Woman Survives 20 Hours in Open Sea: রয়েল ক্যারিবিয়ান সংস্থার বিলাসবহুল ক্রুজ শিপ 'ওডিসি অফ দ্য সিস' (Odyssey of the Seas) থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়া এক ৪৪ বছর বয়সী মহিলাকে দীর্ঘ ২০ ঘণ্টা পর জীবিত ও সম্পূর্ণ সচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
Woman Survives 20 Hours in Open Sea: এ এক অলৌকিক বেঁচে ফেরার সত্য়ি ঘটনা। মধ্যরাতে আইওনিয়ান সাগরের বুকে ঘটা এক রোমাঞ্চকর ও অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী থাকল বিশ্ব। রয়েল ক্যারিবিয়ান সংস্থার বিলাসবহুল ক্রুজ শিপ 'ওডিসি অফ দ্য সিস' (Odyssey of the Seas) থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়া এক ৪৪ বছর বয়সী মহিলাকে দীর্ঘ ২০ ঘণ্টা পর জীবিত ও সম্পূর্ণ সচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রিসের উপকূলবর্তী অঞ্চলে এই অসাধ্য সাধন করেছে গ্রিক কোস্ট গার্ড ও একটি পণ্যবাহী জাহাজ।
ঠিক কী ঘটেছিল
ঘটনার সূত্রপাত, গত শুক্রবার শেষ রাতের দিকে। সাত রাতের 'গ্রিক আইল্যান্ডস ক্রুজ'-এর অংশ হিসেবে মাইকোনোস থেকে ইতালির নেপলসের দিকে যাচ্ছিল বিশালাকার এই প্রমোদতরি। সফর চলাকালীন গ্রিক দ্বীপ জাকিনথোসের দক্ষিণ-পশ্চিমে আইওনিয়ান সাগরে জাহাজ থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান এল সালভাদরের বাসিন্দা ওই যাত্রী। বিষয়টি শুরুতে কারো নজরে আসেনি। ঘটনার বেশ কয়েক ঘণ্টা পর সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে জাহাজের কর্মীরা বুঝতে পারেন যে ওই মহিলা নিখোঁজ হয়েছেন এবং সমুদ্রে পড়ে গেছেন।
দেখুুন ভিডিও
কীভাবে চলে উদ্ধার অভিযান
খবর পেয়েই দ্রুত সমুদ্রে এক বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। হেলেনিক বিমান বাহিনীর ‘সুপার পুমা’ হেলিকপ্টার এবং গ্রিক কোস্ট গার্ডের প্যাট্রোল বোটের পাশাপাশি ওই রুটে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকেও অনুসন্ধানে নামানো হয়। মূল ক্রুজ জাহাজটি নিজেও টানা প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা সমুদ্রের বুক চষে ফেলে।
কীভাবে অলৌকিক উদ্ধার
অবশেষে শনিবার, ১০ অক্টোবর রাত আনুমানিক আড়াইটে নাগাদ মিলল সাফল্য। জাকিনথোস থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে মেদেয়রা-র পতাকাযুক্ত 'এমএসসি রোসেলা ৩' নামের একটি কার্গো জাহাজ প্রথম ওই মহিলাকে সমুদ্রে ভাসতে দেখে। তিনি যে স্থানে পড়েছিলেন, সেখান থেকে মাত্র দুই নটিক্যাল মাইল দূরেই তাঁকে পাওয়া যায়। অন্ধকার রাতে সঙ্গে থাকা লাইফবয়া (Lifebuoy)-র ফ্ল্যাশিং লাইটটিই তাঁর জীবন বাঁচায়; আলোর সূত্র ধরেই উদ্ধারকারীরা তাঁকে দ্রুত চিহ্নিত করতে সক্ষম হন।
পরবর্তীতে গ্রিক কোস্ট গার্ডের উদ্ধারকারীরা দড়ি ছুড়ে তাঁকে উদ্ধারকারী নৌকায় তুলে আনেন। রাতের অন্ধকারে পরিচালিত এই অলৌকিক উদ্ধারকার্যের দৃশ্য সিসিটিভি ও কোস্ট গার্ডের ক্যামেরায় ধরা পড়ে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারের পরপরই তাঁকে পশ্চিম গ্রিসের কাটাকোলো বন্দরে নিয়ে আসা হয় এবং সেখান থেকে দ্রুত পিরগোস শহরের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। দীর্ঘক্ষণ শীতল জলে থাকার কারণে তিনি 'মাইল্ড হাইপোথার্মিয়া' বা শরীরের তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছিলেন, তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন বর্তমানে তাঁর অবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল।
কিন্তু কেন তিনি মাঝসমুদ্রে এই বিপজ্জনক কাজ করলেন? উদ্ধারের পর ওই মহিলা উদ্ধারকারীদের জানান, জাহাজ থেকে নেমে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা থেকেই তিনি জলে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। এই ঘটনার নেপথ্যে মানসিক কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে স্থানীয় প্রসিকিউটর তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে খোলা ভূমধ্যসাগরের বিপজ্জনক জলে টানা ২০ ঘণ্টা একা লড়াই করে বেঁচে থাকাকে উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসকেরা এক বাক্যে 'অলৌকিক ঘটনা' বলেই অভিহিত করছেন।








