গত কয়েক মাস ধরে বেতন পাচ্ছিলেন না তিনি। অভাবের তাড়নায় শেষপর্যন্ত কলেজেরই একটি ঘরে আত্মহত্যা করলেন এক অস্থায়ী অধ্যাপক। ঘটনার প্রতিবাদে অধ্যক্ষ ঘেরাও চলল বিক্ষোভ। চাঞ্চল্য ছড়াল জলপাইগুড়িতে।

আরও পড়ুন: গাড়ির ধাক্কায় উচ্চ মাধ্যমিক ছাত্রীর মৃত্যু, শোকের ছায়া মহিষাদলে

মৃতের নাম অভ্রজ্যোতি বিশ্বাস। বারো বছর ধরে জলপাইগুড়ি আইটিআই কলেজে অস্থায়ী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। রোজকার মতোই বৃহস্পতিবার সকালেও কলেজে এসেছিলেন অভ্রজ্যোতি। এরপর আচমকাই সকলের নজর এড়িয়ে একটি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। কলেজের অন্য অধ্যাপকরা যখন টের পান, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে অভ্রজ্যোতিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ঘটনাটি জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে জলপাইগুড়ি আইটিআই কলেজে। অধ্যক্ষ ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন অধ্যাপকরা। বিক্ষোভ চলে ঘণ্টা দুয়েক। শেষপর্যন্ত পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার ময়নাতদন্তে পাঠায়।

আরও পড়ুন: মদ্যপ অবস্থায় মহিলাদের 'কটুক্তি', যুবককে গণধোলাই স্থানীয় বাসিন্দাদের

মৃতের সহকর্মীদের দাবি, অধ্যক্ষের নির্দেশে রোজই কলেজে আসতে হত অভ্রজ্যোতিকে, ছুটি পেতেন না তিনি। শুধু তাই নয়, কোনও কারণে কলেজে আসতে না পারলে, বেতন থেকে নাকি ২০০ টাকা করে কেটে নেওয়া হত! তার উপর প্রায় চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছিলেন না ওই অধ্যাপক। ফলে চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছিলেন তিনি। সেই কারণে আত্মহত্যা করেছেন অভ্রজ্যোতি। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করেছে বলে জানা গিয়েছে।