আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে ৬ উইকেটে হারাল দিল্লি ক্যাপিটালস। একইসঙ্গে গ্রুপ টেবিলের দ্বিতীয় দল হিসেবে প্লে অফে পৌছে গেল শ্রেয়স আইয়রের দল। এদিন প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৫২ রান করে আরসিবি। দলের হয়ে হাফ সেঞ্চুরি করেন দেবদূত পাড়িকল। রান তাড়া করতে নেমে দিল্লির হয়ে জোড়া হাফ সেঞ্চুরি করেন শিখর  ধওয়ান ও অজিঙ্কে রাহানে। ৬ বল বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌছে যায় দিল্লি ক্যাপিটালস। এদিন টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়র। আরসিবির হয়ে ওপেন করতে নেমে একটু ধীর গতিতে শুরু ককরেন আরসিবির দুই ওপেনার দেবদূত পাড়িকল ও জস ফিলিপে। কিন্তু পঞ্চম ওভারে ২৫ রানের মাথায় কাগিসো রাবাডার বলে ব্যক্তিগত ১২ রান করে আউট হন জোস ফিলিপে। এরপর ক্রিজে আসেন আরসিবি অধিনায়ক বিরাট কোহলি। দেবদূত পাড়িকলের সঙ্গে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। ৬ ওভারের পাওয়ার প্লে শেষে আরসিবির স্কোর দাঁড়ায় ৪০ রানে ১ উইকেট। পাওয়ার প্লের পরও পার্টনারশিপ এগিয়ে নিয়ে যান দুই ব্যাটসম্যান। তবে দিল্লির বোলারদের আঁটোসাটো বোলিংয়ের কাছে দ্রুত গতিতে রান তুলতে পারেননি কোহলি ও পাড়িকল। ১০ ওভার শেষে বিরাট ব্রিগেডের স্কোর দাঁড়ায় ৬০ রানে ১ উইকেট। 

৪২ রানের পার্টনারশিপ করার পর ১৩ তম ওভারে দলের ৮২ রানের মাথায় রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে আউট হন বিরাট কোহলি। তিনি করেন ২৪ রান। ১৫ তম ওভারে নিজের অর্ধশতরানও পূরণ করেন পাড়িকল। ওভার শেষে আরসিবির স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১০৩ রান। ১৬ তম ওভারে দুরন্ত বোলিং করেন আনরিখ নকিয়া। আরসিবিকে জোড়া ধাক্কা দেন তিনি। প্রথমে দেবদূত পাড়িকল ও পরে খাতা না খুলেই আউট হন ক্রিস মরিস। ১৭ ওভার শেষে আরসিবির স্কোর হয় ১১৭ রানে ৪ উইকেট। ১৮ তম ওভারে রানের গতিবেগ বাড়ান ডিভিলিয়ার্স ও শিবম দুবে। ওভার থেকে আসে ১৭ রান। ১৯ তম ওভারের শুরতেই একটি বিশাল ছক্কা হাঁকান এবিডি। কিন্তু ওভারের শেষ বলে রাবাডার শিকার হন শিবম দুবে। ১৭ রান করে আউট হন তিনি। ১৯ ওভার শেষে আরসিবির স্কোর দাঁড়ায় ১৪৫ রানে ৫ উইকেট। ২০ তম ওভারের প্রথম বলেই রান আউট হন ডিভিলিয়ার্স। ৩৫ রান করেন তিনি। এরপর ক্রিজে একটি চার মেরে আউট হয়ে যান ইশুরু উদানাও। ২০ ওভার শেষে আরসিবির স্কোর দাঁড়ায় ১৫২ রানে ৭ উইকেট।

১৫৩ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভাল হয়নি দিল্লি ক্যাপিটালসের। দ্বিতীয় ওভারে দলের ১৯ রানের মাথায় মহম্মদ সিরাজের বলে বোল্ড হয়ে প্যাঙেলিয়নে ফেরত যান পৃথ্বী শ। ৯ রান করেন তিনি। এরপর দিল্লির ইনিংসের রাশ ধরেন অজিঙ্কে রাহানে ও শিখর ধওয়ান। রাহানে একটু ধীর গতিতে খেললেও, আক্রমণাত্বক ইনিংস খেলা শুরু করেন গব্বর। পাওয়ার প্লে তে বেশ কয়েকটি আক্রমণাত্বক শট খেলেন দুই তারকা ব্যাটসমান।  ৬ ওভার শেষে দিল্লি স্কোর দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৫৩ রান। পাওয়ার প্লের পরও নিজদের পার্টনারশিপ এগিয়ে নিয়ে যান রাহানে ও ধওয়ান। বাজে বল পেলে প্রহারও করেন তারা। নবম ওভারে নিজেদের অর্ধশতরানের পার্টনারশিপও পূরণ করেন ধওয়ান-রাহানে জুটি। ১০ ওভার শেষে দিল্লির স্কোর দাঁড়ায় 
৮১ রানে ১ উইকেট। এরপর নিজের অর্ধশতরান পূরণ করেন শিখর ধওয়ান। একইসঙ্গে রানের গতিবেগ বাড়ান অজিঙ্কে রাহানেও। ১৩ তম ওভারে শত রানের গণ্ডি পার করে দিল্লি। কিন্তু একই ওভারে শাহবাজ আহমেদের বলে আউট হন ধওয়ান। তিনি করেন ৫৪ রান। এরপর ক্রিজে আসেন শ্রেয়স আইয়র। ১৫ তম ওভারে নিজের অর্ধশতরান পূরণ করেন অজিঙ্কে রাহানে। ওভার শেষে দিল্লির স্কোর দাঁড়ায় ১২১ রানে ২ উইকেট।

শ্রেয়স আইয়র ও অজিঙ্কে রাহানে মিলে ঠাণ্ডা মাথায় দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ১৭ তম ওভারে তৃতীয় উইকেটের পতন হয় দিল্লির। শাহবাজ আহমেদের বলে ৭ রান করে আউট হন শ্রেয়স আইয়র। এরপর ক্রিজে আসেন ঋষভ পন্থ। ১৭ ওভার শেষে দিল্লির স্কোর দাঁড়ায় ১৩৪ রানে ৩ উইকেট। ১৮ তম ওভারে আরও একটি উইকেটের পতন হয়। ৬০ রান করে ওয়াশিংটন সুন্দরের শিকার হন ওয়াশিংটন সুন্দর। এরপর ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান মার্কাস স্টয়নিস ও ঋষভ পন্থ।  ১৯ তম ওভারে একটি বিশাল ছক্কা হাঁকান স্টয়নিস। ১৯ ওভারের শেষ বলে চার মেরে খেলা শেষ করেন ঋষভ পন্থ। ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় দল হিসেবে প্লে অফে পৌছে গেল দিল্লি। অপরদিকে রান রেটের বিচারে তৃতীয় দল হিসেবে প্লে অফে কোয়ালিফাই করল আরসিবিও। মঙ্গলবার সানরাইজার্স ও মুম্বই ম্য়াচে নির্ধারাতি হবে চতুর্থ দল হিসেবে কারা যাবে প্লে অফে। সানরাইজার্স জিতলে তারা চলে যাবে প্লে অফে। আর মুম্বই জিতলে কোয়ালিফাই করবে কেকেআর।