আইপিএলে ফের হার চেন্নাই সুপার কিংসের। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের কাছে ৩৭ রানে হার এমএস ধোনির দলের। প্রথমে ব্যাট করে ১৬৯ রান করে আরসিবি। দলের হয়ে অনবদ্য ৯০ রানের ইনিংস খেলেন বিরাট কোহলি। রান তাড়া করতে নেমে ক্রমাগত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় চেন্নাই। ১৩২ রানে শেষ হয় সিএসকের ইনিংস। এদিন টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আরসিবি অধিনায়ক বিরাট কোহলি। যদিও শুরুটা ভাল হয়নি তাদের। তৃতীয় ওভারেই দীপক চাহারের বলে ২ রান করে আউট হয়ে যান অ্যারন ফিঞ্চ। এরপর ক্রিজে আসেন বিরাট কোহলি। অধিনায়কের সঙ্গে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান দেবদূত পাড়িকল। আক্রমণাত্বক ইনিংস খেলা শুরু করেন বিরাট কোহলি। ধীরে খেললেও অধিনায়ককে যোগ্য সঙ্গত দেন পাড়িকল। তৃতীয় উইকেটে ৫৩ রানের পার্টনারশিপ করে বিরাট-পাড়িকল জুটি। কিন্তু ১১ তম ওভারে শার্দুল ঠাকুরের বলে আউট হন দেবদূত পাড়িকল। ৩৩ রান করেন তিনি। একই ওভারে এবি ডিভিলিয়ার্সকে ফিরিয়ে তৃতীয় ঝটকা দেন শার্দুল ঠাকুর। খাতা না খুলেই আউট হন এবিডি।

এরপর ওয়াশিংটন সুন্দরকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যান বিরাট কোহলি। কিন্তু ১৫ তম ওভারে ৯৩ রানে চতুর্থ উইকেট পড়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের। ১০ রান করে স্যাম কুরানের বলে আউট হন ওয়াশিংটন সুন্দর। এরপর ক্রিজে আসেন শিবম দুবে। এরইমধ্যে নিজের অর্ধশতরানও পূরণ করে ফেললেন বিরাট কোহলি। ১৫ ওভারের পর থেকে রানের গতিবেগ বাড়ান কোহলি-দুবে জুটি। অর্ধশতরান করার পর কার্যত বিধ্বংসী মুডে ব্যাট করতে থাকেন আরসিবি অধিনায়ক। অপরদিকে থেকেও আক্রমণাত্ব ইনিংস খেলেন শিবম দুবে। পঞ্চম উইকেটে ৭৬ রানের পার্টনারশিপ করেন বিরাট কোহলি ও শিবম দুবে। ২০ ওভার শেষে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৬৯ রান। ৫২ বলে অপারিজত ৯০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন বিরাট কোহলি। ১৪ বলে ২২ রান করে অপরাজিত থাকেন শিবম দুবে। সিএসকের টার্গেট ১৭০ রান। 

১৭০ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই পরপর দলের দুই প্রধান উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় চেন্নাই সুপার কিংস। চতুর্থ ওভারে দললের ১৯ রানের মাথায় ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে আউট ফাফ ডুপ্লেসি। ৮ রান করেন তিনি। ষষ্ঠ ওভারে দ্বিতীয় উইকেট পড়ে চেন্নাই সুপার কিংসের। ১৪ রান করে আউট হন শেন ওয়াটসন। তার উইকেটের শিকারও করেন ওয়াশিংটন সুন্দর। এরপর ইনিংসের রাশ ধরেন অম্বাতি রায়ডু ও এই ম্য়াচে অভিষেক হওয়া নারায়ণ জগদিশান। দীর গতিতে হলেও ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান দুই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। চতুর্থ উইকেটে অর্ধশতরানের পার্টনারশিপও করেন রায়ডু-জগদিশান জুটি। সেট হওয়ার পর রানের গতিবেগ বাড়ানোর চেষ্টা করেন দুই ব্যাটসম্যান। কিন্তু ১৫ তম ওভারে ৮৯ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ে সিএসকের। ৩৩ রান করে রান আউট হন জগদিশান। ১৫ ওভার শেষে সিএসকের স্কোর দাঁড়ায় ৯৬ রানে ৩ উইকেট। 

শেষ ৫ ওভারে আরসিবির জয়ের জন্য দরকার ছিল ৭৪ রান। ১৬ তম ওভারে চাহলকে একটি ছক্কা মারেন ধোনি। কিন্তু সেই দ্বিতীয় ছক্কা মারতে গিয়ে চাহলের বলে আউট হয়ে যান সিএসকে অধিনায়ক। ১৭ তম ওভারে ক্রিস মরিসের বলে আরও একটি উইকেট পড়ে সিএসকের। খাতা না খুলেই আউট হন স্যাম কুরান। ১৭ ওভার শেষে চেন্নাইয়ের স্কোর দাঁড়ায় ১০৯ রান ৫ উইকেট। ১৮ তম ওভারে আউট হন সেট ব্যাটসম্যান অম্বাতি রায়ডু। উদানার বে ৪২ রান করে আউট হন তিনি। ১৯ তম ওভারে ২টি উইকেট নেন ক্রিস মরিস। ৭ রান করে আউট হন ব্রাভো ও জাদেজা। শেষে ১৩২ রানে ৮ উইকেটে শেষ হয় সিএসকের ইনিংস। ৩৭ রানে ম্যাচ জিতে নেয় রয়্যাল চ্য়ালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গাোর। এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে আসল বিরাট কোহলির দল।