আইপিএের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কিংস ইলেভেন পঞ্জাবকে হারিয়ে প্লে অফের লড়াই আরও জমিয়ে দিল রাজস্থান রয়্যালস। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৮৫ রান করে পঞ্জাব। ৯৯ রানের খুব ভাল ইনিংস খেলেন ক্রিস গেইল। রান তাড়া করতে নেমে ঝড়ো অর্ধশতরান করেন বেন স্টোকস। এছাড়া রান করেন সঞ্জু স্যামসম, স্টিভ স্মিথ, রবিন উথাপ্পা, জস বাটলাররা। ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় রাজস্থান রয়্যালস। এদিন টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। পঞ্জাবের হয়ে ওপেনিং করতে নামেন কেএল রাহুল ও মনদীপ সিং। কিন্তু প্রথম খাতা না খুলেই জোফ্রা আর্চারের বলে আউট হয়ে প্যাভভেলিয়নে ফেরত যান মনদীপ সিং। এরর ক্রিজে আসেন ক্রিস গেইল। অধিনায়ক কেএল রাহুলের সঙ্গে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। এদিন প্রথম থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ব্য়াট করেন ইউনিভার্স বস। অপরদিকে ঠাণ্ডা মাথায় তাকে সঙ্গে দিতে থাকেন কেএল রাহুল। পাওয়ার প্লের পর নিজেদের মধ্যে অর্ধশতরানের পার্টনারশিপও পূরণ করেন দুই তারকা ব্যাটসম্যান। ১২ ওভারের মাথায় শতরানের পার্টনারশিপ পূরণ করেন তারা। ১৩ ওভার শেষে কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের স্কোর দাঁড়ায় ১০৭ রানে ১ উইকেট। কিন্তু ১৫ তম ওভারে দ্বিতীয় উইকেট পড়ে পঞ্জাবের। বেন স্টোকসের বলে ৪৬ রান করে আউট হন কেএল রাহুল। ১৫ ওভার শেষে কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের স্কোর দাঁড়ায় ১২৩ রানে ২ উইকেট।

এরপর পঞ্জাবের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান নিকোলাস পুরান ও ক্রিস গেইল। ১৬ তম ওভারে ২টি বিশাল ছক্কা মারেন। স্কোর দাঁড়ায় ১৩৭। ১৭ তম ওবারেও একটি ছক্কা হাঁকান নিকোলাস পুরান। ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১৪৮ রান। ১৮ তম ওভারে বড় হিট করতে গিয়ে আউট হন নিকোলাস পুরান। বেন স্টোকসের বলে আউট হন তিনি। ১০ বলে ২২ রান করেন তিনি। এরপর নামেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ১৯ তম ওভারে কার্তিক ত্যাগিকে ছয় মেরে টি২০ কেরিয়ারে নিজের হাজারতম ছক্কা মারেন ক্রিস গেইল। ১৯ ওভার শেষে পঞ্জাবের স্কোর দাঁড়ায় ১৭৬ রানে ৩ উইকেট। ১৯ তম ওভারে জোফ্রা আর্চারকে একটি ছয় মারলেও, ৯৯ রানে আউট হন ক্রিস গেইল। ৬টি চার ও ৮টি ছয়ে সাজানো তার ইনিংস। ২০ ওভার  শেষে পঞ্জাবের স্কোর দাঁড়ায় ১৮৫ রানে ৪ উইকেট। 

১৮৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ঝোড়ো ইনিংস শুরু করেন রাজস্থান রয়্যালসের ওপেনার বেন স্টোকস। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন অপর ওপেনার রবিন উথাপ্পা। একের পর এক আক্রমণাত্বক শট খেলে পঞ্জাব বোলারদের সমস্যায় ফেলে দেন বেন স্টোকস। পাওয়ার প্লে ওভার পিছু দশের বেশি রান রেটে এগোতে থাকে রাজস্থানের স্কোরবোর্ড। পঞ্চম ওভারেই ৫০ রান হয়ে যায় রাজস্থানের। ষষ্ঠ ওভারে নিজের অর্ধশতরান পূরন করেন স্টোকস। মাত্র ২৪ বে অর্ধশতরান করেন তিনি। কিন্তু সেই ওভারেই আরও একটি বড় হিট করতে ক্রিস জর্ডানের বলে আউট হন স্টোকস। ৬ ওভার শেষে  রাজ্সথানের স্কোর দাঁড়ায় ৬৬ রানে ১ উইকেট। এরপর রাজস্থানের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান সঞ্জু স্যামসন ও রবিন উথাপ্পা। আক্রমণাত্বক ইনিংস খেলেন সঞ্জু। ১০ ওভার শেষে রাজস্থানের স্কোর দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১০৩ রান। ১১ তম ওভারে মুরগান অশ্বিনকে একটি ছয় মারেন উথাপ্পা। দ্বিতীয় ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে আউট হন তিনি। ৩০ রান করেন উথাপ্পা। এরপর নামেন স্টিভ স্মিথ। সঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। ১৩ তম ওভারে অশ্বিনকে একটি বিশাল ছক্কা ও চার মারেন সঞ্জু। ১৩ ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ১৩২ রানে ২ উইকেট। 

১৪ তম ওভারেও নিজেদের আক্রমণাত্বক ইনিংস বজায় রাখেন সঞ্জু স্যামসন ও স্টিভ স্মিথ জুটি। কিন্তু ১৫ তম ওভারে রান আউট হয়ে প্যাভেলিয়নে ফেরত যান সঞ্জু স্যামসন। ২৫ বলে ৪৮ রান করেন তিনি। ১৫ ওভার শেষে রাজস্থানের স্কোর দাঁড়ায় ১৪৬ রানে ৩ উইকেট। এরপর স্মিথ ও জস বাটলার মিলে রাজস্থানের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান। ১৬ তম ওভারে ১৫০ রানের গন্ডি টপকে যায় রাজস্থান। একটি বিশাল ছক্কাও হাঁকান জস বাটলার।  ১৭ তম ওভারে মহম্মদ শামিকে তিনটি চার মারেন স্টিভ স্মিথ। ১৭ ওভার শেষে রাজস্থানের স্কোর দাঁড়ায় ১৭১ রান। ১৮ তম ওভারে একটি বিশাল ছক্কা হাঁকান জস বাটলার। ১৫ বল থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌছে যায় রাজস্থান রয়্যালস। ৩১ রানে অপাজিত থাকেন স্টিভ স্মিথ ও ২২ রানে অপরাজিত থাকেন জস বাটললার। এই জয়ের ফলে প্লে অফে যাওার আশা টিকে থাকল রাজস্থানের। একইসঙ্গে মুম্বই বাদে এখনও কোনও দলই প্লে অফের টিকিট পাকা করতে না পারায় জমে গেল দিল্লি, আরসিবি, পঞ্জাব, রাজস্থান, কেকেআর, সানরাইজার্সের বাকি ম্যাচগুলির লড়াই। শেষ ল্যাপে আলাদা মাত্রা পেল আইপিএল ২০২০।