চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে হেরে আইপিএল ২০২০ থেকে বিদায় নিল কিংস ইলেভেন পঞ্জাব। অপরদিকে শেষ ম্য়াচ জিতে হাসি মুখে মরসুম শেষ করল এমএস ধোনির দল।  প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৫৩ রান করে পঞ্জাব। জবাবে ৭ বল বাকি থাকতেই ৯ উইকেটে ম্য়াচ জিতে নেয় সিএসকে। সিএসকের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। এই ম্যাচ দিয়েই ২০২০ আইপিএল অভিযান শেষ করল পঞ্জাব ও চেন্নাই। এদিন টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সিএসকে অধিনায়ক এমএস ধোনি। পঞ্জাবের হয়ে এদিন ওপেন করতে নেমে শুরুটা ভালই করেন দুই ওপেনার কেএল রাহুল ও মায়াঙ্ক আগরওয়াল। ষষ্ঠ ওভারে ভাঙে তাদের পার্টনারশিপ। লুঙ্গি এনগিডির বলে বোল্ড হন মায়াঙ্ক আগরওয়াল। ২৬ রান করেন তিনি। ৬ ওভারের পাওয়ার প্লের শেষ পঞ্জাবের স্কোর দাঁড়ায় ৫৩ রানে ১ উইকেট। প্রথম উইকেট পড়ার পরই ম্যাচে ফেরে সিএসকে। আঁটোসাটো বল করতে শুরু করেন শার্দুল ঠাকুর, লুঙ্গি এনগিডি, ইমরান তাহিররা। ক্রিস গেইল ও কেএল রাহুল পার্টনারশিপ গড়ার চেষ্টা করলেও তারা ব্যর্থ হন। নবম ওভারে দ্বিতীয় উইকেট পড়ে পঞ্জাবের। কেএল রাহুলকে বোল্ড করেন এনগিডি। ২৯ রান করেন পঞ্জাব অধিনায়ক। ১০ ওভার শেষে পঞ্জাবের স্কোর দাঁড়ায় ৬৫ রানে ২ উইকেট।

এরপর নিকোলাস পুরান নামলেও তিনি বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। ১১ তম ওভারেই ২ রান করে শার্দুল ঠাকুরের শিকার হন তিনি। ১২ তম ওভারেই চতুর্থ উইকেটের পতন হয় পঞ্জাবের। ১২ রান করে ইমরান তাহিরের শিকার হন তিনি। এরপর পঞ্জাবের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান মনদীপ সিং ও দীপক হুডা। ১৫ ওভারের শেষে পঞ্জাবেরস্কোর দাঁড়ায় ৯৫ রানে ৪ উইকেট। ১৭ তম ওভারে পঞ্চম উইকেট পড়ে পঞ্জাবের। রবীন্দ্র জাদেজার বলে ১৪ রান করে আউট হন মনদীপ সিং। ১৮ তম ওভারে আরও একটি উইকেট পরে পঞ্জাবের। জিমি নিশামকে ২ রানে আউট করে নিজের তৃতীয় উইকেট নেন এনগিডি। অপরদিক থেকে আক্রমণাত্বক ব্যাটিং চালিয়ে যান দীপক হুডা। ১৮ ওভার শেষে পঞ্জাবের স্কোর দাঁড়ায় ১২৯ রানে ৬ উইকেট। ১৯ তম ওভার নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন দীপক হুডা। মাত্র ২৬ বলে ৫০ রান করেন তিনি। ১৯ ওভার শেষে পঞ্জাবের স্কোর দাঁড়ায় ১৩৯। শেষে ওভারে ১৪ রান আসে পঞ্জাবের। ২০ ওভার শেষে পঞ্জাবের স্কোর দাঁড়ায় ১৫৩ রানে ৬ উইকেট। চেন্নাই সুপার কিংসের টার্গেট ১৫৪ রান।

রান তাড়া করতে দুরন্ত শুরু করেন চেন্নাই সুপার কিংসের দুই ওপেনার ফাফ ডুপ্লেসি ও ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। পাওয়ার প্লে-তেই শামি, নিশাম, জর্ডানদের একের পর এক আক্রমণাত্বক শট খেলেন ডুপ্লেসি ও ঋতুরাজ। বিশেষ করে এদিন বেশি আক্রমণাত্ব মেজাজে ব্যাট করেন ফাফ ডু্প্লেসি। পাওয়ার প্লেতেই নিজেদের মধ্যে অর্ধশতরানের পার্টনারশিপ পূরণ করেন দুজন। ৬ ওভার শেষে সিএসকের স্কোর দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৫৭ রান। পাওয়ার প্লের পরও নিজেদের পার্টনারশিপ এগিয়ে যায় চেন্নাউ দুই ওপেনারেরে অনবদ্য ব্যাটিং। অবশেষে দশং ওভারে গিয়ে প্রথম উইকেট পড়ে সিএসকের। ক্রিস জর্ডানের বলে ৩৪ বললে ৪৮ রান করে আউট হন তিনি। ১০ ওভার শেষে সিএসকের স্কোর দাঁড়ায় ৮৪ রানে ১উইকেট। এরপর চেন্নাইয়ের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান অম্বাতি রায়ডু ও ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। ভাল ফর্মে থাকার প্রমাণ দিয়ে এদিনও অনবদ্য ইনিংস খেলেন ঋতুরাজ।  ১৩ ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ১০৬ রানে ১ উইকেট। ১৫ ওভার শেষে সিএসকেরস্কোর দাঁড়ায় ১১৮ রানে ১ উইকেট।

১৬ তম ওভারে নিজের অর্ধশতরান পূরণ করেন ঋতুরাজ। এই নিয়ে টানা তৃতীয় ম্যাচে অর্ধশতরান করলেন সিএসকের তরুণ তুর্কি। ১৬ ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ১৩০। অপরদিক থেকে উইকেট বাঁচিয়ে নিজের ইনিংসও এগিয়ে নিয়ে যান সিএসকে মিডল অর্ডারের ভরসা অম্বাতি রায়ডু। ১৭ ওভার শেষে সিএসকের স্কোর দাঁড়ায় ১৩৮ রানে ১ উইকেট। ১৮ তম ওভারে জয়ের আরও কাছে পৌছে যায় সিএসকে। স্কোর দাঁড়ায় ১৪৯ রানে ১ উইকেট। ১৯ তম ওভারে জয়ের লক্ষ্যে পৌছে যায় সিএসকে। ৭ বল বাকি থাকতেই ৯ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় এমএস ধোনির দল। ম্যাচ শেষে ৬২ রানে  অপরাজিত থাকেন ঋতুরাজ গায়কোয়াড় ও ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন অম্বাতি রায়ডু। এই জয়ের ফলে আইপিএল থেকে বিদায় নিল পঞ্জাব ও জয় মরসুম শেষ কর সিএসকে।