ছে। এই ধরনের হামলা ইরানের মূল সামরিক শক্তিকে দুর্বল করার একটি আগ্রাসী পদক্ষেপ।

এদিকে, পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। ইরানও পাল্টা মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সব ঘটনায় একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

দুই পক্ষই যখন সামরিক পদক্ষেপ বাড়াচ্ছে, তখন এই বিস্ফোরণের ভিডিও প্রকাশ যুদ্ধের প্রচারে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি একদিকে যেমন হামলার তীব্রতা দেখাচ্ছে, তেমনই মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সংঘাতের ঝুঁকিও তুলে ধরছে।