আজ আইপিএল ফাইনালে মুখোমুখি প্রথমবার ফাইনালে ওঠা দিল্লি ক্যাপিটালস ও চারবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। রোহিত শর্মার দল আইপিএলের ইতিহাসেও অন্যতম সেরা। এবারের আইপিএলে গ্রুপ লিগ ও প্লে অফ মিলে মোট তিনবার দিল্লির মুখোমুখি হয়েছে মুম্বই। তিনবারই জয় পেয়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। প্রথম ম্যাচে পাঁচ উইকেট, দ্বিতীয় ম্যাচে ন'উইকেটে হারানোর পরে প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে মুম্বই জিতেছিল ৫৭ রানে। তাই ফাইনালে মুম্বইকেই হট ফেভারিট মানছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু হাল ছাড়তে নারাজ দিল্লিও। প্লেয়াররা তো বটেই দলকে যেনতেন প্রকারে চ্যাম্পিয়ন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন দিল্লির কোচ রিকি পন্টিং। তাই অস্ট্রেলিয় ঘরানা বজায় রেখে ম্য়াচের আগে মাইন্ড গেম শুরু করে দিলেন পন্টিং। মুম্বইকেও ফাইনাল ম্যাচের আগে প্রকারন্তরে হুঁশিয়ারীও দিয়ে রাখলেন প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক। পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছাড়া কিছুই ভাবছেন না তিনি ও তার দল।

নিজে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক থাকাকালীন দেশকে দুবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে সবথেকে সফল অধিনায়কের পাশাপাশি বিশ্বের সফল অধিনায়কদের মধ্যেও তার স্থান উপরের সারিতে। খেলোয়ার জীবনে তিনি বিপক্ষকে কোনও দিন অক ইঞ্চিও জনমি ছাড়েননি। ম্যাচ জেতার জন্য বিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়াই করার পাশাপাশি, স্লেজিং, মাঠের বাইরে মাইন্ড গেম সব কিছুই করতেন পন্টার। বর্তমানে দিল্লি ক্যাপিটালসের কোচ হিসেবেও ট্রফির এত কাছে এসে ট্রফি হাতছাড়া করতে নারাজ তিনি। ফাইনালের আগে পন্টিং বলেন, ‘আমিরশাহিতে উপস্থিত দলের প্রত্যেক সদস্যের থেকে আমার ভালোরকম প্রত্যাশা রয়েছে। আমাদের দল খুব শক্তিশালী। আমাদের শুরুটা খুব ভাল হয়েছিল। তারপর শেষের দিকে এসে আমরা কিছুটা চাপে পড়ে যাই‌। কিন্তু ছেলেরা খুব ভাল সামলে নিয়েছে। শেষ দু’ম্যাচে তারা তাদের সেরাটা নিংড়ে দিয়েছেন। আমি জানি ফাইনালের জন্য আমরা আমাদের সেরা খেলাটা তুলে রেখেছি‌। আমরা এখানে টুর্নামেন্ট জিততে এসেছি। তার জন্য আমরা অল আউট ঝাঁপাব।'

খেলার আগে কোনও দিন হার মানতে রাজি ছিলেন না রিকি পন্টিং। কোচ হিসেবেও তার দলের মধ্যেও সেই মন্ত্রই দিতে চাইছেন রিকি। দিল্লি ক্যাপিটালসের প্লেয়ারদের মধ্যে ফাইনালে নিজেদের সেরাটা উজার করে দেওয়ার মনোভাব দেখা যাচ্ছে। আইপিএলে ১২ বছরের ইতিহাসে কখনও ফাইনাল পর্যন্ত পৌছতে পারেনি দিল্লির দল। তাই ফাইনাল জিতে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ও ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে মরিয়া শ্রেয়স আইয়র, শিখর ধওয়ান, ঋষভ পন্থ, রবি অশ্বিন, স্টয়নিস, রাবাডা, নকিয়ারা।