আইপিএল এবং আইসিসি বিশ্বকাপ। দুই ক্রিকেট টুর্নামেন্টের মধ্যে আপাত দৃষ্টিতে তুলনাই হয় না। একটি ভারতের ঘরোয়া টি২০ টুর্নামেন্ট। অপরটি ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট। একটি খেলা হয় টি২০ ফর্ম্য়াটে, অপরটি ৫০ ওভারে। তাই, আইপিএল শুরুর আগেই ভারতীয় নির্বাচকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন বিশ্বকাপের দল বাছাইয়ের সময় আইপিএল-এর ফর্মকে গুরুত্ব দেওয়া হবে না।

অপরপক্ষে আইপিএল প্রতিযোগিতার মানের কথা মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য তৈরি হওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়া তাদের এক বছর নির্বাসিত থাকা দুই ক্রিকেটার স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারকে পাঠিয়েছিল আইপিএল খেলতে। একই কথা মাথায় রেখে ঘরোয়া টুর্নামেন্ট থেকে লাসিথ মালিঙ্গাকে অব্যাহতি দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডও। আইপিএল ২০১৯-এর ফাইনাল শুরুর আগে ভারতের সীমিত ওভারের ক্রিকেটের সহ-অধিনায়ক রোহিত শর্মাও জানিয়েছেন, আইপিএল-এর মতো বড় টুর্নামেন্ট বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিজেদের যাচাই করে নেওয়ার ভালো মঞ্চ।

কাজেই ভারতের জাতীয় নির্বাচকরা যাই বলুন, এশিয়ানেট নিউজ বাংলা বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপের ঠিক আগে আইপিএল-এ কেমন খেললেন তা ফিরে দেখল।


ভারত

আইপিএল-এ ভারতের পক্ষে সবচেয়ে ইতিবাচক দুই নাম হার্দিক পাণ্ডিয়া ও কেএল রাহুল। মাঠের বাইরের বিতর্কে জড়িয়ে যেই দুই জনের বিশ্বকাপ খেলাটাই প্রশ্নের মুখে ছিল, তারাই আইপিএল-এ উজ্জ্বল পারফরম্যান্স করে এই মপসুমের পুরস্কার প্রাপকদের তালিকায় নাম তুলে ফেলেছেন। কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের হয়ে ৬টি অর্ধশতরান ও একটি শতরান সহ ১৩৫.৩৮ স্ট্রাইকরেটে ৫৯৩ রান করেছেন। যা এইবার দ্বিতীয় সর্বাধিক রান।

আর হার্দিক পাণ্ডিয়া  ১৯১-এর উপর স্ট্রাইক রেটে ৪০২ রান করার পাশাপাশি ১৪টি উইকেট ও ১১টি ক্য়াচ নিয়েছেন। একজন অলরাউন্ডারের পক্ষে যা একেবারে স্বপ্নের পারফরম্যান্স বলা যেতে পারে। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন কেন তাঁকে 'গেম চেঞ্জার' বা 'এক্স ফ্যাক্টর' বলা হয়। ধোনিও ধারাবাহিকভাবে মিডল অর্ডারে রান করেছেন। বুমরা ও শামি দুজনেই ১৯টি করে উইকেট তুলেছেন। কিছুটা চিন্তায় রেখেছে কুলদীপের পড়তি ফর্ম। আর বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছেন বিজয় শঙ্কর। ভারতীয় নির্বাচকরা কিন্তু আফশোস করতে পারেন ঋষভ পন্থকে বিশ্বকাপের দলে সামিল না করার জন্য।

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়া যে পরিকল্পনা করে স্মিথ ও ওয়ার্নারকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজে না খেলিয়ে আইপিএল খেলতে পাঠিয়েছিল, তা পুরোপুরি সফল। আইপিএল-এ ৬৯২ রান করে ইতিমধ্যেই বিশ্বের বাকি দলগুলির উদ্দেশ্যে তাঁর প্রত্যাবর্তনের বার্তা পাঠিয়ে দিয়েছেন এই অজি ওপেনার। মূলত তাঁর আর বেয়ারস্টো-র পরাক্রমেই প্রথম দিকে পর পর জয় পেয়েছিল এসআরএইচ। স্টিভ স্মিথ প্রথম দিকে সেভাবে ছন্দ না পেলেও টুর্নামেন্টের শেষের দিকে কিছু ঝলক দেখিয়েছিলেন। যা এখন ফর্ম হয়ে ফুটছে অনুশীলন ম্যাচে।

ইংল্যান্ড

সানরাইজার্স দলে ওয়ার্নারের থেকেও বেশি স্ট্রাইক রেট রেখে খেলেছেন জনি বেয়ারস্টো। তিনি এইবারের আইপিএল-এ সবচেয়ে সফল ইংরেজ ক্রিকেটার। ব্যাটে বলে দারুণ সফল হয়েছেন মইন আলিও। রাজস্থান রয়্যাল-এর হয়ে সবচেয়ে ভালো স্ট্রাইক রেট ছিল জস বাটলার-এর। বরং ততটা সফল নন বেন স্টোকস।

দক্ষিণ আফ্রিকা

এইবারের আইপিএল শুরুর আগে দুই ভারতীয় স্পিনার কুলদীপ ও চাহালকে নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও তাঁদের মঞ্চে বাজিমাত করে গিয়েছেন এক ৪০ বছর বয়সী দক্ষিণ আফ্রিকান লেগ স্পিনার। ২৭ টি উইকেট নিয়ে তিনিই এইবারের আইপিএল-এর পার্পল ক্যাপ বিজয়ী। আর এই বেগুনি টুপি জেতার জন্য তাঁর লড়াই ছিল স্বদেশীয় জোরে বোলার কাগিসো রাবাডার সঙ্গে। ২৫টি উইকেট নিয়েছেন তিনিও। সেই সঙ্গে কেকেআর-এর বিরুদ্ধে সুপার ওভারে তাঁর করা ইয়র্কারটি আইপিএল-এর ইতিহাসে থাকবে। ব্য়াটসম্য়ানদের মধ্য়ে ডি কক ও ডুপ্লেসিস ছাড়া বাকিদের সেই অর্থে সফল বলা যায় না।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ

আইপিএল-এ বরাবরই ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটাররা আলাদা মাত্রা যোগ করে থাকেন। 'বুড়ো' গেইল, ব্রাভোরা মোটামুটি খেললেও সবাইকে ছাপিয়ে গিয়েছেন আন্দ্রে রাসেল। ৫১০ রান করে ও ১১ উইকেট নিয়ে তিনিই এইবারের আইপিএল-এর সবচেয়ে মূল্যূবান ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন। সম্ভবত এইমুহূর্তে জীবনের সেরা ফর্মে  আছেন তিনি। আর বিশ্বকাপে কিন্তু কেকেআর-এর মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে একা টানতে হবে না তাঁকে। শেষ ম্য়াচে আরসিবির হয়ে ফর্মে পেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন তরুণ প্রতিভা শিমরন হেটমায়ার-ও।

নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে কিন্তু এই আইপিএল-এ বলার মতো কেউই কিছু করতে পারেননি। আইপিএল-এর শুরুতে আট দলের মধ্যে একমাত্র বিদেশী অধিনায়ক ছিলেন সানরাইজার্স দলের অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসন। বর্তমান বিশ্বের ফ্যাব ফোর-এর একজন কেইন কিন্তু আইপিএল ২০১৯-এ একেবারে ব্যর্থ। স্যান্টনার, লোকি ফার্গুসন, বোল্ট, সাউদি, ম্যাকক্লেনাঘান কেউই দলে জায়গা পাকা করতে পারেননি।

আফগানিস্তান

আইপিএল-এ সানরাইজার্স হায়দারাবাদ দলের হয়ে এইবারের আইপিএল-এ কিন্তু ততটাও বিষাক্ত মনে হয়নি আফগানিস্তানের জোড়া স্পিনার মহম্মদ নবি ও রশিদ খান-কে। দুজনেই উইকেট পেলেও মাঝে মধ্যেই  মার খেয়ে গিয়েছেন, যা তাঁদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়।

শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে এখন যুগ পরিুবর্ত চলছে। এখনই তাদের দল বিশ্বকাপে দারুণ কিছু করার জন্য তৈরি নয়। তবে আইপিএল ফাইনাল কিন্তু দেখিয়ে দিয়েছে বড় মঞঅচে এখনও কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারেন মালিঙ্গা।