ষোলতম ওভারে ২০ রান দিয়েছিলেন লাসিথ মালিঙ্গা। একটিও ইয়র্কার ঠিক জায়গায় পড়েনি। ওই ওভারেই ম্য়াচ অনেকটা সিএসকের দিকে টেনে এনেছিলেন শেন ওয়াটসন-ব্রাভো। তারপরেও শেষ। ওভার তুলে দেওয়া হয় সেই মালিঙ্গারই হাতে। আর শেষ বলে স্লোয়ার ডেলিভারিতে শর্দুল ঠাকুরকে এলবিডব্লু করে ফের নায়ক হয়ে উঠেছেন মালিঙ্গা। কিন্তু শেষ বলে স্লোয়ার দেওয়াটা কি মালিঙ্গার একার সিদ্ধান্ত? না, নেপথ্যে ছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক রোহিত শর্মার মাথাও।

মালিঙ্গা জানিয়েছেন, এবারের টুর্নামেন্টে খুব বেশি স্লোয়ার তিনি ব্যবহার করেননি, বরং জোরের উপরই বল করছিলেন। শেষ বলে সিএসকের জয়ের জন্য দরকার ছিল ২ রান। ১ করতে পারলে ম্য়াচ যেত সুপার ওভারে। তাই তিনি উইকেট নেওয়ার কথা চিন্তা করেছিলেন। আর এখানেই আসেন রোহিত শর্মা।

শর্দুল ঠাকুর ও রোহিত শর্মা দুজনেই মুম্বইয়ের ক্রিকেটার। একই রাজ্য দলে খেলার সুবাদে শর্দুলের খেলা সম্পর্কে যতেষ্ট অবহিত রোহিত। তিনি জানিয়েছেন, শর্দুল কোথায় খেলতে পছন্দ করেন তা তিনি জানতেন। তিনি জানতেন শর্দুল বড় শট খেলতে পারেন। মাঠ পার করার শক্তি তাঁর রয়েছে। কাজেই, তাঁকে জোরে বল দিলে   তিনি মেরে দিতে পারেন। আর এই কথা ভেবেই মালিঙ্গার সঙ্গে আলোচনা করে দুজনে মিলে শেষ বলটি স্লোয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অন সাইড ফাঁকা রাখেন শর্দুলকে প্রলুব্ধ করার জন্য। আর তাতেই হয়ে যায় কামাল।

তবে রোহিত এটাও স্বীকার করে নিয়েছেন, যে এটা একরকম ফাটকা ছিল। স্লোয়ার বলটা শর্দুল বুঝে নিয়ে মেরেও দিতে পারতেন। তবে খেলার মাঠে একটা চালু কথা আছে, সাহসীদের ভাগ্যদেবী সাহায্য করে থাকেন। আর তাই রোহিত -মালিঙ্গার এই সাহসী ফাটকা রবিবার খেটে গিয়েছে।

তবে শেষ ওভারে রোহিত, মালিঙ্গার হাতে বল তুলে দেওয়াতেও অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছিলেন। কারণ মাত্র ওবার দুয়েক আগেই ব্য়াপক মার খেয়েছিলেন মালিঙ্গা। ব্রাভো তাঁকে একটি ছয় মারেন। আর থার্ডম্য়ান এলাকা দিয়ে পর পর তিনটি চার মেরেছিলেন ওয়াটসন। শেষ ওভারে ব্রাভো না থাকলেও স্ট্রাইকে ছিলেন ৭৬ রানে ব্য়াট করা ওয়াটসনই। হাতে ছিল মাত্র ৯ রান। এই অবস্থায় মালিঙ্গার হাতে বল দেওয়ার পিছনে রোহিতের কী ভাবনা কাজ করছিল?

রোহিত জানিয়েছেন, তাঁর মাথার পিছনে ছিল ২০১৭ সালের আইপিএল ফাইনাল। সেই দিন আর রবিবারের ফাইনালের ছবিটা অনেক দিক থেকেই একরকম। খেলা হয়েছিল হায়দরাবাদেই। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ছিল রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস, যার অধিনায়ক ছিলেন ধোনিই। সেই ম্যাচে শেষ ওভারে পুনের দরকার ছিল ১১ রান। রোহিত বল দিয়েছিলেন অভিজ্ঞ অজি জোরে বোলার মিচেল জনসনের হাতে।

সেই দিনের মতো এদিনও মালিঙ্গাকে শেষ ওভার করতে দেওয়ার পিছনে একটিই ভাবনা কাজ করেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়কের মাথায় - অভিজ্ঞতা। রোহিত জানিয়েছেন, আইপিএল ফাইনালের শেষ ওভার - এইরকম চাপের অবস্থায় বল করার অভিজ্ঞতা আছে এমন কাউকেই বল দিতে চেয়েছিলেন তিনি। আর জনসনের মতোই মালিঙ্গাও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন চাপ সামলেছেন বহুবার। আর তাইই মালিঙ্গাকে শেষ ওভারে বল করতে ডাকতে দুইবার ভাবেননি তিনি।