আইপিএলের ষষ্ঠ ম্য়াচে প্রথম একপেশে ম্য়াচ দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। প্রথমে ব্য়াট করে ২০৭ রান করে কিংস ইলেভেন পঞ্জাব। ৬৯ বলে ১৩২ রানের স্মরণীয় ইনিংস খেলেন পঞ্জাবের অধিনায়ক কেএল রাহুল। জবাবে আরসিবির ইনিংস শেষ হয়ে যায় মাত্র ১০৯ রান। এদিন টসে জিতে এদিন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ও কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আরসিবি অধিনায়ক। পঞ্জাবের হয়ে ওপেনিংয়ে নেমে দুরন্ত  শুরু করেন কেএল রাহুল ও মায়াঙ্ক আগরওয়াল। প্রথম থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ব্য়াট করতে থাকেন রাহুল-মায়াঙ্ক জুটি। প্রথম উইকেটে ৫০ রানের পার্টনার শিপও করেন দুই ওপেনার। কিন্তু পাওয়ার প্লের পরই সপ্তম ওভারে চাহলের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভেলিয়নে ফেরত যান মায়াঙ্ক আগরওয়াল। তিনি করেন ২৬ রান। মায়াঙ্ক আউট হওয়ার পর মাঠে আসেন নিকোলাস পুরাণ। দুজন মিলে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যান পঞ্জাবের ইনিংস। প্রয়োজন মত বিগ হিটও করেন তারা। ১০ ওভার শেষে পঞ্জাবের স্কোর দাঁড়ায় এক উইকেটে ৯০ রান। 

১২ তম ওভারে নিজের অর্ধশতরান পূরণ করেন কেএল রাহুল। অর্ধশতরান পূরণ করার পর রান তোলার গতিবেগ বাড়ান কেএল রাহুল। ৫৭ রানের পার্টনার শিপ করার পর ১৪ তম ওভারে শিবম দুবের বলে আউট হন নিকোলাস পূরাণ। ১৭ রান করেন তিনি। নিকোলাস পুরাণ আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। অপরদিক থেকে নিজের ইনিংস চালিয়ে যান কিংস ইলেভেন পঞ্জাব অধিনায়ক। ১৫ ওভার শেষে পঞ্জাবের স্কোর দাঁড়ায় ১২৬ রান। ১৬ তম ওভারের শুরুতেই শিবম দুবের বলে আউট হন ম্যাক্সওয়েল। ৫ রানে আউট হন তিনি।  এরপর রুদ্ররূপ ধারন করেন কেএল রাহুল। মাত্র ৬২ বলে পূরণ করেন নিজের শতরান।  ১৯ তম ওভা ডেল স্টেইনকে ২৬ রান মারেন কিংস ইলেভেন অধিনায়ক। ২০ তম ওভারেও ২৩ রান আসে। ২০ ওভার শেষে ২০৬ রান করে কিংস ইলেভেন পঞ্জাব। ৬৯ বলে ১৩২ রানের ইনিংস খেলে নটআউট থাকেন কেএল রাহুল। ১৪টি চার ও ৭টি ছয়ে সাজানো রাহুলের ইনিংস।আরসিবির সামনে টার্গেট ২০৭।

২০৭ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে কার্যত ধসে পড়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের ইনিংস। প্রথমে দেবদূত পাড়িকলকে ফেরত পাঠান শেলডন কটরেল। ২ রানে পডে প্রথম উইকেট। পাড়িকল করে ১ রান। এরপর ক্রিজে এসে খাতা না শামির বলে এলবিডব্লু আউট হন জোসুয়া ফিলিপে। এক রান করে কটরেলের শিকার হন অধিনায়ক বিরাট কোহলিও। ৪ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট পড়ে যায় আরসিবির। এরপর ইনিংসের রাশ কিছুটা ধরেন অ্যারন ফিঞ্চ ও এবি ডিভিলিয়ার্স। পাওয়র প্লে-তে আরসিবির স্কোর দাঁড়ায় ৬ ওভারে ৪০ রানে ৩ উইকেট। কিন্তুদলের ৫৩ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেট পড়ে বিরাট কোহলির দলের। রবি বিষ্ণোইয়ের বলে ব্যক্তিগত ২০ রানে বোল্ড হন অ্যারন ফিঞ্চ। এরপরই ৫৭ রানে আউট হন ডিভিলিয়ার্স। মুরগান অশ্বিনের বলে ব্যক্তিগত ২৮ রানে ক্যাচ আউট হন তিনি। ১০ ওভার শেষে ব্যাঙ্গালোরের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৬৩।

এরপর ইনিংস কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ওয়াশিংটন সুন্দর ও শিবম দুবে। কিন্তু ১৩ তম ওভারে  ম্যাক্সওয়েলের বলে বোল্ড হয়ে যান দুবে। ১২ রান করেন তিনি। ১৪ তম ওভারে সপ্তম উইকেট পড়ে আরসিবির। রবি বিষ্ণোইয়ের বলে বোল্ড হন উমেশ যাদব। ১৬ তম ওভারে আরও একটি উইকেট পড়ে আরসিবির। ৩০ রান করে রবি বিষ্ণোই বলে আউট হন ওয়াশিংটন সুন্দর। ১৭ তম ওভারে নবম উইকেট পরে আরসিবির। মুরগান অশ্বিনের বলল আউট হন নবদীপ সাইনি। ১৭তম ওভারেই শেষ উইকেট পড়ে আরসিবির। উইকেট নেন মুরগান অশ্বিন। ১০৯ রানে শেষ হয় বিরাট কোহলির দলের ইনিংস। পঞ্জাবের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন রবি বিষ্ণোই ও মুরগান অশ্বিন। ২টি উইকেট পান কটরেল ও একটি উইকেট পান মহম্মদ শামি। ৯৭ রানের বিশাল ব্যবদানে কেএল রাহুলের দলের কাছে হার শিকার করতে হয় বিরাট কোহলির আরসিবির। এই ম্যাচ বড় ব্যবধানে জয়ের ফলে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে উঠে আসল পঞ্জাব। ম্যাচের সেরা কেএল রাহুল।