নজরুল দাবি করেছেন যে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি সরকার নয়, ক্রিকেটাররা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়েছিল।
বাংলাদেশ সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিতর্কের বিষয়ে এক আশ্চর্যজনক ইউ-টার্ন নিয়েছেন। নজরুল দাবি করেছেন যে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি সরকার নয়, ক্রিকেটাররা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়েছিল। এই মন্তব্যটি অবাক করার মতো। কারণ, অতীতে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলির জন্য ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ সরকার নিয়েছিল। নিরাপত্তার উদ্বেগ উল্লেখ করে তিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিসিবি কর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছিলেন। তবে মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে খেলোয়াড়দের এই বিষয়ে খুব বেশি কিছু বলার ছিল না।
আগে কী বলেছিলেন নজরুল
গত ২২ জানুয়ারি আসিফ নজরুল বলেন, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল কেবল খেলোয়াড়দের কাছে ব্যাখ্যা করা যে সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তাঁদের প্রেক্ষাপট জানানো। আমার বিশ্বাস তাঁরা বুঝতে পেরেছেন। এটাই উদ্দেশ্য ছিল। অন্য কিছু নয়। আমি মনে করি আমরা আইসিসির কাছ থেকে ন্যায়বিচার পাইনি। আমরা বিশ্বকাপ খেলব কি খেলব না তা সম্পূর্ণরূপে সরকারের সিদ্ধান্ত।'
এখনকার দাবি
তবে, নজরুল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে তাঁর অবস্থান সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করেছেন। আসিফ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, 'বিশ্বকাপ না খেলার জন্য অনুশোচনার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। বিসিবি এবং খেলোয়াড়রা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারণ তারা দেশের ক্রিকেটের সুরক্ষা, জনগণের সুরক্ষা এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে।'
নিরাপত্তার কারণে আইসিসিকে তাদের ম্যাচগুলি ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করার অনুরোধ করেছিল বিসিবি, কিন্তু টুর্নামেন্টের সূচিতে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের বিতর্কের পর, আইসিসি বাংলাদেশকে শাস্তি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বিষয়ে নজরুল বলেন, 'আইসিসি বলেছে যে কোনও নিষেধাজ্ঞা থাকবে না এবং বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য বিবেচনা করা হবে। এটি একটি দুর্দান্ত অর্জন। আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে সালাম জানাই।'

