বোমা নিস্ক্রমণের সময় বিস্ফোরণ পোল্যান্ড থেকে উদ্ধার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমা কেঁপে ওঠে বিস্তীর্ণ এলাকা  তবে কোনও ক্ষতি হয়নি   

বোমা নিস্ক্রমণ অভিযানের সময় আচমাকই ফেটে গেল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমা। আর তাতে জলোচ্ছাসের ছবি রীতিমত ভয় ধরিয়ে দিল। পোল্যান্ডের সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন বাল্টিক সাগরের কাছে একটি খালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার উদ্ধার হওয়া বোমাটি নিষ্ক্রীয় করার কাজ চলছিল। কিন্তু সরকারি আধিকারিকরা আশঙ্কা করেছিলেন বোমাটি সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রীয় নাও হতে পারে। আগেই ফেটে যেতে পারে।আর তাঁদের আশঙ্কা সত্যি করেই বোমাটি আচমকাই ফোটে যায়। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

প্রায় ৮১ বছর আগে এই বোমাটি ফেলা হয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। বোমাটির নাম 'টলবয়' বা 'ভূমিকম্প বোমা'। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে রয়াল এয়ার ফোর্স ১৯৪৫ সালে নাৎসি যুদ্ধ জাহাজ আক্রমণের জন্য ফেলেছিল। ১৯৪৫ সালে আরএফ এর ৬১৭তম স্কোয়াড্রন ল্যাঙ্কাস্টার থেকে ১৮টি বোমারু বিমান পাঠিয়েছিল। সেই সময়ে প্রায় ১২টি টলবয় বোমা ফেলা হয়েছিল। কিন্তু বোমাটি সেই সময় ফাটেনি বলেই মনে করা হচ্ছে। ৬ মিটারেরও বেশি লম্বা এই বোমার ওজন ৫.৮ টন। ২.৪ টন বিস্ফোরক ভরা ছিল। উত্তর পশ্চিম পোল্যান্ডের বন্দর নগরী সুইনজস্কির কাছে ড্রেজিংকরার সময় মাটির প্রায় ১২ মিটার গভীর থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। টলবয় বোমাগুলি এমনভাবে ডিসাইন করা হয়েছিল যাতে সেগুলি ভূগর্ভস্থ বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। পোল্যান্ডের এই এলাকাটি মিত্র বাহিনীর টার্গেটের মধ্যেই ছিল। আর সেই কারণেই স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন তিনি যখন ছোট ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বোমা পড়তে দেখেছিলেন। কিন্তু এদিনের বিস্ফোরণেও কেঁপে ওঠে বিস্তীর্ণ এলাকা। 

এই বিস্ফোরণে তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি। তবে আগেই থেকেই এলাকা খালি করার জন্য স্থানীয়দের কাছে আবেদন জানান হয়েছিল। তবে অনেকেই নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র যাননি। স্থানীয় একটি ব্রিজ রক্ষা করার লক্ষ্যে পোল্যান্ডের প্রশাসন খুব সাবধানেই বোমাটি নিস্ক্রিমণের কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু মাঝপথে সেটি আচমকা ফেটে যায়।