অত্যন্ত মজাদার ম্যাচ, যেখানে চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স দুই দলই একে অপরকে আইপিএল ট্রফিটা দেওয়া-নেওয়া করছিল। রবিবার আইপিএল ২০১৯-এর ফাইনালে মাত্র ১ রানে পরাজয়ের পর এভাবেই ম্যাচটিকে বর্ণনা করলেন সিএসকে-র থালা মহেন্দ্র সিং ধোনি। বস্তুত আইপিএল ২০১৯-এর রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল দেখতে দেখতে অনেক ক্রিকেট ভক্তেরই মনে হয়েছে, এ যেন কোনও ক্রিকেট ম্যাচ নয়, বরং ২২ গজে চলছে সাপ লুডো খেলা। যেখানে কোনও দল একবার মই বেয়ে জয়ের কাছে চলে যাচ্ছে, আবার পরক্ষণেই সাপের মুখে পড়ে পিছিয়ে যাচ্ছে।

ম্যাচের পর ধোনি স্বীকার করে নেন, ফাইনাল ম্যাচটায় যতটা ভালো তাঁদের খেলা উচিত ছিল, তাঁদের 'ড্যাডিস আর্মি' সেরকমটা খেলতে পারেনি। তাঁর মতে দুই দলই একে অপরকে অনেক সুযোগ করে দিয়েছে। দুই দলের তরফেই অনেক ভুল হয়েছে। কিন্তু মুম্বই ইন্ডিয়ান্সল তাঁদের থেকে কিছু কম ভুল করাতেই তারা জয়ী হয়েছে, এমনটাই মনে করছেন ক্যাপ্টেন কুল।

এই দুর্দান্ত সাপ-লুডোর উত্তেজনায় ভরা ফাইনাল ম্যাচ দিয়েই শেষ  হল আরও এক আইপিএল মরসুম। থালার মতে দল হিসেবে মরসুমটা ভালোই গিয়েছে সিএসকের। তবে এর পরেও ফিরে গিয়ে তাদের পারফর্ম্যান্স বিশ্লেষণ করতে হবে। কারণ দোনির মনে করছেন খুব ভালো ক্রিকেট তাঁরা এই মরসুমে খেলতে পারেননি। গোটা টুর্নামেন্টেই তাঁদের মিডল অর্ডার ক্লিক করেনি। কিন্তু কোনও ভাবে সেই খামতি পুষিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

সিএসকের বোলিং বিভাগ অবশ্য এই আইপিএল-এ প্রথম ম্যাচ থেকেই দারুণ খেলেছে। সিএসকে অধিনায়কও সেই কথা মেনেছেন। এমনকী ফাইনালের উইকেটও মোটেই ১৫০ রানের উইকেট ছিল না। রোহিত-ডি কক যেভাবে শুরু করেছিলেন, তাতে অনেক বড় রানের ইনিংস হতে পারত। কিন্তু সিএসকে-কে ম্যাচে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন বোলাররা।

ধোনি জানিয়েছেন, শুধু ফাইনালেই নয়, টুর্নামেন্টে যখনই দলের প্রয়োজন হয়েছে, বোলাররা উইকেট তুলে নিয়েছেন। ব্যাটিং-এর ক্ষেত্রেও কেউ না কেউ খেলে দিয়েছেন। ফাইনালেও যেমন বাকিরা ব্যর্থ হলেও একাই টানছিলেন ওয়াটসন। তবে পরের বছর দলের থেকে আরও বেশি ধারাবাহিকতা আশা করছেন ধোনি। আর তার জন্য গভীর ভাবনা-চিন্তার প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।

এখনই অবশ্য সেইসব ভাবনার সময় আসেনি। কারণ আইপিএল গ্রহ থেকে ইতিমধ্য়েই মহেন্দ্র সি ধোনি তাঁর ফোকাস সরিয়ে নিয়েছেন আসন্ন আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপে। ধোনি সাফ জানিয়েছেন বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগে আর সিএসকে নিয়ে মাথা ঘামাবেন না তিনি। বিশ্বকাপ শেষ হলে তারপর আবার চেন্নাই দলের পরের বছরের পরিকল্পনা নিয়ে বসবেন। তে বোলারদের নিয়ে আলোচনার কিছু নেই, মূল ভাবনাটা ব্যাটসম্যানদের নিয়েই। পরের বছর ব্যাটসম্যানরাও সিএসকে বোলারদের মতোই ধারাবাহিকতা দেখান - এটাই চাহিদা সিএসকে-র থালার।

তবে কী পরের বছর সিএসকে-র ব্যাটিং বিভাগে হতে চলেছে বড় ধরণের পরিবর্তন? উত্তর পেতে পরের বছরের আইপিএল নিলাম অবধি অপেক্ষা করা ছাড়া গতি নেই।