আইপিএলের ডু অর ডাই ম্য়াচে রাজস্থান রয়্যালসকে ৬০ রানে হারাল কলকাতা নাইট রাইডার্স। একইসঙ্গে প্লে অফে যাওয়ার আশাও জিইয়ে রাখল ইয়ন মর্গ্যানের দল। অপরদিকে ২০২০-র আইপিএল অভিযান শেষ হল স্টিভ স্মিথের দলের। প্রথমে ব্যাট করে ১৯১ রান করে নাইটরা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন ইয়ন মর্গ্যান। ১৯২ রান চেজ করতে নেমে লাগাতার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় রাজস্থান। কেকেআরের হয়ে ৪ উইকেট নিয়ে আগুনে বোলিং করেন প্যাটি কামিন্স। অবশেষে ১৩১ রানে শেষ রাজস্থানের ইনিংস। এদিন টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই খাতা না খুলেই আউট হয়ে প্যাভেলিয়নে ফেরত যান নীতিশ রানা। জোফ্রা আর্চারের শিকার হন তিনি। এরপর ক্রিজে আসেন রাহুল ত্রিপাঠী। শুভমান গিলের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যান কেকেআরের ইনিংস।পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষে কেকেআরের স্কোর দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৫৫। পাওয়ার প্লের পরও নিজের পার্টনারশিপ চালিয়ে নিয়ে যান দুই কেকেআর তারকা। কিন্তু নবম ওভারে পর পর দুটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় কেকেআর। প্রথমে রাহুল তেওয়াটিয়ার বলে ৩৬ রান করে আউট হন শুভমান গিল। তারপর ক্রিজে নেমে খাতা না খুলেই তেওয়াটিয়ার শিকার হন সুনীল নারিন। এরপর ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ইয়ন মর্গ্যান ও রাহুল ত্রিপাঠী। ১০ ওভার শেষে কেকেআরের স্কোর দাঁড়ায় ৮৪ রানে ৩ উইকেট।

১২ তম ওভারে চতুর্থ উইকেটের পতন হয় নাইটদের। ৩৯ রান করে শ্রেয়স গোপালের বলে আউট হন রাহুল ত্রিপাঠী। ১৩ তম ওভারে খাতা না খুলেই তেওয়াটিয়ার তৃতীয় শিকার হন দীনেশ কার্তিক। এরপর ক্রিজে আসেন আন্দ্রে রাসেল। অপরদিক থেকে আক্রমণাত্বক ইনিংস চালিয়ে যান কেকেআর অধিনায়ক ইয়ন মর্গ্যান। ১৫ ওভার শেষে কেকেআরের স্কোর দাঁড়ায় ১৩২ রানে ৫ উইকেট। এদিন ঝোড়ো ইনিংস শুরু করলেও, বড় রান করতে ব্যর্থ হন আন্দ্রে রাসেল। ১৬ তম ওভারে কার্তিক ত্যাগির বলে আউট হন তিনি। ১১ বলে ২৫ রান করেন রাসেল। ১৭ ওভার শেষে কেকেআরের স্কোর দাঁড়ায় ১৫২ রানে ৬ উইকেট। বেন স্টোকসের ১৯ তম ওভারে আসে ২৪ রান। স্টোকসকে একটি বিশাল ছক্কা মারেন প্যাট কামিন্স। একই ওভারে আরও দুটি ছক্কা মেরে নিজের অর্ধশতরান পূরণ করেন কেকেআর অধিনায়ক মর্গ্যান। শেষ বলেও একটি চার মারেন মর্গ্যান। শেষ ওভারে কার্তিক ত্যাগির বলে ১৫ রান করে আউট হন প্যাট কামিন্স। ২০ তম ওভারের শেষ বলে  ছক্কা মেরে ইনিংস শেষ করেন ইয়ন মর্গ্যান। ২০ ওভারের শেষে কেকেআরের স্কোর হয় ৭ উইকেটে ১৯১ রান। ৩৫ বলে ৬৮ রানে অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন ইয়ন মর্গ্যান। রাজস্থান রয়্যালসের টার্গেট ১৯২ রান।

১৯২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় রাজস্থান রয়্যালস। প্রথম ওভারে ৬ মেরে শুরু করেন রবিন উথাপ্পা। ওভারে আরও একটি ছক্কা মারেন বেন স্টোকস। কিন্তু প্রথম ওভারের শেষ বলেই কামিন্সের শিকার হন রবিন উথাপ্পা। ৬ রান করে আউট হন তিনি। তৃতীয় ওভারে বেন স্টোকসকে প্যাভেলিয়নে ফেরত পাঠান প্যাট কামিন্স। অনবদ্য ক্যাচ ধরেন দীনেশ কার্তিক। এই ওভারের শেষ বলে রাজস্থান অধিনায়ক স্টিভ স্মিথকে বোল্ড করেন কামিন্স। চতুর্থ ওভারেও জারি থাকে রাজস্থান রয়্যালসের উইকেট পতন। শিবম মাভির বলে আউট হন ইন ফর্ম ব্যাটসম্যান সঞ্জু স্যামসন। ১ রান করেন তিনি। পঞ্চম ওভারেও আরও একটি উইকেট পড়ে রাজস্থানের। প্যাট কামিন্সের বলে খাতা না খুলেই আউট হন রিয়ান পরাগ। পাওয়ার প্লে-তে ৫ উইকেট হারিয়ে মারাত্মক চাপে পড়ে যায় রয়্যালসরা। ৬ ওভার শেষে রাজস্থাবের স্কোর দাঁড়ায় ৪১ রানে ৫ উইকেট। এরপর রাজস্থান রয়্যালসের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান জস বাটলার ও রাহুল তেওয়াটিয়া। রাহুল তেওয়াটিয়া ধীর গতিতে খেলেও, বেশ কিছু আক্রমণাত্বক শট খেলেন বাটলার। ১০ ওভার শেষে রাজস্থানেপ স্কোর দাঁড়ায় ৭৪ রানে ৫ উইকেট। 

কিন্তু ৪৩ রানের পার্টনারশিপ করার পর ১১ তম ওভারে ষষ্ঠ উইকেট পড়ে রয়্যালসের। বরুণ চক্রবর্তীর বলে আউট হন জস বাটলার। ৩৫ রান করে আউট হন তিনি। এরপর ক্রিজে আসসেন শ্রেয়স গোপাল। দুজন মিলে এগিয়ে নিয়ে যান রাজস্থানের ইনিংস। সুযোগ বুঝে বাজে বলে প্রহারও করেন তেওয়াটিয়া। কিন্তু ১৫ তম ওভারে নিজের দ্বিতীয় উইকেট পান বরুণ চক্রবর্তী। রাহুল তেওয়াটিয়াকে আউট করেন তিনি। ৩১ রান করেন তেওয়াটিয়া। ১৫ ওভার শেষে রাজস্থানের স্কোর দাঁড়ায় ১০৭ রানে ৭ উইকেট। এরপর রাজস্থানের হার নিশ্চিত হয়ে গেলেও, ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান শ্রেয়স গোপাল ও জোফ্রা আর্চার। বেশ কয়েকটি চার মারেন শ্রেয়স গোপাল। কিন্তু ১৮ তম ওভারে কমলেশ নাগোরকোটির বলে ৬ রান করে আউট হন জোফ্রা আর্চর। ১৮ ওভারের শেষে রাজস্থানের স্কোর দাঁড়ায় ১২৭ রানে ৮ উইকেট। ১৯ তম ওভারে মাভির বলে আউট হন কার্তিক ত্যাগি। ২ রান করেন তিনি। ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ১২৯ রানে ৯ উইকেট। ২০ ওভার শেষে রাজস্থানের ইনিংস শেষ হয় ১৩১ রানে ৯ উইকেটে। ৬০ রানে ম্যাচ জিতে প্লে অফের যাওয়ার আশা জিইরে রাখল নাইটরা। একইসঙ্গে  এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে আসল দু বারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা।