ভাঙাচোরা বাড়ি। শৌচালয়ের জন্য় দ্বারস্থ হতে হয় প্রতিবেশীদের। সংসারের এই অবস্থা থেকে জীবনের  ওজন বয়ে বেড়াচ্ছেন শুভার্থী মাহাতো। সম্প্রতি শিলিগুড়িতে  ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতায় সেরার সেরা হয়েছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই জলপাইগুড়ির মেয়ের এই সাফল্যে সবার মুখেই এক কথা, 'এভাবেও উঠে আসা যায়'।  

দীর্ঘ অধ্যাবসায়ের ফসল। অবশেষে এল সেই সম্মান। উত্তরবঙ্গের ভারোত্তোলন প্রতিযোগীতায় 'মাস্টার অফ মাস্টার্স' সম্মান পেলেন জলপাইগুড়ির আনন্দপাড়ার বাসিন্দা শুভার্থী। শিলিগুড়িতে আয়োজিত দার্জিলিং পাওয়ার লিফটিং অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত নর্থ বেঙ্গল পাওয়ার লিফটিং প্রতিযোগিতায় সফল হয়েছেন শুভার্থী সহ জেলার মোট ৭ প্রতিযোগী। 

আয়োজকদের  তরফে জানা গেছে, শুভার্থীর বাবা গৃহশিক্ষক,মা আইসিডিএস কর্মী। দাদা কলেজে তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।শুভার্থী নিজে জলপাইগুড়ি আনন্দচন্দ্র কলেজে শারীর শিক্ষার দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। মূলত, অ্যাথলেটিক্স নিয়ে জলপাইগুড়ি  বিশ্ব বাংলা ক্রীড়াঙ্গনে সাই-এর ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন শুভার্থী।কিন্তু জলপাইগুড়িতে আমেরিকান হেলথ ক্লাবে পাওয়ার লিফটিংয়ে চর্চা করতে করতেই কোচ বাসুদেব দাসের পরামর্শে প্রতিযোগিতায় গিয়ে সফল হন। বিভিন্ন বিভাগে সফল হয়ে শুভার্থী প্রতিযোগিতায় 'মাস্টার অফ মাস্টার্স' সম্মান পেয়েছেন। শুভার্থী জানিয়েছেন, এই সম্মান তাঁকে অনেক উৎসাহ জুগিয়েছে। আগামী দিনে এই খেলাতেই আরও  এগিয়ে যেতে চান তিনি।

ছাত্রীর বিষেয়ে জলপাইগুড়ি দলের কোচ বাসুদেব দাস জানান, শুভার্থীর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। কিন্তু এই নিষ্ঠা ওকে সফল করেছে। আমাদের জেলা থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৮ জনের  মধ্যে ৭ জনই বিভিন্ন বিভাগে সোনা,রুপা,ব্রোঞ্জ পেয়েছে।

সবার এই সাফল্যে আমেরিকান হেলথ ক্লাবের সদস্য চন্দন ভৌমিক বলেন, আমরা চেষ্টা করছি জলপাইগুড়িতে পাওয়ার লিফটিং অ্যাসোসিয়েশন খোলার। শুভার্থীর মতো দুঃস্থ পরিবার থেকে উঠে আসা মেয়েদের পাশে আমরা সবসময় আছি। পুরসভাকে বা প্রশাসনকে বলেছি, যাতে শুভার্থীদের বাড়িতে ভালো শৌচালয় তৈরি করে দিতে দেরি না হয়।