আইপিএলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ডেভিড ওয়ার্নারের সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ৩৪ রানে হারাল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। প্রথমে ব্যাট করে শারজার ছোট মাঠে ২০৮ রান করে রোহিত শর্মার দল। দলের হয়ে দুরন্ত অর্ধশতরান করেন কুইন্টন ডিকক। জবাবে রান তাড়া করতে গিয়ে ওয়ার্নারের ৬০ রান ছাড়া বড় রান করতে পারলেন না সানরাইজার্সের অন্য কোনও ব্যাটসম্যান। হায়দরাবাদের ইনিংস শেষ হয় ১৭৪ রানে। এদিন টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। কিন্তু ব্য়াট হাতে রবিবার নিরাশ করেন হিটম্যান। প্রথম ওভারেই মাত্র ৬ রান করে সন্দীপ শর্মার বলে আউট হন তিনি। এরপর ইনিংসের রাশ ধরেন কুইন্টন ডিকক ও সূর্যকুমার যাদব। শারজার ছোট মাঠে আক্রমণাত্বক মাঠে ভঙ্গিতে ব্যাট করতে থাকেন তারা। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে সিদ্ধার্থ কললের বলে আউট হন সূর্যকুমার যাদব। তিনি করেন ২৭ রান। এরপর ক্রিজে আসেন ইশান কিষাণ। দায়িত্ব সহকারে দলের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান কুইন্টন ডিককের সঙ্গে। প্রথম পাওয়ার প্লে-তে দুটি উইকেট পড়লেও দমে যাননি ডিকক। একদিক থেকে আক্রমণাত্বক ভঙ্গিতে ব্যাটিং চালিয়ে যা তিনি। তাকে যোগ্য সঙ্গত দেন তরুণ ইশান কিষাণ। তৃতীয় উইকেট অর্ধশতরানের পার্টনারশিপও করেন তারা। প্রয়োজন মত অ্যাটাকিং শটও খেললেন ইশান কিষাণ ও ডিকক। 

এরই মধ্যে নিজের হাফ সেঞ্চুরিও পূরণ করে ফেলেন ডিকক। মাত্র ৩২ বলে নিজের অর্ধশতরান পূরণ করেন প্রোটিয়া তারকা। তবে ১৪ তম ওভারে রাশিদ খানের বলে আউট হন ডিকক। ৩৯ বললে ৬৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ৪টি চার ও ৬টি ছয় মারেন ডিকক। এরপর ক্রিজে আসেন কায়রন পোলার্ড। এসেই দ্রুত গতিতে রান তেলার চেষ্টা করেন হার্দিক ও পোলার্ড জুটি।  তবে ১৬ ও ১৭ তম ওভারে আঁটোসাটো বোলিং করে সানরাইজার্স। ২ ওভারে আসে মাত্র ১২ রান। সন্দীপ শর্মার ১৮ তম ওভারে আসে ১৫ রান। নটরাজনের ১৯ তম ওভারে আসে ১৩ রান। ২০ তম ওভারে পঞ্চম উইকেট পড়ে মুম্বইয়ের। সিদ্ধার্থ কলের বলে বোল্ড হয়ে যান হার্দিক পান্ডিয়া। তিনি করেন ২৮ রান। ক্রুণাল পান্ডিয়া ৪ বলে ২০ রানের ছোট কিন্ত কার্যকরী ইনিংস খেলেন। ১৩ বলে ২৫ রানে নট আউট থাকেন পোলার্ড। ২০ ওভার শেষে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স করে ২০৮ রান। 

২০৯ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে একদিক থেকে আক্রমণাত্বক ইনিংস খেলা শুরু করেন জনি বেয়ারস্টো। অপরদিক থেকে ধরে খেলেন ডেভিডও ওয়ার্নার। তবে প্রথম উইকেটের পার্টনারশিপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি হায়দরাবাদের। পঞ্চম ওভারে প্রথম উইকেট পড়ে সানরাইজার্সের। ১৫ বলে ২৫ রান করে ট্রেন্ট বোল্টের বলে আউট হন তিনি। এরপর ইনিংসের রাশ কিছুটা ধরেন অধিনায়ক ওয়ার্নার ও মণীশ পাণ্ডে জুটি। চতুর্থ উইকেটে ৬০ রানের পার্টনারশিপ করেন তারা। কিন্তু দশম ওভারে প্যাটিনসনের শিকার হন মণীশ পাণ্ডে। ৩০ রান করে আউট হন তিনি। অপরদিক থেকে নিজের ইনিংস চালিয়ে যান ডেভিড ওয়ার্নার। নিজের হাফ সেঞ্চুরিও পুরো করেন তিনি। কিন্তু তৃতীয় উইকেটের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি মুম্বইকে। দললের ১১৬ রানের মাথায় মাত্র ৩ রান করে আউট হন কেন উইললিয়ামসন। বোল্টের শিকার হন তিনি। ১৫ তম ওভারে আরও একটি উইকেট পড়ে হায়দরাবাদের। ক্রুণাল পান্ডিয়ার বলে ৮ রান করে আউট হন প্রিয়ম গর্গ।  লাগাতার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সানরাইজার্স। ১৫ ওভার শেষ স্কোর দাঁড়ায় ১৩৯ রানে ৪ উইকেট। 

লাগাতার উইকেট পড়া ও প্রয়োজনীয় রান রেট বাড়তে থাকায় চাপ বাড়তে থাকে এক ধার থেকে দাঁড়িয়ে থাকা ওয়ার্নারের উপর। ১৬ তম ওভারে জেমস প্যাটিনসনের শিকার হন তিনিও। ৬০ রান করে আউট হন ওয়ার্নার। ওয়ার্নার আউট হওয়ার পর রানের গতিবেগ অনেকটা কমে যা হায়দরবাদের। ১৭ ওভার শেষে সানরাইজার্সের স্কোর দাঁড়ায় ১৫৮ রানে ৫ উইকেট। ১৯ তম ওভারের শুরুতেই  আরও একটি উইকেট পড়ে হায়দরাবাদের। বুমরার বলে  ২০ রান করে আউট হন আবদুল সামাদ। একই ওভারে বুমরার শিকার হন অভিষেক শর্মা। তিনি করেন ১০ রান। ১৯ ওভার শেষে হায়দরাবাদের স্কোর দাঁড়ায় ১৭২ রানে ৭ উইকেট।  শেষ ওভারে আসে মাত্র ২ রান। ফললে ১৭৪ রানেই শেষ হয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ইনিংস। ৩৪ রানে ম্যাচ জিতে নেয় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। মুম্বইয়ের হয়ে ২টি করে উইকেট পান বোল্ট, বুমরা, প্যাটিনসন জুটি ও একটি উইকেট পান ক্রুণাল পান্ডিয়া। এই ম্যাচ জয়ের ফলে লিগ টেবিলে অনেক ভাল জায়গায় পৌছে গেল রোহিত শর্মার দল।