আইপিএলে একতরফা ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসকে ৫৭ রানে হারাল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে  ১৯৩ রান করে রোহিত শর্মার দল। অনবদ্য ৭৯ রানের ইনিংস খেলেন সূর্যকুমার যাদব। জবাবে জস বাটলার ঝোড়ো ৭০ রানের ইনিংস খেললেও, অন্য কোনও রাজস্থানের ব্যাটসম্যানরা বড় রান করতে ব্যর্থ হন। স্টিভ স্মিথের দলের ইনিংস শেষ হয় ১৩৬ রানে। সূর্যকুমার যাদবের ৭৯ রানের অনবদ্য ইনিংস। সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত রোহিত শর্মার। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে আইপিএল ২০২০-র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে  প্রথমে ব্যাট করে ১৯৩ রান করল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। এদিন টসে জিতে ব্য়াটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ওপেনিংয়ে নেমে দুরন্ত শুরু করেন মুম্বইয়ের দুই ওপেনার কুইন্টন ডিকক ও রোহিত শর্মা।কিন্তু পঞ্চম দলের ৪৯ রানে প্রথম উইকেট পড়ে মুন্বই ইন্ডিয়ান্সের।  ২৩ রান করে আউট হন কুইন্টন ডিকক। অভিষেক ম্যাচেই উইকেট  পান কার্তিক ত্যাগি। এরপর ইনিংসের এগিয়ে নিয়ে যান সূর্যকুমার যাদব ও রোহিত শর্মা জুটি। পাওয়ার প্লের পরও আক্রমণাত্বক ভঙ্গিতে ব্য়াট করতে থাকেন রোহিত শর্মা। কিন্তু দশম ওভারে শ্রেয়স গোপাললের পরপর দু বলে দুটি উইকেট পড়ে মুম্বইয়ের। প্রথমে ৩৫ রান করে আউট হন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তার পরের বলেই আউট হন ইশান কিষাণ। পরপর দুটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপ বারে মুম্বই ব্যাটসম্য়ানদের উপর। ১০ ওভার শেষে মুম্বইয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৯০ রান। 

এরপর ক্রিজে আসেন ক্রুণাল পান্ডিয়া। সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে তিনি এগিয়ে নিয়ে যান ইনিংস।তবে ১৪ ত ওভারে চতুর্থ উইকেট পড়ে মুম্বইয়ের। জোফ্রা আর্চারের বলে আউট হন ক্রুণাল পান্ডিয়া। ১২ রান করেন তিনি। এরপর ক্রিজে আসেন হার্দিক পান্ডিয়া। ১৫ ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ১২৫ রানে ৪ উইকেট। ১৫ ওভার শেষে রানের গতিবেগ বাড়ানোর চেষ্টা করেন সূর্যকুমার যাদব ও হার্দিক পান্ডিয়া জুটি। এরইমধ্যে নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন সূর্যকুমার। আক্রমণাত্বক শট খেলা শুরু করেন দুই ব্যাটসম্যান। ১৮ তম ওভারে ১৫০ রানের গণ্ডি টপকে যায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স দল। ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ১৬১ রানে ৪ উইকেট। জোফ্রা আর্চারের ১৯ তম ওভারে আসে ১৫ রান। মুম্বইয়ের স্কোর দাঁড়ায় ১৭৬ রান। শেষ ওভারেও বিধ্বংসী ব্যাটিং করেন সূর্যকুমার ও হার্দিক। অঙ্কিত রাজপুতের ওভারে আসে ১৭ রান। ২০ ওভারে ১৯৩ রান । ৭৯ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন সূর্যকুমার যাদব ও ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন হার্দিক পান্ডিয়া।

১৯৪ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় রাজস্থান রয়্যালস। কার্যত আগুনে বোললিং করেন বুমরা ও বোল্ট জুটি। প্রথম ওভারেই খাতা না খুলে ট্রেন্ট বোল্টের বলে আউট হন যশশ্বী জয়সওয়াল। দ্বিতীয় ওভারে বুমরার বলে আউট হন অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। ৬ রান করেন তিনি। তৃতীয় ওভারে খাতা না খুলেই ট্রেন্ট বোল্টের শিকার হন সঞ্জু স্যামসন। এরপরই ইনিংস কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন মাহিপল লোমর ও জস বাটলার। কিন্তু সেই পার্টনারশিপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। নবম ওভারে রাহুল চাহারের বলে আউট হন লোমর। ১১ রান করেন তিনি। অপরদিক থেকে নিজের ইনিংস চালিয়ে যান জস বাটলার। ১০ ওভার শেষে রাজস্থানের স্কোর দাঁড়ায় ৬৩ রানে ৪ উইকেট। ১১ তম ওভারে নিজের অর্ধশতরান পূরণ করেন বাটলার। মাত্র ৩৪ বলে ৫০ রান পূরণ করেন ব্রিটিশ তারকা। এরপর রানের গতিবেগ বাড়ান বাটলার। একের পর এক আক্রমণাত্বক শট খেলেন তিনি। ১৩ ওভার শেষে রাজস্থানের স্কোর দাঁড়ায় ৯৭ রানে ৪ উইকেট। কিন্তু ১৪ তম ওভারে থামেন জস বাটললার। প্যাটিনসনের বলে ৪৪ বলে ৭০ রান করে আউট হন তিনি। ১৫ তম ওভারে ১৫ রান করে আউট হন টম কুরান। পোলার্ডের বলে আউট হন তিনি। ১৫ ওভার শেষে রাজস্থানের স্কোর দাঁড়ায় ১১৩ রানে ৬ উইকেট। 

১৬ তম ওভারেও জারি থাকে রাজস্থান রয়্যালসের উইকেটের পতন। বুমরার বলো বোল্ড হয়ে যান রাহুল তেওয়াটিয়া। তিনি করেন ৫ রান। একই ওভারে শ্রেয়স গোপালকেও আউট করেন বুমরা।  ১৬ ওভার শেষে রাজস্থানের স্কোর হয় ১১৫ রানে ৮ উইকেট। ১৮ তম ওভারে আরও একটি উইকেট পড়ে রাজস্থানের। বুমরার বলে আউট হন জোফ্রা আর্চার। ১৯ তম ওভারের শুরুতেই অঙ্কিত রাজপুতকে আউট করে রাজস্থানের ইনিংস শেষ করেন জেমস প্যাটিনসন। ১৩৬ রান করে স্টিভ স্মিথের দল। মুম্বইয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট পান জশপ্রীত বুমরা। দুটি করে উইকেট পান বোল্ট ও প্যাটিনসন। একটি করে উইকেট পান পোলার্ড ও রাহুল চাহার। ৫৭ রানে ম্যাচ জিতে নেয় রোহিত শর্মার দল। এই ম্য়াচ জিতে ফের গ্রুপ টেবিের শীর্ষে পৌছে গেল  মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।