শারজায়  রাজস্থান রয়্যালসকে ৪৬ রানে হারিয়ে গ্রু টেবিলের শীর্ষে পৌছে গেল দিল্লি ক্যাপিটালস। অপরদিকে টানা চার ম্যাচে হারল স্টিভ স্মিথের দল। প্রথমে ব্য়াট করে ২০ ওভারে ১৮৪ রান করে দিল্লি। জবাবে রাজস্থান রয়্যালসের ইনিংস শেষ হয় ১৩৮ রানে। এদিন টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। শারজার ছোট মাঠেও এই প্রথম কোনও টিম শুরুতে দুরন্ত বোলিং করেন। দ্বিতীয় ওভারেই জোফ্রা আর্চারের বলে আউট হন শিখর ধওয়ান। মাত্র ৫ রান করেন তিনি। পঞ্চম ওভারে আরও একটি উইকেট নেন জোফ্রা আর্চার। এবার তার শিকার হন পৃথ্বী শ। ১৯ রান করেন তিনি। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তৃতীয় উইকেট পড়ে শ্রেয়স আইয়রের। তাকে দুরন্ত রান আউট করেন যশশ্বী জয়সওয়াল। দিল্লির অধিনায়ক করেন ২২ রান। ৬ ওভার শেষে দিল্লির স্কোর দাঁড়ায় ৫১ রানে ৩ উইকেট। এরপর ইনিংসের রাশ সামলানোর চেষ্টা করেন মার্কাস স্টয়নিস ও ঋষভ পন্থ। কিন্তু দশম ওভারে রান আউট হয়ে প্যাভেলিয়নে ফেরত যান পন্থ। ৫ রান করেন তিনি। ১০ ওভার শেষে দিল্লির স্কোর দাঁড়ায় ৮৭ রানে ৫ উইকেট। 

এরপর ক্রিজে নেমে স্টয়নিসের সঙ্গে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান শেমরন হেটমায়ার। ৩০ রানের পার্টনারশিপও করেন তারা। কিন্ত ম্যাচের ১৪ ওভারে তেওয়াটিয়ার বলে কাট মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন স্টয়নিস। ৩৯ রান করেন তিনি। লাগাতার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দিল্লির ব্যাটিং। ১৫ ওভার শেষে দিল্লির স্কোর দাঁড়ায় ১২২ রানে ৫ উইকেট। ১৫ ওভারের পর আক্রমণাত্বক রূপ নেন শেমরন হেটমায়ার। ১৬ তম ওভারে আসে ১৩ রান। ১৭ তম ওভারেও পরপর দুটি ছয় মারেন হেটমায়ার। কিন্তু তৃতীয় ছয় মারতে গিয়ে কার্তিক ত্যাগির বলে আউট হন তিনি। ২৪ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ১৭ ওভার শেষে দিল্লির স্কোর ১৪৯ রানে ৬ উইকেট। ১৯ তম ওভারে বিধ্বংসী ব্যাটিং করেন অ্যাক্সর প্যাটেল। তবে অ্যান্ড্রু টাইয়েক শেষ বলে আউট হন অ্যাক্সর প্যাটেল। ৮ বলে ১৭ রান করেন তিনি। ওভার শেষে দিল্লির স্কোর দাঁড়ায় ১৮১ রানে ৭ উইকেট। ২০ তম ওভারে আরও একটি উইকেট পড়ে দিল্লির হ্যারশলল প্যাটে আউট হন ১৬ রানে। ২০ ওভার শেষে দিল্লি ক্যাপিটালসের স্কোর দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১৮৪ রান।

১৮৪ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় রাজস্থান রয়্যালস দল। তৃতীয় ওভারেই প্রথম উইকেট পড়ে রাজস্থানের। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে আউট হন জস বাটলার। ১৩ রান করেন তিনি। এরপর ইনিংসের রাশ কিছুটা ধরার চেষ্টা করেন যশশ্বী জয়সওয়াল ও অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। খুব একটা আক্রমণাত্বক ইনিংস না খেললেও, ধীরে ধীরেইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান তারা। পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষে দিল্লির স্কোর দাঁড়ায় ৪১ রানে  ১ উইকেট। পাওয়ার প্লের পরও পার্টনারশিপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন স্মিথ ও জয়সওয়াল জুটি। কিন্তু নবম ওভারে নর্ৎজের বলে বড় হিট করতে গিয়ে আউট স্টিভ স্মিথ। ২৪ রান করেন তিনি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপ বাড়তে থাকে রাজস্থান রয়্যালস ব্যাটসম্যানদের উপর। এরপর ক্রিজে আসেন সঞ্জু স্যামসন।  যশশ্বী জয়সওয়ালের সঙ্গে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। ১০ ওভার শেষে রাজস্থানের স্কোর দাঁড়ায় ৬৫ রানে ২ উইকেট। 

যশশ্বী জয়সওয়াল ও সঞ্জু স্যামসনের জুটিও  বেশিক্ষণ কাজ করেনি। ১১ তম ওভারেই মার্কাস স্টয়নিসের বলে আউট হন সঞ্জু। করেন ৫ রান। ১২ তম ওভারে পঞ্চম উইকেটের পতন হয় রাজস্থানের। অশ্বিনের বলে  ১ রান করে আউট হন লোমর। ১৩ তম ওবারে পঞ্চম উইকেট পড়ে রাজস্থানের। মার্কাস স্টয়নিসের বলে আউট হন যশশ্বী জয়সওয়াল। তিনি করেন ৩৪ রান। ১৪ তম ওভারে ফের একটি উইকেট পড়ে। অ্যাক্সর প্যাটেলের বলে ৬ রান করে আউট হন অ্যান্ড্রু টাই। ১৫ তম ওভারে রাবাডার বলে আউট হন জোফ্রা আর্চার। তিনি করেন ২ রান। ১৫ ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ১০১ রানে ৭ উইকেট। এরপর ইনিংস কার্যত একা টেনে নিয়ে যান রাহুল তেওয়াটিয়া। ১৭ ওভার শেষে রাজস্থানের স্কোর দাঁড়ায় ১২০ রানে ৭ উইকেট। ১৮ তম ওভারে আউট হন শ্রেয়স গোপাল। হার্শল প্যাটেলের বলে আউট হন তিনি। অপরদিকে থেকে ইনিংস চালিয়ে যান তেওয়াটিয়া। শেষ ওভারে রাবাডার প্রথম বলে আউট হন তেওয়াটিয়া। ৩৮ রান করেন তিনি। রাজস্থানের শেষ উইকেট ১৩৮ রানে। রাবাডার বলে ১ রান করে আউট হন বরুণ অরুণ। ৪৬ রানে ম্য়াচ জিতে নেয় দিল্লি ক্যাপিটালস। এই জয়ের ফে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে পৌছে খুশি শ্রেয়স আইয়রের দল।