আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে শেষ চারের পথ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল কলকাতা নাইট রাইডার্সের। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৭২ রান করে কলকাতা নাইট রাইডার্স। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৭ রান করেন নীতিশ রানা। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে ৭২ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন ঋুতুরাজ গায়কোয়াড়। এছাড়া শেষে ৩১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন জাদেজা।  ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় এমএস ধোনির দল।এদিন টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সিএসকে অধিনায়ক এমএস ধোনি। এদিন কেকেআরের হয়ে ওপেন করেন শুভমান গিল ও নীতিশ রানা। উইকেট বাঁচিয়ে আক্রমণাত্বক শট খেলেন তারা। প্রথম পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেট ৪৮ রান করে কেকেআর। পাওয়ার প্লের পর নিজেদের মধ্যে অর্ধশতরানের পার্টনারশিপও পূরণ করেন  শুভমান গিল ও নীতিশ রানা।  কিন্তু অষ্টম ওভারে ভাঙে তাদের পার্টনারশিপ। দলের ৫৩ রানের মাথায় করণ শর্মার বলে আউট হন শুভমান গিল। ২৬ রান করেন তিনি। এরপর তাড়াতাড়ি রান তোলার জন্য নারিনকে নামানো হয়। কিন্তু নিরাশ করেন তিনি। মিচেল স্যান্টনারের  বলে ৭ রান করে আউট হন নারিন। এরপর রিঙ্কু সিং নামলেও ব্যর্থ হন তিনি  ১৩ তম ওভারে রবীন্দ্র জাদেজার বলে ১১ রান করে আউট হন রিঙ্কু সিং। এরপর ক্রিজে আসেন ইয়ন মর্গ্যান। 

অপরদিক থেকে নিজের ইনিংস চালিয়ে যান নীতিশ রানা। ১৪ তম ওভারে নিজের অর্ধশতরান করেন তিনি। ৪৪  বলে পূরণ করেন হাফ সেঞ্চুরি। ১৫ ওভার শেষে কেকেআরের স্কোর দাঁড়ায় ১০৬ রানে ৩ উইকেট। শেষ ৫ ওভারে রানের গতিবেগ বাড়ানোর চেষ্টা করেন ইয়ন মর্গ্যান ও নীতিশ রানা। ১৭ ওভার শেষে কেকেআরের স্কোর দাঁড়ায় ১৩৬ রানে ৩ উইকেট। কিন্তু ১৮ তম ওভারের প্রথম বলে আউট হন নীতিশ রানা। লুঙ্গি এনগিডির বলে ৮৭ রান করে আউট হন তিনি। এরপর নামে দীনেশ কার্তিক। ১৮ ওভারের শেষে নাইটদের স্কোর দাঁড়ায় ১৫০ রানে ৪ উইকেট। শেষে ঝোড়ো ইনিংস খেলেন দীনেশ কার্তিক। বেশ কয়েকটি বাউন্ডারি মারেন তিনি। ১৯ তম ওভারে আসে ১৩ রান। শেষ ওভারে লুঙ্গি এনগিডির বলে আউট হন ইয়ন মর্গ্যান। ১৫ রান করেন কেকেআর অধিনায়ক। শেষ ওভারে আসে ৯ রান। ২০ ওভারের কেকেআরের ইনিংস শেষ হয় ৫ উইকেটে ১৭২ রানে। 

১৭৩ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে সাবধানী শুরু করেন সিএসকের দুই ওপেনার শেন ওয়াটসন ও ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। ধীরে ধীরে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান তারা। ঋতুরাজ এদিন তার ফর্মে থাকার প্রমাণ দেন বেশ কিছু আক্রমণাত্বক শট খেলেন তিনি। পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষে চেন্নাই সুপার কিংসের স্কোর দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৪৪ রান। এরপরও নিজেদের পার্টনারশিপ চালিয়ে যান সিএসকের দুই ওপেনার। অর্ধশতরানের পার্টনারশিপও করেন তারা। কিন্তু অষ্টম ওভারে কেকেআরকে প্রথম উইকেট এনে দেন বরুণ চক্রবর্তী। ১৪ রান করে আউট হন শেন ওয়াটসন। এরপর ক্রিজে নামেন অম্বাতি রায়ডু।সিএসকের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু করেন তারা। ১০ ওভার শেষে সিএসকের স্কোর দাঁড়ায় ৭৭ রানে ১ উইকেট। বিশেষ করে আক্রমণাত্বক ব্যাটিং শুরু করেন অম্বাতি রায়ডু। অপরদিকে ১২ তম ওভারে নিজের অর্ধশতরান পূরণ করেন ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। একইসঙ্গে পূরণ হয় দলের শতরানও। ১৩ ওভার শেষে সিএসকের স্কোর দাঁড়ায় ১০৯ রানে ৩ উইকেট। 

ঋতুরাজ ও রায়ডুর পার্টনারশিপ ধীরে ধীরে চেন্নাইকে জয়ের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। ১৪ তম ওভারে দ্বিতীয় উইকেট পড়ে সিএসকের। প্যাট কামিন্সের বলে আউট হন রায়ডু। ২০ বলে ৩৮ রান করেন তিনি। ১৫ তম ওভারে কেকেআরকে ফের সাফল্য এনে দেন বরুণ চক্রবর্তী। ১ রান করে তার বলে আউট হন ধোনি। ১৫ ওভার শেষে সিএসকের স্কোর দাঁড়ায় ১২১ রানে ৩ উইকেট। এরপর সিএসকের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান ঋতুরাজ ও স্যাম কুরান। ১৭ ওভার শেষে সিএসকের স্কোর দাঁড়ায় ১৩৯ রানে ৩ উইকেট।  ১৮ তম ওভারে প্যাট কামিন্সের বললে বোল্ড হন ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। ৫৩ বললে ৭২ রান করেন তিনি। ১৮ তম ওভারে মাত্র ৪ রান দেন কামিন্স। শেষ দু ওভারে সিএসকের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৩০ রান। ১৯ তম ওভারে দুরন্ত ব্য়াটিং করেন জাদেজা। লকি ফার্গুসনকে ১ ওভারে ২০ রান আসে। শেষে ওভারেও অনবদ্য ব্যাট করেন জাদেজা। শেষ দু বলে ৭ রান বাকি থাকার সময়, পরপর দুটি ছয় মেরে ম্যাচ শেষ করেন জাড্ডু। ১১ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন জাদেজা। ৫ উইকেটে শুধু ম্যাচ জেতা নয়, সিএসকের জয়ে শেষ চারে কোয়ালিফাই করে গেল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। এই ম্যাচ হারের ফলে কেকেআরের শেষ চারে ওঠা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।