ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিকে বড়সড় ধাক্কা দিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের আইন বহাল রেখেছে। মঙ্গলবার আদালত জানিয়েছে, বাবা-মায়ের স্টেটাস যা-ই হোক না কেন, আমেরিকার মাটিতে জন্মানো সব শিশুই দেশের নাগরিক হবে। এই রায়কে ঘিরে উল্লাস প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রচারের ইস্যুকে বড় ধাক্কা দিল আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এক ঐতিহাসিক রায়ে আদালত ট্রাম্পের জারি করা এগজিকিউটিভ অর্ডার খারিজ করে দিয়েছে। এর ফলে আমেরিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার আগের মতোই বহাল থাকল। আমেরিকার ব্রডকাস্টার সিএনএন আদালতের রায়ের নথি প্রকাশ করেছে। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া সব শিশুই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিকত্ব পাবে। তাদের বাবা-মা সে দেশে বৈধভাবে থাকুন বা না থাকুন, তাতে কিছু যায় আসে না।

আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা ট্রাম্পের
সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর (Fourteenth Amendment) নাগরিকত্ব ধারা অনুযায়ী এই রায় দেওয়া হয়েছে। আদালত তাদের পুরনো একটি রায়, ‘ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওং কিম আর্ক’ মামলার কথাও উল্লেখ করেছে। সেই মামলাতেও বলা হয়েছিল, আমেরিকায় বিদেশি বাবা-মায়ের সন্তান জন্মালেও সে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক হবে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, এর আগে মে মাসে ট্রাম্প লিখেছিলেন, "জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়ে একটি নেতিবাচক রায়, তার উপর সাম্প্রতিক ট্যারিফ বিপর্যয়, আমেরিকার অর্থনীতির জন্য একেবারেই ভালো হবে না!" রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, আদালতের তিন রক্ষণশীল বিচারপতি—ক্লারেন্স থমাস, নিল এম গরসাচ এবং স্যামুয়েল এ আলিতো জুনিয়র—এই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।
তবে আরেক বিচারপতি ব্রেট এম কাভানা সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষেই রায় দেন, যদিও তিনি তাঁর সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে সংবিধানের বদলে একটি ফেডারেল আইনকে উল্লেখ করেছেন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই এগজিকিউটিভ অর্ডার খারিজ হওয়ায় মানবাধিকার সংগঠনগুলি মঙ্গলবার স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
লাতিনো গোষ্ঠী ইউনিডোসইউএস-এর সদস্য এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রাক্তন আধিকারিক ডেবোরা ফ্লেইশেকার এই রায়কে "অসম্ভব স্বস্তি" বলে অভিহিত করেছেন। সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শুনানিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীদের প্রধান যুক্তি ছিল যে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাবা-মাকে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের ইতিহাস থাকতে হবে না । তারা ভিন দেশের বাসিন্দা হলেও চলবে। শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, "নাগরিকত্ব মানে অধিকার পাওয়ার অধিকার—আমাদের রাজনৈতিক সমাজে স্বাধীনভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা এই প্রতিশ্রুতি দেশের প্রত্যেক স্বাধীনভাবে জন্মানো ব্যক্তিকে দিয়েছিলেন। আমরা আজ সেই প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করলাম।" এই রায় ট্রাম্পের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসাবেই দেখা হচ্ছে। কারণ তাঁর দ্বিতীয় দফার নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম বড় ইস্যু ছিল "বার্থ ট্যুরিজম" বন্ধ করা এবং বৈধ ও অবৈধ অভিবাসনের উপর কড়া পদক্ষেপ নেওয়া।


