উত্তমা সরকার, জলপাইগুড়ি: মুষলধারে বৃষ্টিতে জাতীয় সড়কের উপর ধসে গিয়েছিল একটি সেতু। ভোরে বেলার আলো-আঁধারিতে তা দূর থেকে বোঝাও যাচ্ছিল না। আর এরই জেরে চলে গেল দু-দুটি প্রাণ। ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি জেলার মাল ব্লকে ৩১ নং জাতীয় সড়কের উপরে। মালেই এক জায়গায় ধস নেমেছে রেলসেতুতেও। ফলে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে রেল ও সড়ক যোগাযোগ আপাতত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।  

সোমবার রাতভর ব্য়াপক বৃষ্টিতে মাল ব্লকের বাগরাকোট এমইএস-এর কাছে জুরন্তি খোলার উপর একটি সেতু আচমকাই ধসে গিয়েছিল। মঙ্গলবার ভোরে সেখান দিয়েই কলা বোঝাই একটি পিক আপ ভ্যান নিয়ে অসমের দিকে যেতে গিয়ে মৃত্যু হল দুই ব্যক্তির। পরে পুলিশ এসে ওই দুই ব্যক্তির দেহ এবং ভাঙাচোরা পিক আপ ভ্যানটি উদ্ধার করে।

সেতুটির ঠিক মাঝখান থেকে এমনভাবে ধসে গিয়েছে, যা সামান্য দূর থেকেও ঠাহর বোঝাই যাচ্ছে না। পুলিশের অনুমান বেশ গতিতেই আসছিল পিক আপ ভ্যানটি। সেতুতে যে ধস নেমেছে, তা বুঝতে না পেরেই পিক আপ ভ্যানটি সেতুর ভেঙে পড়া অংশের ভিতরে ঢুকে যায়। দুর্ঘটনায় ভ্যানটি একেবারে দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চালক ও খালাসির।

এদিকে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কই ছিল শিলিগুড়ির সঙ্গে মাল, মেটেলি, নাগরাকাটা ও বানারহাটের যোগাযোগের প্রধান পথ। উত্তর-পূর্ব ভারতের অনেক অংশের সঙ্গে বাকি ভারতের যোগাযোগও হয় এই পথেই। মাল ব্লকে জুরন্তি খোলার সেতুটি ভেঙে যাওয়ায়, এই জায়গাগুলির আপাতত পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।

অন্যদিকে মাল ব্লকেরই ওয়াশাবাড়ি-র কাছে লীস নদীর জলের তোড়ে ডুয়ার্স থেকে এনজেপি এবং অসমগামী ৭৯ নম্বর রেলসেতুর কিছু অংশ ভেঙ্গে গিয়ে সেতুটি ঝুলে পড়েছে। রেললাইনের কিছু অংশের মাটি, কংক্রিটের বাঁধাই জলের তোড়ে ধুয়ে গিয়েছে। ফলে বন্ধ হয়ে গিয়েছে রেল যোগাযোগও ।