মেধার জোরে শহরের নামী স্কুলে পড়ার সুযোগ পেয়েছে ছেলে। কিন্তু তাকে স্কুলের পরে যাওয়ার জন্য জুতো কিনে দেওয়ার সামর্থ্য নেই বাবা-মায়ের! স্রেফ এই অপরাধেই সপ্তম শ্রেণির ছাত্রকে স্কুলের বের করে দিলেন প্রধান শিক্ষক! অভিযোগ তেমনই। ঘটনার শোরগোল পড়েছে জলপাইগুড়িতে। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ওই ছাত্রের পরিবারের লোকেরা থানায় অভিযোগ করেননি বলে জানা গিয়েছে।

জলপাইগুড়ি শহরের অন্যতম নামী সরকারি স্কুল ফণীন্দ্রদেব বিদ্যালয়। এই স্কুলেরই সপ্তম শ্রেণির ছাত্র দেবাংশু স্যানাল। পরিবারের আর্থিক অবস্থায় একেবারেই ভালো নয়। শহরের রাস্তায় টোটো চালিয়ে দেবাংশুর বাবা সামান্য আয় করেন, তা দিয়েই কোনওমতে সংসার চলে। শুধু তাই নয়, পরিবারটি রীতিমতো ঋণগ্রস্থ বলেও জানা গিয়েছে। ওই ছাত্রের মায়ের বক্তব্য, দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে সংসার চালাতে হয়। তাই ছেলেকে স্কুলের জুতো কিনে দিতে পারেননি। কিন্তু তারজন্য যে এমন ঘটনা ঘটবে, তা কে জানত!

জানা গিয়েছে, শু বা বুট নয়, দু'দিন সাধারণ জুতো পরেই স্কুলে গিয়েছিল দেবাংশু। কিন্তু ক্লাস করতে পারেনি সে। পায়ে জুতো না থাকায় ফনীন্দ্রদেব বিদ্যালয়ের ছাত্রটিকে প্রধান শিক্ষক প্রকাশ কুণ্জুই স্কুল থেকে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনাটি জানাজানি হতেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে জলপাইগুড়িতে।  বুধবার সকালে স্কুলে যান স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি নব্যেন্দু মৌলিক।  প্রধানশিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন তিনি।  দেবাংশুর বাড়ির লোকের দাবি, পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার কথা স্কুল কর্তৃপক্ষে জানিয়েও রেখেছিলেন তাঁরা। তাহলে এমন ঘটনা ঘটল কী করে? জলপাইগুড়ির ফনীন্দ্রদেব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রকাশ কুণ্ডুর সাফাই, ছাত্রের অসুবিধার কথা নাকি তিনি জানতেন না!